সাবেক প্রধান বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হক গ্রেপ্তার, আদালতের আদেশে কারাগারে প্রেরণ.. | আই নিউজ বিডি | বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ ও ভিডিও

সাবেক প্রধান বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হক গ্রেপ্তার, আদালতের আদেশে কারাগারে প্রেরণ..

সুভাষ মজুমদার avatar   
সুভাষ মজুমদার
সাবেক প্রধান বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হক গ্রেপ্তার, আদালতের আদেশে কারাগারে প্রেরণ..
সাবেক প্রধান বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হক গ্রেপ্তার, আদালতের আদেশে কারাগারে প্রেরণ..
ছবি: সংগৃহীত
একটা প্রিজন ভ্যান হুইসেল বাজিয়ে পুরান ঢাকার রায়সাহেব বাজার মোড় হয়ে ঢাকার চিফ মেট্রপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালতের প্রধান ফটকে প্রবেশ করে।ঘড়ির কাঁটায় তখন রাত আটটা। প্রিজন ভ্যান ঢুকতে দেখে জাত..

ঢাকা, ২৪ জুলাই:

বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো একজন সাবেক প্রধান বিচারপতিকে গ্রেপ্তার করা হলো। বৃহস্পতিবার রাতে ধানমন্ডি থেকে গ্রেপ্তার হন এ বি এম খায়রুল হক। পরে তাঁকে নিয়ে যাওয়া হয় পুরান ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালতে। আদালতের আদেশে তাঁকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

রাত ঠিক ৮টা। নীল রঙের একটি প্রিজন ভ্যান হুইসেল বাজিয়ে রায়সাহেব বাজার মোড় অতিক্রম করে ঢাকার সিএমএম আদালতের মূল ফটকে প্রবেশ করে। প্রিজন ভ্যানটি প্রবেশ করার সময় জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের নেতারা সাবেক প্রধান বিচারপতির শাস্তির দাবিতে স্লোগান দিতে থাকেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ কড়া নিরাপত্তা গ্রহণ করে। আদালতের চারপাশ ঘিরে রাখা হয়, ফটকগুলো বন্ধ করে দেওয়া হয়, সেনাবাহিনীও অবস্থান নেয়।

হাজতখানায় নেওয়ার পর সাবেক প্রধান বিচারপতি খায়রুল হককে আদালতের ভেতরের একটি গোপন পথ দিয়ে সিঁড়ির কাছে আনা হয়। তাঁর দুই হাতে ছিল হাতকড়া, গায়ে ছিল বুলেটপ্রুফ জ্যাকেট, পরনে সাদা শার্ট ও কালো প্যান্ট। মাথা নিচু করে, দুই পুলিশ সদস্যের সহায়তায় তিনি তিনতলা আদালত ভবনের সিঁড়ি বেয়ে ওঠেন।

রাত ৮টা ১০ মিনিটে আদালতে প্রবেশ করেন অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. ছানাউল্লাহ। এ সময় আদালতের কাঠগড়ায় ছিলেন সাবেক প্রধান বিচারপতি। মাথা নিচু করে দাঁড়িয়ে ছিলেন তিনি। তাঁর পক্ষে কোনো আইনজীবী উপস্থিত ছিলেন না।

‘বিচার বিভাগের কলঙ্ক’ মন্তব্য আইনজীবীদের

বাদীপক্ষের পক্ষে ঢাকা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি ও জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের ঢাকা ইউনিটের সভাপতি খোরশেদ আলম বলেন,

> “ত্রয়োদশ সংশোধনী বাতিল করে বিচারপতি খায়রুল হক শেখ হাসিনাকে ফ্যাসিস্ট রূপ দিয়েছিলেন। তিনি ছিলেন আওয়ামী লীগের একজন কর্মীর মতো।”

 

তিনি বলেন,

> “এই বিচারপতি যদি তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিল না করতেন, তাহলে আজকের এই রাজনৈতিক দমন-পীড়নের পরিস্থিতি সৃষ্টি হতো না।”

 

অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর আজিজুল হক ও আবুল কালাম খানও সাবেক প্রধান বিচারপতিকে কারাগারে রাখার পক্ষে আদালতে যুক্তি তুলে ধরেন।

রাষ্ট্রদ্রোহ ও হত্যা মামলার আসামি

খায়রুল হকের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ রয়েছে। যাত্রাবাড়ী থানার একটি হত্যা মামলার পাশাপাশি তাঁর বিরুদ্ধে নারায়ণগঞ্জের বন্দর থানা, ফতুল্লা থানা এবং ঢাকার শাহবাগ থানায় রাষ্ট্রদ্রোহ ও শপথ ভঙ্গের অভিযোগে মামলা দায়ের হয়েছে। তদন্ত কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, তিনি একজন প্রভাবশালী ব্যক্তি। জামিন পেলে তদন্ত ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে বলে আদালতকে জানান তাঁরা।

আদালতে বিদ্যুৎ বিভ্রাট, প্রতিক্রিয়া

রাত ৮টা ৩০ মিনিটে আদালতের এজলাসকক্ষে হঠাৎ বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। আইনজীবীরা মোবাইল ফোনের ফ্ল্যাশলাইট জ্বালিয়ে আলো দেন। অন্ধকারে কাঠগড়ার পেছনে সরে যান খায়রুল হক। এ সময় তিনি মাথা নিচু করে আদালতের কার্যক্রম অনুসরণ করছিলেন।

বক্তব্য শেষে ম্যাজিস্ট্রেট জানান, যেহেতু খায়রুল হকের পক্ষে জামিন আবেদন করা হয়নি, তাই তাঁকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হচ্ছে।

প্রিজন ভ্যানে আবার যাত্রা

আদেশ ঘোষণার পর সাবেক প্রধান বিচারপতির মাথায় হেলমেট পরিয়ে তাঁকে আবার হাতকড়া পরানো হয়। পুলিশের দুই সদস্যের সহায়তায় তিনি তিনতলা থেকে নিচে নামেন। রাত ৯টার দিকে তাঁকে ফের প্রিজন ভ্যানে তোলা হয়। প্রিজন ভ্যানটি কেরানীগঞ্জ কেন্দ্রীয় কারাগারের উদ্দেশে রওনা হয়।

No comments found


News Card Generator