উত্তরায় বিমান বিধ্বস্তের ঘটনায় বার্ন ইনস্টিটিউটে নিরাপত্তা চরমে। ডাক্তার ও রোগীর স্বজন ছাড়া কারও প্রবেশে অনুমতি নেই।
রাজধানীর উত্তরা এলাকায় মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজের পাশেই একটি প্রশিক্ষণ বিমান বিধ্বস্তের মর্মান্তিক ঘটনায় দেশজুড়ে আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। এই দুর্ঘটনায় বহু হতাহতের পর, ঢাকার জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে আহতদের চিকিৎসা চলছে, এবং সেই সঙ্গে নিরাপত্তাও চরমভাবে জোরদার করা হয়েছে।
আজ সকাল থেকে ইনস্টিটিউটের মূল ফটকে সেনাবাহিনী, আনসার বাহিনী ও রোভার স্কাউট সদস্যদের কড়া প্রহরা লক্ষ্য করা গেছে। হাসপাতাল প্রাঙ্গণে প্রবেশে কঠোর কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে। শুধুমাত্র চিকিৎসক, হাসপাতালের কর্মকর্তা ও কর্মচারী এবং রোগীদের নিকট আত্মীয়—এমনকি পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পরই—তাদের প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হচ্ছে। এর বাইরে গণমাধ্যমকর্মী, সাধারণ দর্শনার্থী কিংবা জিজ্ঞাসু জনতার জন্য প্রবেশ একেবারে নিষিদ্ধ।
জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে সরেজমিনে দেখা গেছে, মূল প্রবেশপথে দাঁড়িয়ে থাকা নিরাপত্তাকর্মীরা প্রত্যেককে জিজ্ঞাসাবাদ করছেন এবং আইডি কার্ড বা প্রয়োজনীয় কাগজ ছাড়া কাউকে ভিতরে প্রবেশ করতে দেওয়া হচ্ছে না। এই পদক্ষেপ সাধারণ মানুষকে কিছুটা ভোগান্তিতে ফেললেও নিরাপত্তা বিবেচনায় সবার মধ্যেই ছিলো এক ধরণের গ্রহণযোগ্যতা।
তবে সকাল ৮টায় একটি নির্ধারিত ব্রিফিংয়ের জন্য অল্প সময়ের জন্য সাংবাদিকদের প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। সেসময় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সম্মিলিতভাবে উপস্থিত সাংবাদিকদের কাছে তথ্য তুলে ধরেন। ব্রিফিং শেষ হলে সঙ্গে সঙ্গে গণমাধ্যমকর্মীদের আবার ফটকের বাইরে বের করে দেওয়া হয়।
এদিকে দুর্ঘটনায় আহতদের রক্তের প্রয়োজন মেটাতে সকাল থেকেই ইনস্টিটিউটের সামনে বিপুলসংখ্যক রক্তদাতার ভিড় দেখা যায়। অনেকে স্বেচ্ছায় এসে দাঁড়িয়েছেন রক্তদানে অংশ নিতে। রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির সদস্যদের সেখানে উপস্থিত থেকে সম্ভাব্য রক্তদাতাদের তথ্য সংগ্রহ করতে দেখা গেছে। অনেকে নিজের পরিচয়, রক্তের গ্রুপ এবং ফোন নম্বর দিয়ে প্রস্তুতি নিচ্ছেন প্রয়োজনে রক্ত দিতে।
এই মুহূর্তে জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউট হয়ে উঠেছে নিরাপত্তার কেন্দ্রবিন্দু। কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, হাসপাতালের ভেতরে আতঙ্ক সৃষ্টি না করতে এবং চিকিৎসা কার্যক্রম ব্যাহত না হয়, সেজন্যই এমন কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
বিমান বিধ্বস্তের ভয়াবহতায় হাসপাতালের কর্মব্যস্ততা যেমন বেড়েছে, তেমনি নিরাপত্তা ও নিয়ন্ত্রণেও এসেছে নতুন মাত্রা। আহতদের সেবায় নিয়োজিত ডাক্তার ও নার্সদের মধ্যে ক্লান্তি স্পষ্ট হলেও, দায়িত্ববোধ থেকে কেউই পিছু হটছেন না। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, যতক্ষণ পর্যন্ত অবস্থা পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে না আসবে, ততক্ষণ পর্যন্ত এই নিরাপত্তা ব্যবস্থা বহাল থাকবে।
এই দুর্ঘটনার ফলে শহরের হাসপাতালগুলোর মধ্যে সবচেয়ে আলোচনায় উঠে এসেছে জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউট, যেখানে জীবন-মৃত্যুর সঙ্গে প্রতিনিয়ত লড়াই করে যাচ্ছে আহতরা এবং সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করছেন দেশের শ্রেষ্ঠ চিকিৎসকরা।