‘দেশের যে পরিস্থিতি, ভালো থাকুক বাংলাদেশ’—আদালতে ব্যারিস্টার সুমনের আবেগঘন মন্তব্যে চাঞ্চল্য.. | আই নিউজ বিডি | বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ ও ভিডিও

‘দেশের যে পরিস্থিতি, ভালো থাকুক বাংলাদেশ’—আদালতে ব্যারিস্টার সুমনের আবেগঘন মন্তব্যে চাঞ্চল্য..

আই নিউজ বিডি ডেস্ক  avatar   
আই নিউজ বিডি ডেস্ক
‘দেশের যে পরিস্থিতি, ভালো থাকুক বাংলাদেশ’—আদালতে ব্যারিস্টার সুমনের আবেগঘন মন্তব্যে চাঞ্চল্য..
‘দেশের যে পরিস্থিতি, ভালো থাকুক বাংলাদেশ’—আদালতে ব্যারিস্টার সুমনের আবেগঘন মন্তব্যে চাঞ্চল্য..
ছবি: সংগৃহীত
Former MP Barrister Syedul Haque Sumon, presented before the Dhaka court in a July movement murder case, emotionally stated: “Considering the country’s situation, may Bangladesh remain well.”

আদালতে হাজির হয়ে ব্যারিস্টার সায়েদুল হক সুমন আবেগঘন কণ্ঠে বলেন, “দেশের যে পরিস্থিতি, ভালো থাকুক বাংলাদেশ।” জুলাই আন্দোলন কেন্দ্রিক হত্যামামলায় তাকে নতুন করে গ্রেফতার দেখানো হয়।

দেশের যে পরিস্থিতি, ভালো থাকুক বাংলাদেশ’—এই আবেগঘন মন্তব্য করে আদালতে আলোচনার ঝড় তুললেন সাবেক সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার সায়েদুল হক সুমন। বুধবার (১৭ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে তাকে কারাগার থেকে নতুন মামলায় গ্রেফতার দেখানোর জন্য ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আরিফুর রহমানের আদালতে হাজির করা হয়। হাজিরের সময় তিনি বারবার একই বাক্য উচ্চারণ করতে থাকেন। আদালতকক্ষে উপস্থিত আইনজীবী ও সাংবাদিকরা তার এমন মন্তব্যে দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।

এদিন জুলাই আন্দোলনকেন্দ্রিক যাত্রাবাড়ী থানার শ্রমিক মো. রিয়াজ হত্যার মামলায় ব্যারিস্টার সুমনকে গ্রেফতার দেখানোর আবেদন করেন তদন্ত কর্মকর্তা। আদালত সেই আবেদন মঞ্জুর করেন। শুধু সুমনই নন, এ মামলায় আরও কয়েকজন প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তিকেও গ্রেফতার দেখানো হয়েছে। তাদের মধ্যে রয়েছেন সাবেক মন্ত্রী আমির হোসেন আমু, সাবেক তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু, বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন, আইনমন্ত্রী আনিসুল হক, কৃষিমন্ত্রী আব্দুর রাজ্জাক এবং যাত্রাবাড়ী-৫ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য কাজী মনিরুল ইসলাম মনু।

শুনানির সময় ঘটে আরেকটি উল্লেখযোগ্য ঘটনা। সাবেক মন্ত্রী আমির হোসেন আমুর জন্য তার আইনজীবী অ্যাডভোকেট মহসিন রেজা আদালতে স্যান্ডউইচ ও ড্রাই ফুড নিয়ে আসেন। তিনি আদালতের কাছে আবেদন করেন যাতে এই খাবার আসামিকে দেওয়া যায়। কারণ, তার ভাষ্য অনুযায়ী, আমির হোসেন আমুকে এক ঘণ্টা পর পর খাবার খেতে হয় এবং স্বাস্থ্যগত কারণে তার বিশেষ যত্ন প্রয়োজন।

তবে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী, ঢাকা মহানগর পাবলিক প্রসিকিউটর ওমর ফারুক ফারুকী, এ আবেদনের বিরোধিতা করেন। দীর্ঘ শুনানির পর আদালত আবেদনটি নাকচ করেন এবং খাবার দেওয়ার অনুমতি দেননি।

অ্যাডভোকেট মহসিন রেজা সাংবাদিকদের বলেন, “আমার মক্কেল একজন প্রবীণ ব্যক্তি, তিনি নানা ধরনের অসুখে ভুগছেন। তাই তার জন্য খাবারের বিশেষ ব্যবস্থা করতে হয়। আমি স্যান্ডউইচ ও শুকনো খাবার নিয়ে আসি যাতে তিনি সময়মতো খেতে পারেন। কিন্তু আদালত সে অনুমতি দেননি।

মামলার এজাহার অনুযায়ী, গত ৫ আগস্ট জুলাই অভ্যুত্থানের শেষ দিনে যাত্রাবাড়ী থানার সামনে সংঘর্ষের সময় গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন শ্রমিক মো. রিয়াজ। ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। পরবর্তীতে এ ঘটনায় হত্যা মামলা দায়ের করা হয় এবং তদন্তে রাজনৈতিক প্রভাবশালী ব্যক্তিদের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ ওঠে।

আইনজীবী মহল মনে করছে, মামলাটি আগামী দিনে আরও আলোচনার জন্ম দেবে। বিশেষ করে ব্যারিস্টার সায়েদুল হক সুমনের আদালতে দেওয়া মন্তব্য, “দেশের যে পরিস্থিতি, ভালো থাকুক বাংলাদেশ”—তা রাজনৈতিক অঙ্গনেও আলোচনার জন্ম দিয়েছে। অনেকের মতে, এটি কেবল একজন আসামির বক্তব্য নয়, বরং দেশের সার্বিক অস্থিতিশীল রাজনৈতিক পরিস্থিতির প্রতিচ্ছবি।

অন্যদিকে, সরকারপক্ষ বলছে, মামলার তদন্ত সঠিকভাবেই চলছে এবং অপরাধীদের বিচার নিশ্চিত করা হবে। তবে বিরোধী মহলের দাবি, রাজনৈতিক প্রতিহিংসার জেরে অনেককে টার্গেট করা হচ্ছে।

ঢাকার আদালতের এদিনের কার্যক্রম তাই শুধু একটি মামলার শুনানি নয়; বরং দেশের রাজনৈতিক আবহ, বিচারব্যবস্থার জটিলতা এবং সামাজিক আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।

কোন মন্তব্য পাওয়া যায়নি


News Card Generator