পৌরসভা বনাম ট্রাফিক পুলিশ—দায় এড়ানোর খেলায় ভোগান্তিতে কুষ্টিয়াবাসী.. | আই নিউজ বিডি | বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ ও ভিডিও

পৌরসভা বনাম ট্রাফিক পুলিশ—দায় এড়ানোর খেলায় ভোগান্তিতে কুষ্টিয়াবাসী..

Badsha Alamgir avatar   
Badsha Alamgir
পৌরসভা বনাম ট্রাফিক পুলিশ—দায় এড়ানোর খেলায় ভোগান্তিতে কুষ্টিয়াবাসী..
পৌরসভা বনাম ট্রাফিক পুলিশ—দায় এড়ানোর খেলায় ভোগান্তিতে কুষ্টিয়াবাসী..
ছবি: সংগৃহীত
কুষ্টিয়া শহর আজ যেন অটোরিকশার নগরী। শহরের প্রতিটি মোড়, গলি, বাজারমুখী সড়ক—সবখানেই ব্যাটারি চালিত অটোরিকশার দাপট।..

হাঁটার জন্য নির্ধারিত ফুটপাতও ব্যবসায়ীদের দখলে, ফলে পথচারীদের চলাচল এখন হয়ে উঠেছে ঝুঁকিপূর্ণ। যানজট যেন নিত্যদিনের দুঃস্বপ্নে পরিণত হয়েছে কুষ্টিয়াবাসীর জন্য।

শহরের প্রাণকেন্দ্র মজমপুরে চিত্রটা সবচেয়ে বেশি ভয়াবহ। এখান থেকেই ছেড়ে যায় দূরপাল্লার বাস, তার ওপর মজমপুর রেলগেট—প্রতিদিন সৃষ্টি করছে দীর্ঘ যানজট। আগাইউসুফ মার্কেট ও ট্রাফিক সিগন্যালের পাশ ঘেঁষেই সারাদিন গড়ে প্রায় ৫০টির মতো অটোরিকশা পার্কিং করে রাখা হয়। একটির যাত্রী নামলে আরেকটি এসে দাঁড়ায়, যেনো স্থায়ী দখলদারি চলছে। অথচ ঠিক সামনেই রয়েছে ট্রাফিক পুলিশের বক্স।

এ বিষয়ে কুষ্টিয়া ট্রাফিক বিভাগের টিআই ওয়ান শাহাদাত হোসেন বলেন—“মজমপুরে যানজটের মূল কারণ রেলগেট ও ফুটপাত দখল। আর অটো পার্কিংয়ের বিষয়টি পৌরসভার দায়িত্ব। তারা চাইলে আমরা সহযোগিতা করতে পারি, তবে সরাসরি ব্যবস্থা নেওয়া আমাদের পক্ষে কঠিন। তবুও যানজট সৃষ্টি হলে আমি অবৈধ অটোরিকশার সিট খুলে রাখি, বর্তমানে অফিসে ৬০-৭০টি সিট পড়ে আছে। অন্যদিকে পৌরসভা বলছে, দায়িত্ব ট্রাফিক পুলিশের।

বাস্তবে দেখা যাচ্ছে, লাইসেন্স ছাড়া অসংখ্য অটোরিকশা দিনরাত শহরের রাস্তায় ছুটছে। এক বছরের জন্য ভ্যাট-ট্যাক্সসহ ট্রেড লাইসেন্স নিলেও, তার সংখ্যা তুলনায় নগণ্য। ফলে বৈধ রিকশার চেয়ে বহুগুণ বেশি চলছে অবৈধ যান।

সরেজমিনে দেখা গেছে—মজমপুর থেকে এনএস রোড হয়ে বড়বাজার, থানামোড় থেকে মোল্লাতেঘরিয়া, আর পলিটেকনিক থেকে কলেজমোড় হয়ে সাদ্দামবাজার পর্যন্ত যানজট সবচেয়ে বেশি। মাত্র পাঁচ কিলোমিটার এলাকায় দিনে-রাতে দুই হাজারেরও বেশি অটোরিকশা চলাচল করছে। কলেজ মোড়, হাসপাতাল মোড় ও কোর্টস্টেশন এলাকায় সকাল-বিকেল ঘন্টার পর ঘন্টা আটকে থাকে হাজারো মানুষ।

এদিকে কুষ্টিয়া শহরবাসী বলছেন, ট্রাফিক আইন সম্পর্কে চালকদের কোনো ধারণাই নেই। হঠাৎ ডানে-বামে মোড় নেয়ায় দুর্ঘটনা ঘটছে প্রতিনিয়ত। তার ওপর সিএনজি চালকরা রান্নার এলপি গ্যাস ব্যবহার করছে, যেকোনো মুহূর্তে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।

সচেতন মহলের দাবি—ভোটের রাজনীতি বাদ দিয়ে পৌরসভাকে জরুরি ভিত্তিতে অবৈধ ব্যাটারি চালিত অটোরিকশার বিরুদ্ধে অভিযান চালাতে হবে। শুধু ট্রাফিক পুলিশের কাঁধে দায় চাপিয়ে নয়, জনস্বার্থে সব সংস্থাকেই একযোগে এগিয়ে আসতে হবে।

কুষ্টিয়ার নবাগত জেলা প্রশাসক আবু হাসনাত মোহাম্মদ আরেফিন সাংবাদিকদের বলেন, পৌরসভার প্রশাসককে এ বিষয়ে কঠোর ভূমিকা নিতে বলা হয়েছে। ফুটপাত দখলমুক্ত রাখতে ও অবৈধ পার্কিং ঠেকাতে মাইকিং করা হয়েছে। তারপরও কেউ না শুনলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

Không có bình luận nào được tìm thấy


News Card Generator