দেশে না ফিরলে জাতীয় দলের দরজা বন্ধ সাকিবের | আই নিউজ বিডি | বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ ও ভিডিও

দেশে না ফিরলে জাতীয় দলের দরজা বন্ধ সাকিবের

আই নিউজ বিডি ডেস্ক  avatar   
আই নিউজ বিডি ডেস্ক
দেশে না ফিরলে জাতীয় দলের দরজা বন্ধ সাকিবের
দেশে না ফিরলে জাতীয় দলের দরজা বন্ধ সাকিবের
ছবি: সংগৃহীত
BCB makes it clear—Shakib Al Hasan must return to Bangladesh to rejoin the national team. But with legal cases and arrest warrants, a comeback seems nearly impossible.

দেশে না ফিরলে সাকিব আল হাসানের জাতীয় দলে ফেরার কোনো সুযোগ নেই বলে স্পষ্ট জানিয়ে দিল বিসিবি সভাপতি। গ্রেফতারি পরোয়ানাসহ নানা জটিলতায় দেশে ফেরা নিয়েও অনিশ্চয়তা।

সাকিব আল হাসান—বাংলাদেশ ক্রিকেটের সবচেয়ে আলোচিত নামগুলোর একটি। মাঠে তার অতুলনীয় পারফরম্যান্স যেমন তাকে কিংবদন্তির কাতারে নিয়ে গেছে, তেমনি মাঠের বাইরে নানা বিতর্ক তাকে করে তুলেছে চর্চার কেন্দ্রবিন্দুতে। বর্তমানে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অনেকটা দূরে অবস্থান করছেন তিনি। দেশেও নেই, এমনকি ঘরোয়া কোনো ক্রিকেট লিগেও তার উপস্থিতি নেই। এর মাঝেই আলোচনায় এসেছে তার জাতীয় দলে ফেরা নিয়ে গুঞ্জন।

সম্প্রতি একটি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলকে দেয়া সাক্ষাৎকারে বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল দিয়েছেন এমন এক মন্তব্য, যা কার্যত সাকিবের জন্য জাতীয় দলের দরজা বন্ধ করে দিয়েছে। তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন—সাকিব যদি জাতীয় দলে ফিরতে চান, তাহলে তাকে আগে দেশে ফিরতে হবে।

বিসিবি সভাপতির ভাষ্য, “সাকিব এখনো সব ফরম্যাট থেকে অবসর নেয়নি। সে তাই আমাদের জন্য অ্যাভেইলেবল। কিন্তু জাতীয় দলে কাউকে নেওয়া আমার একার পক্ষে সম্ভব না। এটা নির্বাচকদের দায়িত্ব। তারা যদি দেখে সাকিব ফিট আছে, খেলতে আগ্রহী, তাহলে তারা ভাবতে পারে। তবে শর্ত একটাই—সে আগে দেশে আসুক।”

এই বক্তব্যের মাধ্যমে বোঝা যাচ্ছে, দেশের মাটিতে পা না রাখলে সাকিবের জাতীয় দলে ফেরা নিয়ে বিসিবি মোটেই আগ্রহী নয়। অথচ কিছুদিন আগেও শোনা গিয়েছিল, দেশের বাইরে কোনো সিরিজে হয়তো সাকিবকে আবারও দলে দেখা যাবে। বিশেষ করে সীমিত ওভারের ক্রিকেটে তার অভিজ্ঞতা কাজে লাগাতে চাইছিল বোর্ড। তবে বর্তমান অবস্থান থেকে মনে হচ্ছে, সেই সম্ভাবনা এখন প্রায় নেই বললেই চলে।

সবচেয়ে বড় জটিলতা সৃষ্টি করেছে সাকিবের ব্যক্তিগত আইনি পরিস্থিতি। একাধিক মামলায় তিনি অভিযুক্ত, যার মধ্যে রয়েছে হত্যাচেষ্টার অভিযোগও। এসব মামলায় রয়েছে গ্রেফতারি পরোয়ানাও। ফলে দেশে ফেরা তো দূরের কথা, তিনি কোথায় আছেন, তাও অনেক সময় নিশ্চিত নয় বোর্ডের কাছে। এক বছরেরও বেশি সময় ধরে তার দেশের বাইরে অবস্থান এই আশঙ্কাকে আরও জোরালো করেছে।

সাকিব সর্বশেষ জাতীয় দলের হয়ে মাঠে নেমেছিলেন ২০২৩ সালের আগস্টে পাকিস্তানের বিপক্ষে টেস্ট ম্যাচে। এরপরই ধীরে ধীরে ক্রিকেট থেকে নিজেকে গুটিয়ে নেন। টি-টোয়েন্টি ও টেস্ট ফরম্যাট থেকে অবসর নিলেও ওয়ানডে ক্রিকেটে তার ভবিষ্যৎ এখনও তাত্ত্বিকভাবে উন্মুক্ত ছিল। কিন্তু বাস্তব পরিস্থিতি বলছে, জাতীয় দলের সেই দরজা এখন একরকম বন্ধই।

ক্রিকেটবোদ্ধাদের মতে, সাকিবের মতো একজন বিশ্বমানের খেলোয়াড়ের এমন পরিণতি দেশের ক্রিকেটের জন্য হতাশাজনক। তবে দেশের আইন ও বিসিবির নিয়মের বাইরে কেউ যেতে পারে না। একজন জাতীয় দলের প্রতিনিধির কাছ থেকে ন্যূনতম শৃঙ্খলা ও দায়িত্বশীল আচরণ প্রত্যাশিত। সাকিব যদি নিজেই সেই জায়গায় না ফিরতে চান বা ফিরতে না পারেন, তাহলে বিসিবির কিছু করার থাকে না।

সব মিলিয়ে, সাকিবের জাতীয় দলে ফেরা নিয়ে সমীকরণটা এখন আর কেবল ক্রিকেটীয় নয়, বরং তা হয়ে গেছে রাজনৈতিক ও আইনি বাঁধার এক জটিল সমীকরণ।

কোন মন্তব্য পাওয়া যায়নি


News Card Generator