মাঝে মাঝে নিজেকে কল সেন্টারের এজেন্ট মনে হয়। কল সেন্টার এজেন্টেরও অবশ্য শিফট ভাগ করা থাকে। ৮ ঘন্টা পর পর মানুষ বদলায়। আমার কোন বিকল্প মানুষ নাই, একাই সব কল রিসিভ করি, হু হা করি, জবাব দেই, সমাধান দেই, নাহয় পরে কোন নির্দিষ্ট দিনে আসতে বলি।
আবার সেই যে যেদিন আসতে বলেছিলাম, সেদিনও আসার আগে ৪/৫ বার দুই পক্ষের লোকজন কল দিয়ে আসেন, কল ধরতেই হবে। কল না ধরলেও গোস্বা করেন।
তো কল ধরার মানুষটাকেও আবার বিচারের জন্য দুই পক্ষের, ক্ষেত্র বিশেষে বহুপক্ষের সামনে বসতে হয়, সবটা শুনে সমাধান দিতে হয়।
কল সেন্টারের এজেন্ট শুধু কল ধরে, ইনস্ট্রাকশন নেয়, দেয়, ক্ষেত্রবিশেষে জরুরি সমস্যার সমাধান দেয়; ব্যস কাজ শেষ। আমার কাজ ফুরোয় না, কাজ বাড়ে। বিচার শেষে আবার তামিলও আমাকেই করতে হবে। থানা, পুলিশ, চৌকিদার এসবেও সময় কাটে আজকাল।
যাইহোক, রাত পৌঁনে বারোটায় কেউ যখন অডিও কল দিয়ে পরিচয় না দিয়ে বলে, " ভাই আমাক চিনছেন? আমি সেইদিন একটা অভিযোগ দিছি আপনের কাছে, ওইডের কী করছেন?
এদিকে ঘুম ঘুম চোখে শুধু নিজেরে অভিশাপ দেই, কেন শুধু কল সেন্টার এজেন্ট হলাম না? মাঝে মাঝে ইচ্ছে করে বলি, "ভাই আমি কানে দেখতে পাই না, তাই কান দিয়ে আপনার চেহারা চিনবার পারতাছি না"
সিরিয়াস আলাপ করি একটা। ছোট মুখে বড় কথা। ব্যাংক, ইকনমিক ক্যাডারের পর প্রায় সাড়ে ৫ বছরের মাঠ প্রশাসনে থেকে যেটা বুঝেছি বাংলাদেশে বিচার ব্যবস্থাকে জনগণের দোড় গোরায় আনার বিকল্প নেই।
যে গরীব কৃষক নিম্ন আদালতে কোনমতে একটা সঠিক রায় পায়, তার রায় বদলে যেতে পারে উচ্চ আদালতে। সাহেব বাবুদের শহরে গিয়ে এই গরীব মানুষগুলো স্যুট, টাই পরা মানুষের সাথে কথা বলার আগেই মামলা হেরে বসে থাকে।
গরীবের জন্য আদালত বানান। এক আদালতের রায় আরেক আদালতে বদলে গেলে দায় নিতে হবে না তবে উচ্চ আদালতে লড়াই করার জন্য আগের আদালতের পক্ষ থেকে ব্যয় নির্বাহের ব্যবস্থা করুন।
সত্যি বলছি, আমি নিজেই ভুক্তভোগী... ছোট মুখে আর কোন কথা বলা সমীচীন হবে না।
লেখক:
হাতীবান্ধা উপজেলা নির্বাহী অফিসার শামীম মিঞা মহোদয়ের ফেসবুক থেকে নেয়া।