আসিফ নজরুলের অভিযোগ, ২০২৪ সালে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে যা ঘটেছে, তা ১৯৭১ সালের পাকিস্তানি হানাদারদের জঘন্যতাকেও হার মানায়। মৃতদেহ পোড়ানো, আহতদের গুলি করে হত্যা, নিরস্ত্র মানুষকে হত্যা—এসবের বিচার দাবি করেন তিনি।
জুলাই মাসে ঘটে যাওয়া গণঅভ্যুত্থান এবং এতে নিরীহ মানুষের প্রাণহানির ঘটনা নিয়ে আইনজীবী ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুষদের অধ্যাপক ড. আসিফ নজরুল আজ এক আলোচনা সভায় বিস্ফোরক মন্তব্য করেছেন। তিনি বলেন, “শেখ হাসিনা এবং তার ঘনিষ্ঠরা ২০২৪ সালে যে অপরাধ করেছে, ১৯৭১ সালে হানাদার পাকিস্তানি বাহিনীও এতটা নৃশংসতা দেখায়নি।”
তিনি অভিযোগ করেন, "মৃতদেহ পুড়িয়ে ফেলা, আহত অবস্থায় গুলি করে হত্যা, নিরস্ত্র বিক্ষোভকারীদের প্রাণে মারা — এইসব কাজ কোনো বিদেশি বাহিনী না, বরং আমাদেরই সরকারের নির্দেশে দেশের মাটিতে হয়েছে।"
আসিফ নজরুল বলেন, “২৫শে মার্চ কালরাতে পাকিস্তানি বাহিনীর বর্বর হামলা আমরা ভুলিনি। কিন্তু তারা তো ছিল অন্য দেশের সেনাবাহিনী। কিন্তু শেখ হাসিনার সরকার তো এই দেশের নির্বাচিত, তারা কিভাবে এভাবে সাধারণ মানুষের ওপরে গুলি চালাতে পারে?” — প্রশ্ন তোলেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, “১৯৭১ সালে আমি কোনো ফুটেজ পাইনি যেখানে একজন গুলিবিদ্ধ মানুষকে তার বন্ধুরা ধরে নিয়ে যাচ্ছে আর তাকে আবারও গুলি করে মারা হচ্ছে। এই ধরনের নিঃসংশতা আমি মুক্তিযুদ্ধের কোনো বর্ণনায় পাইনি। অন্যরকম সহিংসতা ছিল, কিন্তু এমন না।”
তিনি বলেন, “২০২৪ সালের জুলাই-আগস্ট মাসে যা ঘটেছে, তা ইতিহাসের এক নৃশংস অধ্যায় হয়ে থাকবে। তবে আমরা হতাশ হবো না। এই বর্বরতার বিচার হবেই, এবং এই সরকারের সময়েই হবে।”
তিনি আশ্বাস দিয়ে বলেন, “বিচার এমনভাবে দলিল-প্রমাণসহ রেখে যাওয়া হবে, ভবিষ্যতের কোনো সরকার চাইলেও এ বিচার এড়িয়ে যেতে পারবে না। আমি বিশ্বাস করি, বিএনপি-জামায়াত যেই আসুক না কেন, তারা এই বিচার থেকে সরে যাবে না। কারণ তারা নিজেরাই এসব রাষ্ট্রীয় নিপীড়নের শিকার।”
আলোচনা সভায় উপস্থিত ছিলেন বিভিন্ন মানবাধিকার কর্মী, আইনজীবী, এবং নিহতদের পরিবার। তারা সকলে একবাক্যে দাবি তোলেন, ‘জুলাই গণহত্যা’র আন্তর্জাতিক মানের তদন্ত এবং জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে হবে।
সভায় আরও বলা হয়, যেসব নিরপরাধ মানুষ গুম ও হত্যার শিকার হয়েছেন, তাদের পরিবার যেন দ্রুত ক্ষতিপূরণ পান এবং রাষ্ট্র তাদের স্বীকৃতি দেয়।
এ সময় কিছু প্রত্যক্ষদর্শীর বক্তব্য শোনা যায়, যারা বলছিলেন, কীভাবে রাস্তায় হঠাৎ গুলি শুরু হয় এবং সাধারণ নিরস্ত্র মানুষ প্রাণ হারান। একজন বলেন, “আমার ছোট ভাই শুধু প্ল্যাকার্ড নিয়ে ছিল, তার বুকের ভেতর গুলি লেগে সে পড়ল। এরপর পুলিশ এসে মৃতদেহ টেনে নিয়ে যায়।”
ড. নজরুল সরকারের উদ্দেশে বলেন, “আপনারা আজ না করলেও, কাল করতে বাধ্য হবেন। কারণ এই দেশ রক্ত দিয়ে কেনা। এখানে মানুষের রক্ত বৃথা যেতে পারে না।”
শেষে তিনি আহ্বান জানান, আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠনগুলো যেন এই ঘটনার তদন্তে এগিয়ে আসে এবং বিশ্বের বিবেক যেন বাংলাদেশের মানুষের পাশে দাঁড়ায়।