নাহিদ ইসলাম বলেছেন, শেখ হাসিনা দেশের বর্তমান ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের ওপর একটি ফিটনেসবিহীন রাষ্ট্র চাপিয়ে দিয়েছেন। এনসিপির লক্ষ্যই হচ্ছে এই ভাঙা রাষ্ট্র মেরামত করে নতুন গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা।
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম শুক্রবার (২৫ জুলাই) সুনামগঞ্জ শহরের ট্রাফিক পয়েন্টে অনুষ্ঠিত এক সমাবেশে কড়া ভাষায় শেখ হাসিনা সরকারের সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, “স্বৈরাচারী শেখ হাসিনা আমাদের ওপর এমন একটি রাষ্ট্র চাপিয়ে দিয়ে গেছেন, যার কোনও ফিটনেস নেই। আমরা এই প্রজন্মের ওপর ফিটনেসবিহীন রাষ্ট্র আর চাপিয়ে দিতে চাই না। যারা গণ-অভ্যুত্থানে জীবন দিয়েছে, তাদের স্বপ্ন বাস্তবায়নের জন্য এই রাষ্ট্রের ফিটনেস মেরামত করতে হবে।”
নাহিদ ইসলামের এই বক্তব্যে উঠে আসে একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা—বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় কাঠামো বর্তমানে নড়বড়ে অবস্থায় রয়েছে। তিনি বলেন, “এই রাষ্ট্র মেরামতের জন্যই এনসিপির জন্ম। আমরা আইনের সীমার মধ্যে থেকে, গণতান্ত্রিক উপায়ে, কাঠামোগত সংস্কার করে একটি নতুন রাষ্ট্রীয় বন্দোবস্ত গড়ে তুলতে চাই।”
তিনি আরও বলেন, দেশের বিভিন্ন সেক্টরে ফিটনেসহীনতার চিত্র ভয়াবহ। এর প্রমাণ হিসেবে তিনি সম্প্রতি ঘটে যাওয়া মাইলস্টোন কলেজের শিক্ষার্থীদের বিমান দুর্ঘটনার কথা উল্লেখ করেন। তাঁর ভাষায়, “আজকে আমরা এমন একটি দেশে বাস করি, যেখানে বাসের ফিটনেস নেই, বিমানেরও নেই। রাষ্ট্রেরও কোনো ফিটনেস নেই। শেখ হাসিনা একটি ফিটনেসবিহীন রাষ্ট্র দিয়ে গেছেন আমাদের হাতে।”
নাহিদ ইসলাম সরাসরি অভিযোগ তোলেন, বর্তমান রাষ্ট্র ব্যবস্থা কেবল প্রযুক্তিগতভাবে দুর্বল নয়, বরং এর রাজনৈতিক ও নৈতিক ভিত্তিও ক্ষয়ে গেছে। তাঁর মতে, এই ভাঙা কাঠামো সংস্কার ছাড়া ভবিষ্যৎ প্রজন্ম নিরাপদ নয়।
সমাবেশে বক্তব্যে নাহিদ ইসলাম মুজিববাদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেন। তিনি বলেন, “মুজিববাদ মানে শুধু শেখ মুজিব না, এটা একটা রাজনৈতিক মতবাদ যা গত ৫০ বছর ধরে দেশে বিভাজনের রাজনীতি চালিয়ে গেছে। মুজিববাদ মানে ফ্যাসিবাদ, খুন, গুম, ধর্ষণ, মানবাধিকার লঙ্ঘন এবং একদলীয় বাকশালী শাসনের নামান্তর।”
তিনি আরও বলেন, “শুধু আইন দিয়ে এই আদর্শকে মোকাবিলা সম্ভব নয়। এর বিরুদ্ধে সামাজিক, রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক এবং অর্থনৈতিক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে।”
নাহিদ ইসলামের বক্তৃতায় স্পষ্ট প্রতিফলিত হয় একটি সুস্পষ্ট বার্তা: রাষ্ট্র সংস্কার এখন সময়ের দাবি। তাঁর মতে, দেশের জনগণের উচিত ভাঙা কাঠামোর ওপর আর নির্ভর না করে নতুন একটি গণতান্ত্রিক ও কার্যকর রাষ্ট্র ব্যবস্থার দিকে অগ্রসর হওয়া।
এনসিপি যে কেবল একটি রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম নয়, বরং একটি কাঠামোগত রূপান্তরের আন্দোলন—তা আজকের বক্তব্যে তিনি আরও একবার স্মরণ করিয়ে দেন।