গণঅভ্যুত্থানের নেতা নুরুল হক নুর দাবি: “গণঅভ্যুত্থানের সরকারই কি নেতাদের জন্য মৃত্যু ফাঁদ তৈরি করছে?” — তদন্ত প্রতিবেদন বিঘœন্ন, নির্দেশনা জরুরি.. | আই নিউজ বিডি | বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ ও ভিডিও

গণঅভ্যুত্থানের নেতা নুরুল হক নুর দাবি: “গণঅভ্যুত্থানের সরকারই কি নেতাদের জন্য মৃত্যু ফাঁদ তৈরি করছে?” — তদন্ত প্রতিবেদন বিঘœন্ন, নির্দেশনা জরুরি..

আই নিউজ বিডি ডেস্ক  avatar   
আই নিউজ বিডি ডেস্ক
গণঅভ্যুত্থানের নেতা নুরুল হক নুর দাবি: “গণঅভ্যুত্থানের সরকারই কি নেতাদের জন্য মৃত্যু ফাঁদ তৈরি করছে?” — তদন্ত প্রতিবেদন বিঘœন্ন, নির্দেশনা জরুরি..
গণঅভ্যুত্থানের নেতা নুরুল হক নুর দাবি: “গণঅভ্যুত্থানের সরকারই কি নেতাদের জন্য মৃত্যু ফাঁদ তৈরি করছে?” — তদন্ত প্রতিবেদন বিঘœন্ন, নির্দেশনা জরুরি..
ছবি: সংগৃহীত
Nurul Haque Nur, president of Ganadhikar Parishad and former DU CUS vice president, alleges coordinated attacks and attempted assassinations against movement leaders and criticizes the interim probe c..

গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি ও ডাকসু সাবেক ভিপি নুরুল হক নুর দাবি করেছেন যে গণঅভ্যুত্থানের নেতাদের বিরুদ্ধে পরিকল্পিত হামলা ও হত্যাচেষ্টা করা হচ্ছে; ২৯ আগস্টের ঘটনাসহ একাধিক ঘটনার তদন্তে সরকারের নিযুক্ত কমিশন ভূমিকা নেয়নি বলে তিনি আক্ষেপ করেছেন।

গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সাবেক ভিপি নুরুল হক নুর বলেছেন, গণঅভ্যুত্থানের নেতৃত্বে থাকা নেতাকর্মীদের ওপর একের পর এক হামলা-হত্যাচেষ্টা পরিকল্পিতভাবে আনা হচ্ছে। নুরের বরাত দিয়ে গতকাল রাতেই তার ফেসবুক পেজ এবং আইডি থেকে প্রকাশিত একটি বিবৃতিতে তিনি এ উদ্বেগ প্রকাশ করেন। ওই পোস্টে দাবি করা হয় যে ২৯ আগস্ট গণঅধিকার পরিষদের কার্যলয়ের সামনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কিছু সদস্যের ‘অতর্কিত’ হামলায় ভিপি নুরসহ অর্ধশতাধিক নেতা-কর্মী গুরুতর আহত হন এবং ঘটনাটি হাসিনাপন্থী একচেটিয়া পরিকল্পনার অংশ ছিলো — যেখানে কয়েকজন সেনা কর্মকর্তার সংশ্লিষ্টতার কথা বলা হয়েছে।

নুরের পোস্টে বলা হয়েছে, তাদের উদ্দেশ্য ছিলো ‘লাশ ফেলে দেশকে অস্থিতিশীল করা’ এবং ওই ঘটনায় ভিপি নুরকে টার্গেট করা ছিল। তিনি আশ্চর্য প্রকাশ করে উল্লেখ করেছেন যে ঘটনার ১৯ দিন পেরিয়ে গেলেও সরকারের গঠিত তদন্ত কমিশনের কোনো অগ্রগতি দেখা যায়নি এবং প্রতিবেদনের বিষয়ে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়ায় তিনি গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।

নুর পোস্টে আরও উল্লেখ করেন, গণঅভ্যুত্থানের আরেক নেতা ও সরকারের তথ্য উপদেষ্টা মাহফুজ আলমের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যে পৃথকভাবে দুই দফা হামলার ঘটনার কথা। তিনি বলেন, এই ধরনের আন্তর্জাতিক সংঘটিত হামলার পরও সরকারের প্রতিক্রিয়া সেভাবে ‘সিরিয়াস’ দেখা যায়নি। একই ধারাবাহিকতায় নুর গোপালগঞ্জে প্রশাসনের নাকের ডগায় এনসিপি নেতা-কর্মীদের ওপর হামলার ঘটনাও স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন এবং প্রশ্ন তুলেছেন, এসব ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও প্রশাসনের দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তাদের ব্যর্থতা কি স্পষ্ট নয় এবং কেন এসব ঘটনার পরে কাউকে কাউকে প্রতিকারমূলক বা শাস্তিমূলক পদক্ষেপের আওতায় আনা হয়নি।

নুর আরও লিখেছেন, “এ সরকার আসলে চালায় কে? কোথা থেকে এসব প্ল্যান হয়?” তিনি সন্দেহ প্রকাশ করে প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়েছেন যে কি গণঅভ্যুত্থানের সরকারই আসলে তাদের নিজেদের নেতাদের জন্য একের পর এক মৃত্যু ফাঁদ তৈরি করছে — এমনকি তিনি দাবি করেছেন যে পরিকল্পনাগুলো সেনা কর্মকর্তাদের সহায়তায় প্রণীত হতে পারে। নুর প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে ‘ফ্যাসিবাদ মুক্ত’ করার দাবি জানান এবং অন্তর্বর্তী সরকারকে হুশিয়ারি দিয়েছেন যে ভিপি নুরের বিরুদ্ধে হত্যাচেষ্টা যারা চালিয়েছেন তাদের বিরুদ্ধে দ্রুত শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

