ক্ষমতা দ্রুত ছেড়ে দেওয়ার আকাঙ্ক্ষা থাকতে হবে : আলমগীর কবির.. | আই নিউজ বিডি | বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ ও ভিডিও

ক্ষমতা দ্রুত ছেড়ে দেওয়ার আকাঙ্ক্ষা থাকতে হবে : আলমগীর কবির..

আই নিউজ বিডি ডেস্ক  avatar   
আই নিউজ বিডি ডেস্ক
ক্ষমতা দ্রুত ছেড়ে দেওয়ার আকাঙ্ক্ষা থাকতে হবে : আলমগীর কবির..
ক্ষমতা দ্রুত ছেড়ে দেওয়ার আকাঙ্ক্ষা থাকতে হবে : আলমগীর কবির..
ছবি: সংগৃহীত
Former State Minister Alamgir Kabir warns that avoiding elections and clinging to power has never ended well in history. The current government must show a clear intention to step down peacefully and ..

সাবেক প্রতিমন্ত্রী আলমগীর কবির হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, যারা নির্বাচন এড়িয়ে ক্ষমতায় থাকতে চায়, ইতিহাস তাদের ক্ষমা করে না। দ্রুত ক্ষমতা ছেড়ে দেওয়ার মানসিকতা তৈরি করতে না পারলে পরিণতি ভয়াবহ হতে পারে।

সাবেক প্রতিমন্ত্রী ও বিএনপির প্রবীণ নেতা আলমগীর কবির এক টেলিভিশন টক শোতে বলেন, ইতিহাস সাক্ষ্য দেয়—যারা ক্ষমতা আঁকড়ে ধরে রাখতে চায়, তারা শেষ পর্যন্ত জনগণ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। বর্তমান সরকারকেও তিনি সেই ঐতিহাসিক শিক্ষা থেকে সাবধান হওয়ার আহ্বান জানান।

তিনি বলেন, “নির্বাচন না দিয়ে কেউ পার পায়নি—না আইয়ুব খান, না ইয়াহিয়া খান, এমনকি মুজিব খা নামেও পারেননি। শেখ মুজিবুর রহমান যিনি বঙ্গবন্ধু হিসেবে সমাদৃত ছিলেন, তিনিও শেষ পর্যন্ত ফ্যাসিবাদের দিকে গিয়েছিলেন। এটা কীভাবে সম্ভব হলো—এটা সবাইকে ভাবতে হবে।”

আলমগীর কবির আরও বলেন, “শুধু একটি প্রশ্নে মুজিব জনগণ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছিলেন—সেটা নির্বাচন। তিনি সময়মতো নির্বাচন দেননি, সুষ্ঠুভাবে নির্বাচন করতে দেননি। ফলাফল ছিল ভয়াবহ। ইতিহাস তাকে সেই ভুলের জন্য ক্ষমা করেনি। আজকের সরকার কি সেই ইতিহাস থেকে শিক্ষা নেবে না?”

তিনি দাবি করেন, “বর্তমান সরকারের উচিত সব বিষয় নিয়ে গভীরভাবে চিন্তা করা। সরকার মানে শুধু রাজস্ব আদায়, দপ্তর চালানো কিংবা সরকারি কর্মকর্তাদের নিয়ন্ত্রণ না—এটা একটি বড় দায়িত্ব। এটা মুদি দোকান খুলে পণ্য বিক্রির মতো নয়।”

টক শোতে বক্তব্য রাখতে গিয়ে আলমগীর কবির বলেন, “ক্ষমতা হস্তান্তর একটি দেশের রাজনৈতিক পরিপক্বতার বড় মাপকাঠি। ইতিহাসে মুসলিম লীগ, আইয়ুব খান, ইয়াহিয়া খান, শেখ মুজিব, এরশাদ কেউই শান্তিপূর্ণভাবে ক্ষমতা ছাড়তে পারেনি। এমনকি জিয়াউর রহমানও পারেননি নিয়মতান্ত্রিক হস্তান্তর করতে।”

তিনি উল্লেখ করেন, “শুধুমাত্র খালেদা জিয়াই ইতিহাসে একমাত্র রাজনৈতিক নেত্রী যিনি ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারির বিতর্কিত নির্বাচনের মাধ্যমেই তত্ত্বাবধায়ক সরকার প্রতিষ্ঠা করেন এবং নিয়মতান্ত্রিক পন্থায় ক্ষমতা হস্তান্তর করেন। ওই নির্বাচনে ভোটার উপস্থিতি কম হলেও, উনি জোর করে ক্ষমতায় থাকার চেষ্টা করেননি। তিনি গণতন্ত্রের স্বার্থে পদত্যাগ করেছিলেন।”

আলমগীর কবির বলেন, “আজ যারা নির্বাচন ছাড়াই ক্ষমতায় টিকে থাকতে চায়, তাদের জন্য এই ইতিহাস গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দেয়। ক্ষমতা চিরস্থায়ী নয়। জনগণের ইচ্ছার বিরুদ্ধে কেউ বেশি দিন টিকে থাকতে পারে না। তাই যত দ্রুত সম্ভব এই সরকারের উচিত ক্ষমতা শান্তিপূর্ণভাবে হস্তান্তরের প্রস্তুতি গ্রহণ করা।”

তিনি সরকারকে স্মরণ করিয়ে দেন, “একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে জনগণের মতামতের ঊর্ধ্বে কিছু নেই। নির্বাচন ছাড়া কোনো সরকারকে বৈধ গণ্য করা যায় না। যদি সরকার এই বাস্তবতা বুঝতে না পারে, তাহলে পরিস্থিতি ভয়াবহ হয়ে উঠবে।”

আলমগীর কবিরের এই বক্তব্য এখন রাজনৈতিক মহলে আলোচনার কেন্দ্রে। অনেকে বলছেন, তিনি যা বলেছেন তা আসলে জনমতের প্রতিফলন। কেউ কেউ আবার মনে করছেন, এটি ছিল একটি সরাসরি হুঁশিয়ারি—যদি সরকার দায়িত্বশীল না হয়, তাহলে দেশের ভবিষ্যৎ আরও অন্ধকার হয়ে যেতে পারে।

কোন মন্তব্য পাওয়া যায়নি


News Card Generator