শিক্ষাসচিব ও শিক্ষা উপদেষ্টার পদত্যাগ দাবি করে সচিবালয়ের সামনে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ, যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ। মাইলস্টোন কলেজ দুর্ঘটনার পরও পরীক্ষা স্থগিত না হওয়ায় ক্ষোভে ফেটে পড়ে তারা।
বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকার সচিবালয়ের প্রধান ফটকের সামনে আজ মঙ্গলবার দুপুর আড়াইটার দিকে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ প্রদর্শন শুরু হয়। তারা শিক্ষা উপদেষ্টা ও শিক্ষাসচিবের পদত্যাগের দাবি জানিয়ে বিভিন্ন স্লোগান দেন এবং সচিবালয়ের সব প্রবেশপথ বন্ধ করে দেয়। এতে সচিবালয়ের সামনে সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়, যা ঢাকা শহরের ব্যস্ততম এলাকা একটি।
বিক্ষোভে অংশগ্রহণকারীরা জানান, মাইলস্টোন কলেজে বিমান বিধ্বস্ত হয়ে ১৯ জন নিহত ও শতাধিক আহত হওয়ার পরও হঠাৎ করেই এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা স্থগিত করা হয়নি। শিক্ষার্থীদের একাংশ পরীক্ষা স্থগিত না করায় তাদের ওপর অসন্তোষ জন্মেছে। ক্যান্টনমেন্ট স্কুল অ্যান্ড কলেজের এইচএসসি পরীক্ষার্থী জোনায়েদ আহমেদ বলেন, “রাত তিনটার দিকে পরীক্ষার স্থগিতের সিদ্ধান্ত নেয়া উচিত ছিল। কিন্তু সকালে ঘুম থেকে উঠে শুনি পরীক্ষা স্থগিত হয়েছে, যা খুবই অসঙ্গতি এবং অবিবেচক সিদ্ধান্ত। এমন উপদেষ্টা আর সচিব আমরা দেখতে চাই না।”
বিক্ষোভরত শিক্ষার্থীরা সচিবালয়ের এক নম্বর গেটের সামনে ‘ভুয়া ভুয়া’ ও ‘আমার ভাই মরল কেন, প্রশাসন জবাব দে’ স্লোগান দেন। তাদের অভিযোগ, শিক্ষা ব্যবস্থাপনায় অবহেলা এবং দুর্ঘটনার পরও যথাযথ ব্যবস্থা না নেওয়ায় তারা ক্ষুব্ধ। আন্দোলনের কিছু শিক্ষার্থী ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের সামনে থেকে মিছিল নিয়ে আসেন এবং এসএসসি পরীক্ষায় অকৃতকার্য হওয়া শিক্ষার্থীরাও খাতা পুনঃমূল্যায়নের দাবিতে অংশগ্রহণ করেন।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সচিবালয়ের প্রতিটি গেটে অবস্থান নিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রেখেছেন। তবে গেটগুলো বন্ধ থাকায় ভেতরে থাকা যানবাহনগুলো আটকা পড়ে।
উল্লেখ্য, উত্তরার মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে বিমান বিধ্বস্ত হয়ে ঘটে যাওয়া দূর্যোগের পর সরকারের তরফ থেকে পরীক্ষার স্থগিতের সিদ্ধান্ত রাত পৌনে তিনটার দিকে দেয়া হয়। এটি প্রথম সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এবং পরে সরকারি বিভিন্ন দফতর থেকে নিশ্চিত করা হয়।
এখন শিক্ষার্থীরা এ বিষয়ে শিক্ষা উপদেষ্টা ও সচিবের অবিলম্বে পদত্যাগ এবং শিক্ষা ব্যবস্থায় সংস্কারের দাবি করছেন। তাদের এই আন্দোলন দেশের শিক্ষাব্যবস্থার প্রতি জনগণের উদ্বেগ এবং হতাশার বহিঃপ্রকাশ।