নাফিজ আহমেদঃ রাজবাড়ী শহর ও আশপাশের এলাকায় আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে কুকুরে কামড়ের ঘটনা। গত তিন মাসে রাজবাড়ী সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগে আসা রোগীর পরিসংখ্যান থেকে স্পষ্ট হয়েছে এ উদ্বেগজনক চিত্র। আক্রান্তদের মধ্যে শিশু থেকে শুরু করে বৃদ্ধ পর্যন্ত সব বয়সী মানুষই রয়েছেন।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, এলাকার কুকুরগুলোতে অস্বাভাবিক আচরণ লক্ষ্য করা যাচ্ছে। অনেক সময় কোনো প্রকার উস্কানি ছাড়াই পথচারীদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ছে তারা। আক্রান্তদের কেউ কেউ জানিয়েছেন, কুকুরগুলোর ঘাড়ে লালচে ঘা বা ক্ষতও দেখা গেছে।
রাজবাড়ী জেলা সদর হাসপাতালের ভ্যাকসিনেশন কক্ষ (কক্ষ নং ২০৩) এর তথ্যমতে, গত এক মাসে প্রায় ৩ হাজার ৫০০ জন রোগীকে র্যাবিস প্রতিরোধক ভ্যাকসিন দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে হাসপাতালে এই ভ্যাকসিন সম্পূর্ণ বিনামূল্যে দেওয়া হচ্ছে।
হাসপাতালের সার্জারি বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ডা. রাজীব দে সরকার বলেন,
"জলাতঙ্ক রোগ হয়ে গেলে মূলত কোনো চিকিৎসা নেই। তবে প্রতিরোধই এর একমাত্র উপায়। শতকরা ৯৯ ভাগ ক্ষেত্রে কুকুরের কামড়েই র্যাবিস হয়। এছাড়া বিড়াল, শিয়াল, বানর ও কিছু বন্যপ্রাণীর কামড়েও এই রোগ ছড়াতে পারে।"
তিনি আরও জানান, ক্ষতের ধরন অনুযায়ী প্রতিরোধ ব্যবস্থা তিন ভাগে বিভক্ত—
ক্যাটেগোরি ১: ক্ষুদ্র আঁচড় বা স্পর্শ হলে শুধু ১৫ মিনিট সাবান বা ডিটারজেন্ট দিয়ে ভালোভাবে ধুলেই যথেষ্ট।
ক্যাটেগোরি ২: কামড় বা আঁচড়ের ক্ষেত্রে অ্যান্টি-র্যাবিস ভ্যাকসিন (ARV) নিতে হবে।
ক্যাটেগোরি ৩: গুরুতর কামড়ের ক্ষেত্রে ARV এর পাশাপাশি আরআইজি ইনজেকশন নিতে হবে।
সবক্ষেত্রেই প্রথম পদক্ষেপ হলো ক্ষতস্থান দ্রুত সাবান বা ডিটারজেন্ট দিয়ে ধুয়ে ফেলা, যা চিকিৎসার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ বলে উল্লেখ করেন তিনি।
অন্যদিকে, রোগীদের দাবি—এ বছর পৌরসভা থেকে কুকুরগুলোকে দেওয়া একটি টিকার পর তাদের আচরণে অস্বাভাবিক পরিবর্তন এসেছে। অনেক কুকুরের ঘাড়ে টিকার কারণে ঘা তৈরি হয়, যার ফলেই তারা হিংস্র হয়ে উঠছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এখনই সচেতন না হলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে। তাই কুকুরের কামড়ের পর দেরি না করে চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার পাশাপাশি দ্রুত ভ্যাকসিন নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তারা।
---