হাইকোর্টের নির্দেশ—দেশের সব শিক্ষার্থীর আইডি কার্ডে অভিভাবকের ফোন নম্বর ও রক্তের গ্রুপ বাধ্যতামূলকভাবে যুক্ত করতে হবে।
দেশের শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা ও জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত যোগাযোগ নিশ্চিত করতে এবার বড় সিদ্ধান্ত নিলো হাইকোর্ট। ২০২৫ সালের ২২ জুলাই, মঙ্গলবার, বিচারপতি ফাহমিদা কাদের এবং বিচারপতি সৈয়দ জাহেদ মনসুরের নেতৃত্বাধীন হাইকোর্ট বেঞ্চ নির্দেশ দিয়েছেন, দেশের সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের আইডি কার্ডে অবশ্যই তাদের অভিভাবক বা বাবা-মায়ের ফোন নম্বর যুক্ত করতে হবে। পাশাপাশি আইডি কার্ডে শিক্ষার্থীদের রক্তের গ্রুপও স্পষ্টভাবে উল্লেখ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এই নির্দেশনা অবিলম্বে কার্যকর করতে বলা হয়েছে শিক্ষা সচিবকে। আদালতের মতে, অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনা, অসুস্থতা কিংবা জরুরি প্রয়োজনে দ্রুত পরিচয় ও অভিভাবকের সঙ্গে যোগাযোগ করতে এই পদক্ষেপ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
এই রায়ের সঙ্গে আরও কিছু গুরুত্বপূর্ণ আদেশও দিয়েছেন হাইকোর্ট। সম্প্রতি রাজধানীর উত্তরার দিয়াবাড়িতে মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর একটি প্রশিক্ষণ বিমান বিধ্বস্ত হয়ে হতাহতের ঘটনা ঘটে। এতে একাধিক শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবক আহত হন এবং অনেকে নিহত হন। এই মর্মান্তিক ঘটনায় হাইকোর্ট গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে এর প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে একটি বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠনের নির্দেশ দিয়েছে। সরকারকে এই কমিটি আগামী ৭ দিনের মধ্যে গঠন করতে বলা হয়েছে।
হাইকোর্টের আদেশে বলা হয়েছে—মাইলস্টোন স্কুলের নিহত শিক্ষার্থীদের পরিবারকে ৫ কোটি টাকা করে ক্ষতিপূরণ দিতে হবে এবং আহতদের জন্য ১ কোটি টাকা করে ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। আহতদের উন্নত চিকিৎসা নিশ্চিত করতে প্রয়োজন হলে বিদেশেও পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। পাশাপাশি দেশের প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আধুনিক অগ্নি নির্বাপক ব্যবস্থা নিশ্চিত করারও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ঢাকাসহ দেশের সব জনবহুল এলাকায় ত্রুটিপূর্ণ বিমান বা যুদ্ধবিমান উড্ডয়ন নিরাপদ কিনা, তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন আদালত। এ বিষয়ে একটি রুল জারি করে কারণ জানতে চাওয়া হয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে। একই সঙ্গে বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর অধীনে বর্তমানে কতগুলো বিমান ত্রুটিপূর্ণ আছে এবং এগুলোর রক্ষণাবেক্ষণের কী অবস্থা—তা জানাতে চাওয়া হয়েছে।
এই মামলায় রিট পক্ষে শুনানি করেন বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের ভাইস চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন, ব্যারিস্টার কায়সার কামাল, অ্যাডভোকেট গাজী কামরুল ইসলাম সজল ও অ্যাডভোকেট ছিদ্দিক উল্লাহ মিয়া। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল শফিকুর রহমান, সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল তানিম খান, ইকরামুল কবির ও মো. ঈসা।
রিট আবেদনটি জনস্বার্থে দায়ের করেন অ্যাডভোকেট আনিসুর রহমান রায়হান বিশ্বাস। তিনি আদালতে জানান, দেশের বিমান চলাচলে নিরাপত্তা ঘাটতি রয়েছে এবং ত্রুটিপূর্ণ বিমানের উড্ডয়ন জনজীবনের জন্য হুমকি হয়ে উঠেছে। তিনি এসব বিষয়ে তদন্ত ও প্রতিকার চেয়ে আবেদন করেন।
এই আদেশ বাংলাদেশের শিক্ষা ও জননিরাপত্তা ব্যবস্থায় একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। বিশেষ করে শিক্ষার্থীদের পরিচয়, রক্তের গ্রুপ এবং জরুরি যোগাযোগ নম্বর সংযুক্ত করে তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার এই উদ্যোগ প্রশংসনীয় বলে মনে করছেন অভিভাবক ও সচেতন মহল।