রাজনৈতিক বিশ্লেষক এম এ আজিজ বলছেন, ড. ইউনূস সহজে নির্বাচন দেবেন না। তার নিজস্ব এজেন্ডা আছে, এবং ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন হওয়ার সম্ভাবনা নেই বলেও মত দিয়েছেন তিনি।
রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও সিনিয়র সাংবাদিক এম এ আজিজ সম্প্রতি একটি টেলিভিশন টকশোতে অংশ নিয়ে মন্তব্য করেছেন, নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ ড. মুহাম্মদ ইউনূস সহজে জাতীয় নির্বাচনে অংশ নেবেন না। তার ভাষায়, "ড. ইউনূসের নিজস্ব একটি রাজনৈতিক এজেন্ডা রয়েছে। তিনি কখনোই সরলভাবে নির্বাচনে যাবেন না। নির্বাচন যে এই দেশে আদৌ হবে কিনা, তা একমাত্র আল্লাহ জানেন — এবং সম্ভবত ড. ইউনূস জানেন, দুনিয়ার আর কেউ জানে না।"
এম এ আজিজ বলেন, “যখনই কোনো গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু সামনে আসে, তখন ড. ইউনূস মুখে কিছু বলেন না। সব সময় তার প্রেস সেক্রেটারির মাধ্যমে বক্তব্য প্রচার করা হয়। কিন্তু প্রেস সেক্রেটারি পর্যন্ত এবার কোনো মন্তব্য করেননি। বরং তাঁরা বলেছেন— এ বিষয়ে কোনো আলোচনা হয়নি, বরং তাঁরা দুঃখ প্রকাশ করেছেন।”
তিনি মনে করেন, এসব ইঙ্গিতই প্রমাণ করে যে, ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন হওয়ার সম্ভাবনা নেই। তিনি আরও বলেন, “অনেকেই মনে করছেন নির্বাচন সামনে, কিন্তু ঘটনাপ্রবাহ তা বলছে না।”
মাইলস্টোন স্কুলে আয়োজিত এক আলোচনার প্রসঙ্গ টেনে আজিজ বলেন, “সেখানে প্রথমে চারটি দলকে ডাকা হয়। এমনকি এনসিপিকেও ডাকা হয়— যাদের দল হিসেবে নিবন্ধন পর্যন্ত নেই। অথচ এই দলটিকেই ড. ইউনূস ভালোবাসেন বলে শোনা যায়।”
আজিজের মতে, “যখন ১৩ দলের মিটিং হয়, তখনো নির্বাচনের প্রসঙ্গ ওঠে না। এরপর ১৪ দলের বৈঠকে হঠাৎ করেই মোস্তফা জামাল হায়দার এসে বলেন, ফেব্রুয়ারিতেই নির্বাচন হবে এবং আগামী চার-পাঁচ দিনের মধ্যে তারিখ ঘোষণা করা হবে। অথচ এর আগে এমন কোনো সিদ্ধান্ত বা আলোচনা হয়নি।”
তিনি আরও বলেন, “আমরা দেখেছি, সব সময় কোনো সঙ্কট তৈরি হলে সবাইকে ডেকে কৃত্রিম ঐক্যের ছবি দেখানো হয়। রুহিন হোসেন প্রিন্স সঠিকভাবেই বলেছেন— প্রত্যেকেই নিজের মতো করে এই সঙ্কট দেখছে, তাই আর ঐক্যের নাটক করে কোনো লাভ নেই।”
সবশেষে আজিজ জানান, ঐ টকশোতে উপস্থিত সবাই যখন নির্বাচনের বিষয়ে সুনির্দিষ্ট প্রশ্ন রাখেন, তখন ড. ইউনূস শুধু একটি কথাই বলেন— ‘আচ্ছা, আমরা দেখব।’ এই কথাটি থেকেই স্পষ্ট যে, তিনি এখনো চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছাননি এবং নির্বাচন নিয়ে তার মধ্যে দ্বিধা রয়েছে।