চার ঘণ্টা অবরুদ্ধের পর পুলিশি নিরাপত্তায় মাইলস্টোন স্কুল থেকে বের হলেন দুই উপদেষ্টা.. | আই নিউজ বিডি | বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ ও ভিডিও

চার ঘণ্টা অবরুদ্ধের পর পুলিশি নিরাপত্তায় মাইলস্টোন স্কুল থেকে বের হলেন দুই উপদেষ্টা..

আই নিউজ বিডি ডেস্ক  avatar   
আই নিউজ বিডি ডেস্ক
চার ঘণ্টা অবরুদ্ধের পর পুলিশি নিরাপত্তায় মাইলস্টোন স্কুল থেকে বের হলেন দুই উপদেষ্টা..
চার ঘণ্টা অবরুদ্ধের পর পুলিশি নিরাপত্তায় মাইলস্টোন স্কুল থেকে বের হলেন দুই উপদেষ্টা..
ছবি: সংগৃহীত
Advisors Asif Nazrul and CR Abrar faced intense student protests during their visit to the crash site at Milestone College. After four hours of confinement, police escorted them out safely.

বিমানবাহিনীর যুদ্ধবিমান বিধ্বস্তের ঘটনাস্থল পরিদর্শনে গিয়ে শিক্ষার্থীদের তীব্র বিক্ষোভের মুখে পড়েন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল ও সি আর আবরার। চার ঘণ্টা অবরুদ্ধ থাকার পর পুলিশের সহায়তায় ক্যাম্পাস ছাড়েন তারা।

ঢাকার উত্তরা মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে বিমানবাহিনীর একটি প্রশিক্ষণ যুদ্ধবিমান বিধ্বস্তের ঘটনায় পুরো ক্যাম্পাসজুড়ে যখন শোক, আতঙ্ক আর ক্ষোভ—ঠিক সেই মুহূর্তে ঘটনাস্থল পরিদর্শনে যান সরকারের আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল ও শিক্ষা উপদেষ্টা সি আর আবরার। তবে তাদের এই পরিদর্শন শিক্ষার্থীদের মাঝে নতুন করে উত্তেজনার সৃষ্টি করে।

সোমবার (২২ জুলাই) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে এই দুই উপদেষ্টা ক্যাম্পাসে প্রবেশ করেন। তারা সরেজমিনে কলেজের দুর্ঘটনাস্থল ঘুরে দেখেন এবং ঘটনাটি কীভাবে ঘটল, তা বোঝার চেষ্টা করেন। কিন্তু ফেরার সময় শিক্ষার্থীরা ‘ভুয়া ভুয়া’ স্লোগান দিতে শুরু করে। তাদের লক্ষ্য ছিল—প্রশাসনের ব্যর্থতায় ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীদের দীর্ঘদিনের ক্ষোভ ও হতাশা।

পরিস্থিতি দ্রুত উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। শিক্ষার্থীরা উপদেষ্টাদের ঘিরে ফেলে এবং তাদের ক্যাম্পাস ত্যাগে বাধা দেয়। উপদেষ্টারা তখন বাধ্য হয়ে কলেজের ৫ নম্বর ভবনের নিচতলায় কনফারেন্স রুমে আশ্রয় নেন, যা কলেজ উপাধ্যক্ষের কক্ষসংলগ্ন। সেখানে নিরাপত্তার স্বার্থে বেশ কিছু সময় আটকে থাকতে হয় তাদের।

এরপর কলেজ কর্তৃপক্ষ শিক্ষার্থীদের মধ্য থেকে ৫ থেকে ৭ জন প্রতিনিধিকে আলোচনার জন্য ভেতরে ডেকে নেয়। তবে এর মধ্যেই গুজব ছড়িয়ে পড়ে—উপদেষ্টারা এখনো ভবনের ভেতর অবস্থান করছেন। মুহূর্তেই কয়েক হাজার শিক্ষার্থী সেখানে জড়ো হন এবং ভবন ঘিরে তীব্র বিক্ষোভ শুরু করেন।

বিক্ষোভরত শিক্ষার্থীদের অভিযোগ ছিল—দুর্ঘটনার পরও কর্তৃপক্ষ দায়িত্বশীল আচরণ করেনি। উদ্ধার ও চিকিৎসার ক্ষেত্রে অবহেলা ছিল স্পষ্ট। শিক্ষার্থীদের আইডি কার্ডে না ছিল জরুরি নম্বর, না ছিল রক্তের গ্রুপ। সংকীর্ণ গেটের কারণে জরুরি সেবাদান দেরিতে শুরু হয়, যার ফলে হতাহতের সংখ্যা বাড়ে বলেও অভিযোগ ওঠে।

পরিস্থিতি সামাল দিতে পুলিশ মোতায়েন করা হয়। তবে শিক্ষার্থীদের ক্ষোভ এতটাই গভীর ছিল যে, শুরুতে কোনো আলোচনাই কাজে আসেনি। একাধিকবার প্রশাসনের পক্ষ থেকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা হলেও ছাত্রদের উত্তেজনা কিছুতেই প্রশমিত হয়নি।

অবশেষে বিকেল ৩টা ২৬ মিনিটের দিকে পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হলে পুলিশি নিরাপত্তায় আসিফ নজরুল ও সি আর আবরার ক্যাম্পাস ত্যাগ করেন। পুলিশের বিশেষ বাহিনী তাদের ঘিরে রেখে নিরাপদে বহির্গমন নিশ্চিত করে।

প্রসঙ্গত, সোমবার দুপুরে মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজের প্রাথমিক শাখার পাশেই বিমানবাহিনীর একটি প্রশিক্ষণ যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হয়। দুর্ঘটনায় বহু শিক্ষার্থী আহত হন এবং কয়েকজন নিহত হওয়ার খবরও জানা গেছে। এই ঘটনার পর থেকেই পুরো কলেজজুড়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে আতঙ্ক ও ক্ষোভ তীব্র আকার ধারণ করে।

অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন—বিমানবাহিনীর প্রশিক্ষণ বিমান কেন জনবহুল এলাকায় প্রশিক্ষণ চালায়, এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সংলগ্ন এলাকায় বিমান চলাচল কতটা নিরাপদ?

এই প্রশ্নের উত্তর এখনো মেলেনি, তবে স্পষ্ট হয়েছে শিক্ষার্থীদের মনে জমে থাকা ক্ষোভ, অব্যবস্থাপনা, আর প্রশাসনের ওপর আস্থাহীনতার চিত্র।

কোন মন্তব্য পাওয়া যায়নি


News Card Generator