চট্টগ্রামের ডিসি ফরিদা খানম বলেছেন, নতুন বাংলাদেশ গড়তে হলে সবাইকে জুলাই বিপ্লবের চেতনা হৃদয়ে ধারণ করতে হবে। তিনি শহীদদের স্মরণে নির্মিত স্মৃতিস্তম্ভের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন।
চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক ফরিদা খানম বলেছেন, বৈষম্য ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে মানবিক ও সমতা ভিত্তিক বাংলাদেশ গড়তে হলে সবাইকে ‘জুলাই বিপ্লবের চেতনা’ অন্তরে ধারণ করতে হবে। সোমবার (১ জুলাই) বিকেলে চট্টগ্রাম নগরীর পাঁচলাইশ এলাকার ‘জুলাই স্মৃতি উদ্যান’-এ গণঅভ্যুত্থানে শহীদ ছাত্র-জনতার স্মরণে নির্মিতব্য স্মৃতিস্তম্ভের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।
অনুষ্ঠানে ডিসি ফরিদা খানম বলেন, “জুলাই-আগস্ট মাসে যে গণজাগরণ ঘটেছিল, তা ছিল এক ঐতিহাসিক মাইলফলক। ছাত্র-তরুণরা ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে বুক চিতিয়ে দাঁড়িয়েছিলেন। তাদের ত্যাগ জাতি আজীবন মনে রাখবে।তিনি আরও বলেন, শুধু স্মরণ নয়, এই আত্মত্যাগের আদর্শকে ধারণ করে আমাদের ভবিষ্যৎ নির্মাণ করতে হবে। বৈষম্যহীন সমাজ গড়ে তুলতে হবে। যেখানে প্রতিটি মানুষের অধিকার নিশ্চিত হবে।
তিনি বলেন, যারা তখন শহীদ হয়েছেন বা আহত হয়েছেন, তাদের প্রতি রাষ্ট্রের দায়িত্ব রয়েছে। সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা সম্ভব না হলে বেসরকারি হাসপাতালে তাদের চিকিৎসা নিশ্চিত করা হবে। এমনকি দেশের বাইরে চিকিৎসার প্রয়োজন হলে, সরকার সে ব্যবস্থা করবে। শুধু তাই নয়, আহতদের নগদ অর্থ সহায়তাও দেওয়া হবে।
জেলা প্রশাসক আরও বলেন, সরকার ইতিমধ্যে এ বিষয়ে উচ্চপর্যায়ে সিদ্ধান্ত নিয়েছে। যারা এই আন্দোলনে প্রাণ দিয়েছেন বা আহত হয়েছেন, তারা দেশের জন্য লড়েছেন। তাঁদের প্রতি আমাদের দায়িত্ব শুধু শ্রদ্ধা জানানো নয়—সম্মান, চিকিৎসা ও স্বীকৃতির মাধ্যমে তাঁদের মর্যাদা রক্ষা করা।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শহীদ ফয়সাল আহমেদ শান্তর মা কোহিনুর আকতার। তিনি আবেগাপ্লুত কণ্ঠে বলেন, আমার ছেলে এই দেশের জন্য জীবন দিয়েছে। আজকে সরকার তার স্মরণে স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ করছে, এটা আমার কাছে গর্বের।
এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি আবদুস সাত্তার, স্থানীয় সরকার উপ-পরিচালক মো. নোমান হোসেন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. কামরুজ্জামান, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট সৈয়দ মাহবুবুল হক, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) শরীফ উদ্দীন এবং অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) সাদিউর রহিম জাদিদ।
স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণের মাধ্যমে চট্টগ্রামের এই অংশে নতুন প্রজন্মের মধ্যে আন্দোলনের ইতিহাস ও আত্মত্যাগের গুরুত্ব তুলে ধরা হবে বলে জানানো হয় আয়োজকদের পক্ষ থেকে।
জুলাই গণঅভ্যুত্থান শুধু একটি আন্দোলন নয়, এটি এক রক্তাক্ত ইতিহাস—যা আমাদের আজও দিক নির্দেশনা দেয় অন্যায়ের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর।