সমঝোতায় পৌঁছাতে জোর চেষ্টা চালাচ্ছে ঐকমত্য কমিশন | আই নিউজ বিডি | বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ ও ভিডিও

সমঝোতায় পৌঁছাতে জোর চেষ্টা চালাচ্ছে ঐকমত্য কমিশন

আই নিউজ বিডি ডেস্ক  avatar   
আই নিউজ বিডি ডেস্ক
সমঝোতায় পৌঁছাতে জোর চেষ্টা চালাচ্ছে ঐকমত্য কমিশন
সমঝোতায় পৌঁছাতে জোর চেষ্টা চালাচ্ছে ঐকমত্য কমিশন
ছবি: সংগৃহীত
Despite revising proposals multiple times, the National Consensus Commission is struggling to secure political agreement on key state reform issues amid deep divisions and deadlocks.

জাতীয় ঐকমত্য কমিশন একের পর এক প্রস্তাব পরিবর্তন করেও রাষ্ট্র সংস্কারে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে ঐক্যমতে পৌঁছাতে পারছে না। একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে চলছে মতবিরোধ ও জট।

জাতীয় ঐকমত্য কমিশন রাষ্ট্র সংস্কার ইস্যুতে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে চূড়ান্ত সমঝোতায় পৌঁছাতে একের পর এক প্রস্তাব সংশোধন করে চলেছে। প্রথমে জাতীয় সাংবিধানিক কাউন্সিল (এনসিসি) গঠনের প্রস্তাব দেওয়া হলেও দলগুলোর আপত্তির কারণে সেটি বাতিল করে নতুন করে সাংবিধানিক কমিটি এবং পরে বাছাই কমিটির প্রস্তাব দেওয়া হয়। কিন্তু তাতেও পুরোপুরি ঐকমত্যে পৌঁছানো সম্ভব হয়নি।

বিএনপিসহ সমমনা দলগুলো স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, তারা নির্বাচন কমিশন ছাড়া অন্যান্য সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানে বাছাই কমিটি গঠনের বিরোধিতা করছে। ফলে বহু গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের মতো এখানেও চলছে অনিশ্চয়তা। উচ্চকক্ষ গঠনের প্রস্তাব, নারীদের সংরক্ষিত আসনে সরাসরি নির্বাচন, রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা, সংবিধান সংশোধনসহ একাধিক ইস্যুতে এখনও দলগুলোর মধ্যে তীব্র মতানৈক্য রয়েছে।

গত অক্টোবরে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর গঠিত ছয়টি সংস্কার কমিশনের ভিত্তিতে ঐকমত্য প্রতিষ্ঠায় ফেব্রুয়ারিতে ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে গঠিত হয় জাতীয় ঐকমত্য কমিশন। ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝি থেকে কাজ শুরু করে এ কমিশন। ১৬৬টি সুপারিশের ওপর ভিত্তি করে দলগুলোর মতামত আহ্বান করা হয় এবং মার্চ মাস থেকে সংলাপ শুরু হয়।

দুই পর্বের সংলাপে মোট ৬৩টি দল অংশ নেয়। এখন পর্যন্ত ১৮টি বৈঠকে বেশ কিছু বিষয়ের ওপর দলগুলো ঐকমত্যে পৌঁছালেও তত্ত্বাবধায়ক সরকার, উচ্চকক্ষ নির্বাচন, সংরক্ষিত নারী আসনসহ নানা বিষয়ে কোনো চূড়ান্ত সমঝোতা হয়নি। কমিশনের দেয়া সর্বশেষ প্রস্তাব অনুযায়ী, নির্বাচন কমিশন গঠনে স্পিকারের নেতৃত্বে একটি পাঁচ সদস্যবিশিষ্ট বাছাই কমিটি হবে—যাতে প্রধানমন্ত্রী, বিরোধীদলীয় নেতা, ডেপুটি স্পিকার ও প্রধান বিচারপতির একজন প্রতিনিধি থাকবেন। এই কাঠামোতে বিএনপি রাজি হলেও, অন্যান্য নিয়োগ—যেমন দুদক, পিএসসি, ন্যায়পাল নিয়োগ—এ পদ্ধতিতে আপত্তি জানিয়ে আসছে।

অন্যদিকে, উচ্চকক্ষ বা দ্বিকক্ষ বিশিষ্ট সংসদ গঠনের প্রশ্নে মতানৈক্য আরো গভীর। জামায়াতে ইসলামী, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) প্রভৃতি দল উচ্চকক্ষে সংখ্যানুপাতিক (PR) পদ্ধতির পক্ষে থাকলেও বিএনপি বিপক্ষে। তারা চাইছে, নিম্নকক্ষে যত আসন পেয়েছে, তার ভিত্তিতে উচ্চকক্ষেও বণ্টন হোক। এই মতপার্থক্যের কারণে উচ্চকক্ষ গঠনের ইস্যুটিও অনিশ্চয়তায় পড়ে গেছে।

প্রস্তাব অনুযায়ী, উচ্চকক্ষ কেবল সংবিধান সংশোধনের ক্ষমতা পাবে। তবে এটি আইন পর্যালোচনা, বিল আটকে রাখা ও সুপারিশ প্রদানের মতো ভূমিকা পালন করতে পারবে। ফলে এটি সংসদের একচ্ছত্র আধিপত্যকে কিছুটা হলেও নিয়ন্ত্রণ করতে সক্ষম হবে বলে মনে করা হচ্ছে। কিন্তু যদি PR পদ্ধতিতে নির্বাচন না হয়, তাহলে এই উদ্দেশ্য বাস্তবায়ন কঠিন হয়ে যাবে।

নারীদের সংরক্ষিত আসন বাড়ানোর প্রস্তাব থাকলেও, সরাসরি নির্বাচনের বিষয়টি নিয়েও মতানৈক্য রয়ে গেছে। অনেকে সরাসরি নির্বাচন চান, আবার অনেকে বণ্টন চায় দলের ভোট অনুযায়ী। রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ধরন, সংবিধানের মূলনীতি, প্রধানমন্ত্রী ও দলীয় প্রধান একই ব্যক্তি হওয়া ইত্যাদি নিয়েও রয়েছে মতবিরোধ।

ঐকমত্য না হলে ‘জাতীয় সনদে’ যে দল সম্মত নয়, তারা ‘নোট অব ডিসেন্ট’ দিতে পারবে বলে কমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। ইতিমধ্যে বিএনপিসহ সমমনা দলগুলো একাধিক প্রস্তাবে এই আপত্তি জানানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে। কমিশনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী ও দলীয় প্রধান একই ব্যক্তি হতে পারবেন না—এতে কিছু দল দ্বিমত প্রকাশ করলেও সিদ্ধান্ত বহাল রাখা হয়েছে।

তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান কে হবেন, সে বিষয়ে কমিশন আগামী রবিবার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানাবে। অন্য অমীমাংসিত ইস্যুগুলোতে আপত্তিসহ জাতীয় সনদে স্বাক্ষর করার সিদ্ধান্ত হয়েছে।

জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সহসভাপতি আলী রীয়াজ জানান, ‘আমরা অনেক বিষয়ে ঐকমত্যে পৌঁছেছি, অনেক বিষয়ে কাছাকাছি এসেছি। তবে কিছু বিষয়ে এখনও মতানৈক্য রয়েছে। আমরা জুলাই মাসের মধ্যেই একটি জাতীয় সনদ তৈরি করে কাজ সম্পন্ন করতে চাই।’

তিনি আরও বলেন, ‘রাজনৈতিক দলগুলোর সহযোগিতা অব্যাহত থাকলে, আমরা স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং ভারসাম্যের একটি শক্তিশালী রাষ্ট্র কাঠামো উপহার দিতে পারব।’

কোন মন্তব্য পাওয়া যায়নি


News Card Generator