মাইলস্টোন স্কুল ও কলেজে বিমান বিধ্বস্তের ঘটনায় আইন ও শিক্ষা উপদেষ্টা শিক্ষার্থীদের রোষের মুখে পড়েছেন। শিক্ষার্থীরা সরকারি পদক্ষেপে অসন্তোষ প্রকাশ করে ছয় দফা দাবি উত্থাপন করেছে।
আজ মঙ্গলবার মাইলস্টোন স্কুল ও কলেজে বিমান বিধ্বস্ত ঘটনার তদন্ত ও পরিস্থিতি পরিদর্শনে আসা আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল এবং শিক্ষা উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. সি. আর. আবরার শিক্ষার্থীদের কঠোর তোপের মুখে পড়েছেন।
ঘটনাস্থল পরিদর্শনের জন্য সকাল সাড়ে ১০টার পর তারা যখন স্কুলে প্রবেশ করেন, তখনই শিক্ষার্থীরা ‘ভুয়া ভুয়া’ স্লোগান দিয়ে তাদের প্রতি অসন্তোষ প্রকাশ করে। শিক্ষার্থীদের এই রোষের মূল কারণ হিসেবে তারা মনে করেন, এই দুই উপদেষ্টা ক্ষতি পুষিয়ে নিতে এবং বিমান দুর্ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে দেরি করেছেন।
বিমান বিধ্বস্ত দুর্ঘটনায় নিহত ও আহত শিক্ষার্থীদের সঠিক সংখ্যা জানানো ও তাদের ক্ষতিপূরণের বিষয়টিতে শিক্ষার্থীরা গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। এ কারণে তারা মনে করছেন সরকার সত্য আড়াল করছে।
মাইলস্টোন স্কুল ও কলেজের শিক্ষার্থীরা এর আগে দিয়াবাড়ি গোলচত্বর এলাকায় ছয় দফা দাবি নিয়ে বিক্ষোভ করেছেন। এই দাবিগুলো হচ্ছে —
১. দুর্ঘটনায় নিহত শিক্ষার্থীদের সঠিক নাম ও পরিচয় অবিলম্বে প্রকাশ করতে হবে।
২. আহতদের সম্পূর্ণ ও নির্ভুল তালিকা প্রকাশ করতে হবে।
৩. ঘটনাস্থলে শিক্ষকদের ওপর সেনাসদস্যদের হাত তোলার অভিযোগে ক্ষতিপূরণসহ প্রকাশ্যে ক্ষমা চাইতে হবে।
৪. নিহত প্রত্যেক শিক্ষার্থীর পরিবারের জন্য বিমান বাহিনীর পক্ষ থেকে ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করতে হবে।
৫. বিমান বাহিনীর ব্যবহৃত পুরনো ও ঝুঁকিপূর্ণ বিমান বাতিল করে নিরাপদ ও আধুনিক বিমান চালু করতে হবে।
৬. বিমান বাহিনীর প্রশিক্ষণ ব্যবস্থা এবং প্রশিক্ষণ এলাকা মানবিক ও নিরাপদ পরিবেশে পুনর্বিন্যাস করতে হবে।
এই দাবিগুলোতে অসন্তোষ প্রকাশ করে শিক্ষার্থীরা প্রশাসনের প্রতি কঠোর বার্তা দিয়েছে।
ঘটনাস্থল থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, আজও উপদেষ্টারা স্কুলের ভিতরে অবস্থান করছেন এবং তারা কোনো সাংবাদিকের সঙ্গে কথা বলতে পারেননি। পরিস্থিতি এতটাই উত্তপ্ত যে, তারা শিক্ষার্থীদের রোষের মুখে পড়ে দ্রুত আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছেন।
বিমান বিধ্বস্ত দুর্ঘটনায় এখন পর্যন্ত ১৯ জন নিহত এবং প্রায় ১৬৪ জন আহত হয়েছেন। নিহতদের পরিবার ও বাকি আহতদের জন্য যথাযথ সহায়তা এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার জন্য শিক্ষার্থীদের আন্দোলন তীব্র হচ্ছে।
শিক্ষার্থীরা সরকারের কাছে দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণের দাবিতে সোচ্চার হয়েছে, যাতে ভবিষ্যতে এমন দুঃখজনক ঘটনা আর না ঘটে।