নুর তার পোস্টে আরও সতর্ক করেছেন যে ভিপি নুর শুধু গণঅধিকার পরিষদের নেতা নন; তিনি তরুণ-পুরোনো কোটি মানুষের আবেগ ও ভালোবাসার প্রতীক। তাই নুর সম্পর্কে গড়িমসি করলে ঐ জনতাও তেমনভাবে উত্তর দেবে না — এমন সঙ্কেত দিয়েছেন তিনি। তিনি দাবি করেন যে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মধ্যে থাকা যারা তিনি ‘ফ্যাসিবাদের দোসর’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না হলে দেশের প্রশাসনিক কর্মকাণ্ডে মানুষের আস্থাহীনতা আরও বাড়বে এবং রাজনৈতিক অস্থিরতার ঝুঁকি বেড়ে যাবে।

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন, নুরের এ ধরনের অভিযোগ একটি গুরুত্ব বহন করে কারণ এ ধরনের দাবিতে তদন্ত, স্বচ্ছতা ও তৎপরতা না থাকলে তা সাধারণ মানুষের মধ্যে যে উদ্বেগ ছড়িয়ে দেয়, তা দেশীয় রাজনীতি ও সামাজিক স্থিতিশীলতার জন্য সহায়ক নয়। তদন্ত যেন নিরপে ক্ষ, স্বাধীন ও সময়োপযোগী হয় — সেটাই বলে দেয়া প্রয়োজন। নুরের কথায়, যদি তদন্তের ফলাফল গোপন করা হয় বা বিলম্বিত হয়, তা হলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উপর মানুষের আস্থাশূন্যতা জন্মাবে এবং আবারও সন্দেহের যদি জাল ছড়িয়ে পড়ে, তাহলে রাজনৈতিক উত্তেজনা নতুন করে সৃষ্টির সম্ভাবনা থাকবে।

অন্যদিকে, প্রশাসন ও নিরাপত্তা সংস্থার কোনো অফিসিয়াল প্রতিক্রিয়া এখনও পাওয়া যায়নি। সরকারের সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে—এ ধরনের অভিযোগের মোকাবেলায় সরকার সাধারণত তদন্ত কমিটি গঠন করে এবং প্রয়োজনে রায়কেই সামনে এনে থাকে; তবে নুরের পক্ষ থেকে উত্থাপিত সেনা কর্মকর্তাদের সংশ্লিষ্টতার প্রশ্নটি যদি সত্যি প্রমাণিত হয়, তাহলে বিষয়টি সামরিক শৃঙ্খলা ও সাংবিধানিক নিয়ন্ত্রণের আলোচনার ক্ষেত্রেও পড়বে।

আইনপ্রণীত বিশেষজ্ঞরা বলছেন, রাজনৈতিক নেতৃত্ব বা প্রশাসন যে কোনও তকমার বিরুদ্ধে অভিযোগ আসলে সেটি সুনির্দিষ্ট প্রক্রিয়া মেনেই তদন্ত করা উচিত। দ্রুত এবং স্বচ্ছ তদন্ত প্রতিবেদন জনগণের মধ্যে আস্থার পুনঃস্থাপনে সহায়ক হবে। নুরের ঘোষণার পর ফেসবুক, টেকসই সংবাদমাধ্যম এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক পর্যায় থেকে বিষয়টি নিয়ে তীব্র আলোচনা শুরু হয়েছে — যেখানে অনেকে নুরের নিরাপত্তা নিশ্চিতে সরকারের দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানাচ্ছেন, আবার অনেকে এই ঘটনার রাজনৈতিক ব্যাখ্যা তুলে ধরছেন।

নাগরিক অধিকার সংগঠনগুলোও অভিযোগগুলো নজরদারিতে রাখা উচিত বলে মত দিয়েছে। তারা মনে করে, নির্বাহী ক্ষমতার অপব্যবহার বা তত্ত্বীয় রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে নিরাপত্তা বাহিনীর কোন দপ্তরের আশ্রয় নিলে, তা দেশীয় গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার ক্ষতি করবে। তাই তারা সুস্পষ্ট, স্বাধীন ও বিশ্বস্ত তদন্ত দাবি করছে যাতে ঘটনার প্রকৃত সত্য দ্রুত উদঘাটিত হয় এবং দোষীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা যায়।

অবশেষে, নুরের এ ঘোষণার ফলে রাজনৈতিক অঙ্গনে উত্তেজনা বাড়লেও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া অব্যাহত রাখতে এবং সাধারণ নাগরিকদের নিরাপত্তা রক্ষায় স্থির, স্বচ্ছ ও সময়োচিত সমাধানই অপরিহার্য দাবি রাজনৈতিক পর্যবেক্ষক ও নাগরিক অধিকারকারীদের। সরকারের ওপর এখন দুইটি বড় চ্যালেঞ্জ — এক, ন্যায়বিচারের নিশ্চিতকরণ এবং দুই, নিরাপত্তা বাহিনী ও প্রশাসনে বিনাশক্ত ও সুশৃঙ্খল পরিবেশ গঠন করে জনগণের আস্থা পুনরুদ্ধার।

কোন মন্তব্য পাওয়া যায়নি


News Card Generator