জুলাই সনদের দাবিতে শাহবাগ মোড় অবরোধ করেছে আহত আন্দোলনকারীরা। রাষ্ট্রের প্রতিশ্রুতিতে আস্থা হারিয়ে এবার চূড়ান্ত ঘোষণা—জুলাই সনদ না পেলে অবরোধ উঠবে না।
রাজধানীর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সড়ক মোড় শাহবাগ বৃহস্পতিবার (৩১ জুলাই) আবারও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। জুলাই সনদ ঘোষণার দাবিতে সকাল ১১টার দিকে মোড় অবরোধ করেন জুলাই-আগস্ট অভ্যুত্থানে আহতরা। তাদের স্পষ্ট ঘোষণা—এবার আর প্রতিশ্রুতি নয়, চাই লিখিত সনদ। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত শাহবাগ ছাড়বেন না তারা।
অবরোধস্থলে জড়ো হওয়া শতাধিক আন্দোলনকারী ‘বুকের ভেতর অনেক ঝড়, বুক পেতেছি গুলি কর’, ‘রক্ত লাগলে রক্ত নে, জুলাই সনদ দিয়ে দে’, ‘জুলাই সনদ নিয়ে টালবাহানা চলবে না’—এমন সব প্রতিবাদী স্লোগানে মুখর করে তোলে পুরো এলাকা। তাদের প্রত্যয়—আন্দোলন আর পেছনে ফিরবে না।
আন্দোলনের অন্যতম সংগঠক মাসুদ রানা সৌরভ সরাসরি বলেন
আমরা রাষ্ট্রের সাথে বহুবার বসেছি, কিন্তু প্রতিবারই তারা তালবাহানা করেছে। এবার আমরা আর কোনো আশ্বাসে বিশ্বাস করি না জুলাই সনদ এবং পূর্ণ ঘোষণাপত্র হাতে না পাওয়া পর্যন্ত অবরোধ চলবেই।
তিনি আরও বলেন, রাষ্ট্রের কাছ থেকে আহত মুক্তিযোদ্ধাদের মতো স্বীকৃতি নয়, বরং ২০০৭ সালের জুলাই-আগস্ট অভ্যুত্থানের ইতিহাস স্বীকার করে তা প্রাতিষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করতে হবে। কারণ এই ইতিহাস নতুন প্রজন্ম জানে না, জানানোও হয়নি। রাষ্ট্র ইচ্ছাকৃতভাবে তা ধামাচাপা দিয়েছে।
আন্দোলনকারী নাজির আহমেদ খান, যিনি সেই অভ্যুত্থানে আহত হয়েছিলেন, বলেন,
আমরা ভয় পাই না। রক্ত দিয়েছি, আবার দেব। গুম বা হত্যার হুমকিতে আমাদের থামানো যাবে না। আমরা দেখেছি—এই সূর্যসন্তানরা রাস্তায় নামলেই, এক মাসের মাথায় হাসিনার পতন হয়েছিল।”
আবু হাসান নামের একজন আহত আন্দোলনকারী বলেন,
আমরা স্পষ্ট করে বলতে চাই, যতক্ষণ পর্যন্ত জুলাই সনদ ঘোষণা না করা হবে, ততক্ষণ আমাদের কর্মসূচি চলবে। শাহবাগ ছাড়ছি না।”
আরেকজন অংশগ্রহণকারী মো. বাবু ইসলাম বলেন,
জুলাই যোদ্ধা হিসেবে আমাদের কার্ড দেওয়া হয়েছে, কিন্তু বাস্তবে কিছুই পাচ্ছি না। আমাদের স্বাস্থ্যকার্ড দিয়ে মূলা ধরিয়ে দেওয়া হয়েছে। হাসপাতালেও ঠিকমতো চিকিৎসা পায় না আমাদের ভাইয়েরা।
তাদের বক্তব্যে স্পষ্ট—রাজনৈতিক দলের প্রতিশ্রুতি নয়, এবার রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতিই চূড়ান্ত লক্ষ্য। আন্দোলনকারীরা শাহবাগ ছাড়বেন না, যতক্ষণ না সরকার ‘জুলাই সনদ’ ঘোষণার সিদ্ধান্ত নেয়।
অবরোধস্থলে নিরাপত্তা জোরদার করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, তবে এখন পর্যন্ত কোনো সংঘর্ষ বা উত্তেজনার খবর পাওয়া যায়নি।
এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত শাহবাগ মোড়ে শতাধিক আহত যোদ্ধা অবস্থান করে আছেন। সাধারণ জনগণ ও যানবাহন চলাচলে সীমাহীন ভোগান্তি তৈরি হয়েছে।
আন্দোলনকারীরা বলছেন—এই ভোগান্তির দায় তাদের নয়, রাষ্ট্রের। কারণ রাষ্ট্র যদি ১৭ বছর পরেও ইতিহাসকে স্বীকার না করে, তবে মানুষ রাজপথেই ন্যায়ের সুর খুঁজবে।