চার দশক পর গলাচিপা হত্যা মামলার প্রধান আসামি হারুন হাওলাদার গ্রেপ্তার.. | আই নিউজ বিডি | বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ ও ভিডিও

চার দশক পর গলাচিপা হত্যা মামলার প্রধান আসামি হারুন হাওলাদার গ্রেপ্তার..

MD MEHEDI MRIDHA avatar   
MD MEHEDI MRIDHA
চার দশক পর গলাচিপা হত্যা মামলার প্রধান আসামি হারুন হাওলাদার গ্রেপ্তার..
চার দশক পর গলাচিপা হত্যা মামলার প্রধান আসামি হারুন হাওলাদার গ্রেপ্তার..
ছবি: সংগৃহীত
দীর্ঘ ৩৮ বছর পলাতক থাকার পর গলাচিপার দেবু শিকারী হত্যা মামলার প্রধান আসামি হারুন হাওলাদারকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।..

পটুয়াখালী জেলার গলাচিপা উপজেলায় ১৯৮৮ সালের একটি আলোচিত হত্যা মামলার প্রধান আসামি মো. হারুন হাওলাদারকে (৬৫) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। দীর্ঘ ৩৮ বছর পলাতক থাকার পর গলাচিপা থানা পুলিশ বিশেষ অভিযানে তাকে ঢাকার লালবাগ এলাকার রোকেয়া কুঞ্জু কমিউনিটি সেন্টার থেকে গ্রেপ্তার করে। এই গ্রেপ্তারের ফলে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে, কারণ দীর্ঘদিন ধরে তিনি আইনের আওতার বাইরে ছিলেন।

 

গলাচিপা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আশাদুর রহমান গণমাধ্যমকে জানান, দেবু শিকারী হত্যা মামলার অন্যতম আসামি হারুন হাওলাদার আদালতের নজরদারিতে ছিলেন। অবশেষে পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে আদালতে সোপর্দ করেছে। শুক্রবার বিকেলে আদালতের নির্দেশে তাকে পটুয়াখালী জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।

 

থানা-পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ১৯৮৮ সালের ১৭ জুন গলাচিপা উপজেলার ডাকুয়া ইউনিয়নের চত্রা গ্রামে দেবেন্দ্র শিকারীকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। নিহতের মেয়ে কল্পনা শিকারী বাদী হয়ে এ ঘটনায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলার দীর্ঘ শুনানি শেষে স্থানীয় ছত্তার হাওলাদারের ছেলে হারুন হাওলাদারকে যাবজ্জীবন সাজা দেওয়া হয়।

 

হারুন হাওলাদার এতদিন ধরে গা-ঢাকা দিয়ে পলাতক জীবন যাপন করছিলেন। মামলার তিনজন আসামির মধ্যে তিনিই জীবিত ছিলেন এবং অবশেষে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানে ধরা পড়লেন।

 

তবে গ্রেপ্তারের পর হারুন হাওলাদার দাবি করেছেন, দেবু শিকারীর বাড়িতে নানারকম অসামাজিক কর্মকাণ্ড চলত এবং প্রতিবাদ করায় তাকে ষড়যন্ত্রমূলকভাবে এ মামলায় আসামি করা হয়েছে। পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আদালতের রায়ে দোষী সাব্যস্ত হওয়ায় তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

 

এই দীর্ঘ বিচার প্রক্রিয়া এবং হারুন হাওলাদারের পলাতক জীবন সমাজের বিচার ব্যবস্থা এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর চ্যালেঞ্জগুলোকে সামনে নিয়ে এসেছে। এ ধরনের ঘটনা বিচার প্রক্রিয়ার গতি এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দক্ষতার বিষয়ে প্রশ্ন তুলেছে। তাছাড়া, দীর্ঘদিন পলাতক থাকা আসামিকে গ্রেপ্তার করার মাধ্যমে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিয়েছে যে, কোন অপরাধই অপরাধীকে চিরকাল আড়াল করতে পারে না।

 

এই গ্রেপ্তারি ঘটনাটি ভবিষ্যতে সমাজে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। হারুন হাওলাদারের গ্রেপ্তারি প্রক্রিয়া এবং তার পরবর্তী আইনি কার্যক্রম সমাজে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে বলে আশা করা যায়।

Комментариев нет


News Card Generator