বন্দরে খুন ও ডাকাতির আতঙ্ক—আইনশৃঙ্খলা ফেরাতে সিসিটিভির চোখে নজরদারি শুরু
নারায়ণগঞ্জ জেলার বন্দর উপজেলা সম্প্রতি ভয়ঙ্কর অপরাধপ্রবণ এলাকায় পরিণত হয়েছে। গত এক মাসে এখানে সংঘটিত হয়েছে চারটি নির্মম হত্যাকাণ্ড, একটি ডাকাতি এবং একাধিক চুরির ঘটনা। এসব ঘটনায় জনমনে চরম উৎকণ্ঠা সৃষ্টি হয়েছে এবং প্রশ্ন উঠেছে এলাকার নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে।
এই পরিস্থিতির উত্তরণে প্রশাসন দ্রুত ব্যবস্থা নিয়েছে। ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের গুরুত্বপূর্ণ তিনটি পয়েন্টে — মদনপুর বাসস্ট্যান্ডসহ — মোট ১০টি সিসিটিভি ক্যামেরা বসানো হয়েছে। কর্মকর্তারা আশা করছেন, এতে করে অপরাধ প্রবণতা কমে আসবে এবং অপরাধীদের শনাক্ত করে দ্রুত আইনের আওতায় আনা সম্ভব হবে।
বন্দর উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, এই পর্যায়ে ১০টি সিসিটিভি বসানো হলেও আগামী মাসে আরও ৫টি গুরুত্বপূর্ণ স্থানে মোট ১৮টি ক্যামেরা বসানোর পরিকল্পনা রয়েছে। পর্যায়ক্রমে পুরো উপজেলাকে একটি সুরক্ষিত নজরদারির আওতায় আনার লক্ষ্য রয়েছে প্রশাসনের।
মঙ্গলবার উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. মোস্তাফিজুর রহমানের সভাপতিত্বে বন্দর উপজেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় এসব তথ্য জানানো হয়। তিনি বলেন, “সাম্প্রতিক অপরাধগুলো আমাদের নাড়া দিয়েছে। আমরা আর একটিও অপরাধ হতে দিতে পারি না। তাই নজরদারি জোরদার করতে হবে।”
শুধু চুরি-ডাকাতি নয়, বন্দরে মাদকের বিস্তারও প্রশাসনের দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। চলতি মাসেই বন্দর থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে ৯টি মামলা হয়েছে এবং ১২ জন মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসন যৌথভাবে এই অভিযান পরিচালনা করছে।
বন্দর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) লিয়াকত আলী বলেন, “আমরা একাধিক জায়গায় অভিযান চালিয়েছি। এলাকার মানুষকে নিরাপদ রাখতে পুলিশ সবসময় প্রস্তুত।”
আইনশৃঙ্খলা কমিটির এই সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. সরকার আশরাফুল ইসলাম, স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. আলাওল হক দীপু, সমাজসেবা কর্মকর্তা মো. ফয়সাল কবীর, মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আবদুল কাইয়ুম, প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা রেজাউল করিম, ফায়ার সার্ভিস কর্মকর্তা সঞ্চয় খান, বন্দর প্রেসক্লাবের সভাপতি আতাউর রহমান, সাধারণ সম্পাদক মাহফুজুল আলম জাহিদ এবং অর্থ সম্পাদক লতিফ রানা প্রমুখ।
সবার কণ্ঠেই ছিল একটাই আহ্বান— "অপরাধের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি নিতে হবে এবং সব অপরাধীকে আইনের আওতায় আনতে হবে।”
নতুন করে বসানো সিসিটিভি ক্যামেরাগুলো আধুনিক প্রযুক্তি সমৃদ্ধ। এগুলোতে নাইট ভিশন এবং ক্লিয়ার হাই-ডেফিনিশন ভিডিও রেকর্ডিংয়ের সুবিধা রয়েছে। ফলে রাতের বেলাতেও সন্দেহভাজনদের গতিবিধি নজরে রাখা সম্ভব হবে।
প্রশাসনের ভাষ্য অনুযায়ী, সিসিটিভির পাশাপাশি জনসচেতনতা বাড়ানো, কমিউনিটি পুলিশিং এবং এলাকাবাসীর সহযোগিতা পেলে অপরাধ দমন অনেকটাই সহজ হয়ে উঠবে।
বন্দরের সাম্প্রতিক অপরাধ প্রবণতা প্রশাসনকে যেমন নতুন করে ভাবতে বাধ্য করেছে, তেমনি প্রযুক্তির সহায়তায় এখন এলাকায় স্থায়ী নিরাপত্তার ছোঁয়া পাওয়ার আশা জাগছে। নতুন বসানো সিসিটিভি ক্যামেরা শুধু নজরদারিই নয়, অপরাধীদের জন্য ভয়ঙ্কর বার্তা— “তুমি নজরদারিতে আছো!”