গ্যালারিতে দাঁড়িয়ে অভিবাদন জানাল দর্শকেরা, হাততালিতে মুখর হলো স্টেডিয়াম। সেই এক রানেই ইতিহাস গড়লেন ইংল্যান্ডের ৩৪ বছর বয়সী ব্যাটসম্যান—জো রুট এখন টেস্ট ক্রিকেটের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক। তাঁর সামনে কেবল একজন—শচীন টেন্ডুলকার।
রুটের এই রেকর্ডগাঁথা ইনিংসে ধরা দিয়েছে আরও অনেক অর্জন। ক্যারিয়ারের ১৫৭তম টেস্টে নামার সময় তাঁর রানসংখ্যা ছিল ১৩,২৫৯। তখনও তিনি ছিলেন তালিকার পঞ্চম স্থানে। দিনটা শুরু করেছিলেন রাহুল দ্রাবিড় (১৩,২৮৮) এবং জ্যাক ক্যালিস (১৩,২৮৯) এর চেয়ে পিছিয়ে থেকে। প্রথম সেশনেই দুজনকে টপকে উঠে আসেন তৃতীয় স্থানে। এরপর দ্বিতীয় সেশনে, ইংল্যান্ড ইনিংসের ১০১তম ওভারের তৃতীয় বলে রিকি পন্টিংয়ের (১৩,৩৭৮) রান ছাড়িয়ে যান এক সিঙ্গেল নিয়ে—সাবেক অস্ট্রেলিয়ান অধিনায়কের সামনে, তারই ধারাভাষ্যকালীন সময়ে!
রুট এগিয়ে গেলেন কেবল রানসংখ্যায় নয়, পঞ্চাশোর্ধ ইনিংসের সংখ্যাতেও। পন্টিংয়ের ১০৩টি ইনিংসের চেয়ে এক ধাপ ওপরে গিয়ে রুট এখন টেস্টে ১০৪টি ফিফটি প্লাস ইনিংসের মালিক।
তাঁর আজকের ১২১ রানের ইনিংসটি ছিল ক্যারিয়ারের ৩৮তম সেঞ্চুরি—এই তালিকায় তিনি এখন শ্রীলঙ্কান কিংবদন্তি কুমার সাঙ্গাকারার সঙ্গে যৌথভাবে চতুর্থ। ভারতের বিপক্ষে এটি ছিল তাঁর ১২তম সেঞ্চুরি—যা এ প্রতিপক্ষের বিপক্ষে কোনো ব্যাটসম্যানের সর্বোচ্চ সেঞ্চুরির রেকর্ড। পেছনে ফেলেছেন স্টিভ স্মিথের ১১টি শতক।
আরেকটি নজিরবিহীন কীর্তি গড়েছেন আজ—ভারতের বিপক্ষে ইংল্যান্ডের মাটিতে এটি তাঁর নবম শতক, যা ঘরের মাঠে নির্দিষ্ট কোনো প্রতিপক্ষের বিপক্ষে কোনো ব্যাটসম্যানের সর্বোচ্চ সেঞ্চুরির রেকর্ড। এ তালিকায় পেছনে ফেলে দিয়েছেন কিংবদন্তি ডন ব্র্যাডম্যানকেও, যাঁর ছিল ইংল্যান্ডের বিপক্ষে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে ৮ সেঞ্চুরি।
সব মিলিয়ে, জো রুটের রেকর্ড-ভাঙা দিনে ম্যাচেও আধিপত্য বিস্তার করছে ইংল্যান্ড। চা-বিরতির সময় ইংলিশদের স্কোর ছিল ৪ উইকেটে ৪৩৩, যা ভারতের প্রথম ইনিংসের চেয়ে ৭৫ রানে বেশি।
রুট (১২১*) ও অধিনায়ক বেন স্টোকস (৩৬*) তৃতীয় সেশনের ব্যাটিং শুরু করেছেন—উদ্দেশ্য আরও বড় লিড গড়া।