উত্তরায় মাইলস্টোন কলেজ ভবনে বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর একটি প্রশিক্ষণ বিমান বিধ্বস্ত হয়েছে। হতাহতদের দ্রুত উদ্ধার করতে মেট্রোরেলে বিশেষ বগি রিজার্ভ রাখা হয়েছে।
রাজধানীর উত্তরা এলাকায় ভয়াবহ দুর্ঘটনার শিকার হয়েছে বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর একটি প্রশিক্ষণ বিমান। সোমবার, ২১ জুলাই দুপুর ১টার কিছু পরে মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজ ক্যাম্পাসে বিমানটি বিধ্বস্ত হয়। এ ঘটনায় এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং মুহূর্তেই আগুন ধরে যায় বিধ্বস্ত বিমানে ও ভবনে।
বিমানটি যে ভবনে বিধ্বস্ত হয়, সেটি ছিল একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান— যেখানে দুর্ঘটনার সময় প্রচুর সংখ্যক শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিল। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্যমতে, বিকট শব্দে বিস্ফোরণের পর আগুন ছড়িয়ে পড়ে এবং ঘটনাস্থল জুড়ে ধোঁয়ায় ঢেকে যায় পুরো পরিবেশ। প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, শিক্ষার্থীদের অনেকে আহত হয়েছেন, এবং হতাহতের সংখ্যা বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
দুর্ঘটনার পরপরই ফায়ার সার্ভিসের একাধিক ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে কাজ শুরু করে। পাশাপাশি উদ্ধারকাজে অংশ নেয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, র্যাব এবং বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সদস্যরাও। বিশেষ করে ভবনের মধ্যে আটকে পড়া শিক্ষার্থীদের বের করে আনার কাজে সর্বাত্মক তৎপরতা চালানো হয়।
দ্রুত ও নিরাপদে আহতদের হাসপাতাল পর্যন্ত পৌঁছে দিতে মেট্রোরেল কর্তৃপক্ষ এক বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। পুলিশ সদর দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, মেট্রোরেলের নারী বগির পাশের একটি বগি বিশেষভাবে রিজার্ভ রাখা হয়েছে আহতদের বহনের জন্য। রাজধানীর যানজট ও সময়ের সংকট বিবেচনায় এই ব্যবস্থা তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্তের অংশ ছিল বলে জানানো হয়।
উল্লেখ্য, বিমানটি বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর একটি প্রশিক্ষণ বিমান ছিল, যা নিয়মিত প্রশিক্ষণের অংশ হিসেবে ওড়ানো হচ্ছিল। কিন্তু কী কারণে এটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে স্কুল ভবনে আছড়ে পড়ল, তা নিয়ে তদন্ত শুরু হয়েছে। বিমান বাহিনী ও সংশ্লিষ্ট তদন্ত কমিটি দুর্ঘটনার পেছনের কারণ অনুসন্ধানে ইতোমধ্যে কাজ শুরু করেছে।
এদিকে দুর্ঘটনার খবরে অভিভাবকরা ছুটে আসেন ঘটনাস্থলে। অনেকে সন্তানদের খোঁজে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন। ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা গেছে, আহতদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। তাদের দ্রুত চিকিৎসার জন্য শহরের বিভিন্ন হাসপাতালে পাঠানো হয়।
ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনায় প্রশাসনের পক্ষ থেকে মেট্রোরেল, ফায়ার সার্ভিস, পুলিশ এবং বিমানবাহিনীর মধ্যে সমন্বয় করে দ্রুত উদ্ধার কার্যক্রম চালানো হয়। রাজধানী ঢাকার ব্যস্ত এলাকায় এমন একটি দুর্ঘটনা শহরবাসীর মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে দেয়।
এই দুর্ঘটনা দেশের জন্য একটি দুঃখজনক অধ্যায় হিসেবে চিহ্নিত হতে যাচ্ছে। প্রাথমিকভাবে হতাহতের সঠিক সংখ্যা জানা না গেলেও, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে নিয়মিত আপডেট দেওয়া হচ্ছে।
এখন দেশবাসীর প্রত্যাশা, যেন আহত শিক্ষার্থীরা দ্রুত সুস্থ হয়ে ওঠে এবং এমন দুর্ঘটনা যেন আর না ঘটে, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করে।