রাঙ্গুনিয়ায় জামায়াতে ইসলামী সহযোগী সমাবেশে পরিবর্তনের প্রতিশ্রুতি.. | আই নিউজ বিডি | বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ ও ভিডিও

রাঙ্গুনিয়ায় জামায়াতে ইসলামী সহযোগী সমাবেশে পরিবর্তনের প্রতিশ্রুতি..

Md. Nezam Uddin avatar   
Md. Nezam Uddin
রাঙ্গুনিয়ায় জামায়াতে ইসলামী সহযোগী সমাবেশে পরিবর্তনের প্রতিশ্রুতি..
রাঙ্গুনিয়ায় জামায়াতে ইসলামী সহযোগী সমাবেশে পরিবর্তনের প্রতিশ্রুতি..
ছবি: সংগৃহীত
চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ায় জামায়াতে ইসলামীর সমাবেশে ন্যায়ভিত্তিক নেতৃত্ব ও পরিবর্তনের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে।..

চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার চন্দ্রঘোনা ইউনিয়নে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর উদ্যোগে আয়োজিত একটি সমাবেশে রাজনৈতিক পরিবর্তনের প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করা হয়েছে। শুক্রবার (৫ সেপ্টেম্বর) লিচুবাগানস্থ একটি কমিউনিটি সেন্টারে এই সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশের মূল লক্ষ্য ছিল আসন্ন নির্বাচনে ন্যায় ও ইনসাফভিত্তিক রাষ্ট্র গঠনের অঙ্গীকার করা।

সমাবেশের সভাপতিত্ব করেন ইউনিয়ন জামায়াতে ইসলামীর সভাপতি আজিম উদ্দীন, এবং সঞ্চালনায় ছিলেন মাস্টার আব্দুল গফুর। রাঙ্গুনিয়া আসনে জামায়াতের প্রার্থী অধ্যক্ষ মাওলানা মুহাম্মদ আমিরুজ্জামানের সমর্থনে বক্তারা তাঁদের বক্তব্য প্রদান করেন।

অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি ছিলেন কেন্দ্রীয় মজলিশে শুরা সদস্য অধ্যক্ষ মাওলানা মুহাম্মদ আমিরুজ্জামান। তিনি তাঁর বক্তব্যে দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতির সমালোচনা করেন এবং ন্যায়ভিত্তিক নেতৃত্বের প্রয়োজনীয়তার উপর জোর দেন। প্রধান আলোচক হিসাবে উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট অর্থোপেডিক সার্জন ও পার্কভিউ হাসপাতালের পরিচালক ড. এ. টি. এম. রেজাউল করিম।

চট্টগ্রাম উত্তর জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি অধ্যাপক ফজলুল করিম প্রধান বক্তা হিসেবে তাঁর আলোচনায় বলেন, "আগামী নির্বাচন হতে হবে বৈষম্যমুক্ত ও ফ্যাসিবাদবিরোধী। ন্যায় ও ইনসাফভিত্তিক রাষ্ট্র গড়তে সৎ, দক্ষ ও ন্যায়পরায়ণ নেতৃত্বের বিকল্প নেই।"

বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন আলমশাহ পাড়া কামিল মাদ্রাসার প্রাক্তন মুহাদ্দিস মাওলানা ইসমাইল হোসেন, রাঙ্গুনিয়া উত্তর থানার সাবেক আমির ফিরোজ আলম ভুঁইয়া, কথা সাহিত্যিক জাকারিয়া সেলিম, রাঙ্গুনিয়া জামায়াতে ইসলামীর আমির মাওলানা মুহাম্মদ হাসান মুরাদ, নায়েবে আমির মাওলানা শওকত হোসেন, সেক্রেটারি কামাল উদ্দীন, চন্দ্রঘোনা জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি মাওলানা কামরুল হাসান, মাস্টার আরিফুল হাসান চৌধুরী মুরাদ, রাশেদুল ইসলাম, সরোয়ার হোসেন সহ আরও অনেকে।

বক্তারা আরও বলেন, "মাদক, চাঁদাবাজি ও দুঃশাসনমুক্ত সোনার বাংলাদেশ উপহার দিতে দাড়িপাল্লার বিকল্প নেই।" বক্তারা তাদের বক্তব্যে বর্তমান সরকারের বিভিন্ন নীতির সমালোচনা করেন এবং জামায়াতে ইসলামীকে একটি বিকল্প শক্তি হিসেবে উপস্থাপন করেন।

এই সমাবেশটি স্থানীয় জনগণের মধ্যে বেশ সাড়া ফেলেছে। রাঙ্গুনিয়া একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক এলাকা হিসেবে বিবেচিত হওয়ায় এই সমাবেশের প্রভাব জাতীয় রাজনীতিতে পড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। জামায়াতে ইসলামী তাদের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে সামাজিক ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।

সমাবেশে অংশগ্রহণকারীরা জানান, তাঁরা পরিবর্তনের আশা করছেন এবং একটি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে দেশে সুশাসন প্রতিষ্ঠার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। সমাবেশের পরবর্তী পদক্ষেপ হিসেবে জামায়াত নেতারা জনসংযোগ ও প্রচারণা কার্যক্রম চালাবেন বলে জানান।

রাঙ্গুনিয়ার রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং জামায়াতে ইসলামীর ভূমিকা সম্পর্কে বিশ্লেষকরা বলছেন, এই অঞ্চলে জামায়াতের প্রভাব বৃদ্ধির সম্ভাবনা রয়েছে। তাঁদের মতে, এই ধরনের সমাবেশগুলি স্থানীয় জনগণের মধ্যে রাজনৈতিক সচেতনতা বৃদ্ধি করতে সহায়ক হতে পারে। তবে, সমাবেশের মাধ্যমে ব্যক্ত করা প্রতিশ্রুতিগুলি বাস্তবায়ন কিভাবে হবে তা সময়ই বলে দেবে।

এই সমাবেশের মাধ্যমে জামায়াতে ইসলামী তাদের রাজনৈতিক অবস্থানকে আরও সুদৃঢ় করতে চাইছে এবং স্থানীয় জনগণের মাঝে তাদের গ্রহণযোগ্যতা বৃদ্ধি করতে চেষ্টা করছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, আসন্ন নির্বাচন এবং রাজনৈতিক পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে এই ধরনের উদ্যোগগুলি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে।

কোন মন্তব্য পাওয়া যায়নি


News Card Generator