আর এই ফ্র্যাঞ্চাইজি যুগে যেখানে ক্রিকেটের ভারসাম্য সাদা পোশাকে টিকিয়ে রাখা কঠিন, সেখানে অস্ট্রেলিয়ার মিচেল স্টার্ক ১২ জুলাই (শনিবার) ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে নামতে যাচ্ছেন নিজের শততম টেস্ট খেলতে।
২০১১ সালে ব্রিসবেনে অভিষেকের পর দীর্ঘ ১৩ বছরের পথচলা। এই সময়ে স্টার্ক হয়ে উঠেছেন অস্ট্রেলিয়ার বোলিং আক্রমণের নির্ভরতার নাম। এখন পর্যন্ত টেস্টে ৪৯৫ উইকেট নিয়েছেন বাঁহাতি এই পেসার, যার ৭৪টি এসেছে গোলাপি বলে—অর্থাৎ ডে-নাইট টেস্টে, যা তার অন্যতম প্রিয়। আর তাই শততম ম্যাচটিও হতে যাচ্ছে পিংক বলে, দিবা-রাত্রির আলাদা এক মাহাত্ম্যে।
এই মাইলফলকে পৌঁছে স্টার্ক লিখছেন অস্ট্রেলিয়ান ইতিহাসের এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। তিনি হচ্ছেন গ্লেন ম্যাকগ্রার পর দ্বিতীয় অজি পেসার, এবং মোট ১৬তম অস্ট্রেলিয়ান যিনি খেলতে যাচ্ছেন শততম টেস্ট।
এই অর্জনের আগে নিজের অনুভূতি জানাতে গিয়ে ক্রিকইনফোকে স্টার্ক বলেন, “মনে হচ্ছে বুড়ো হয়ে গেছি। কোনো দিনই ভাবিনি এতগুলো টেস্ট খেলতে পারব। শরীরের যত্ন নেওয়ার চেষ্টা করেছি, আর দলে নিজের জায়গা ধরে রাখতে অনেক কষ্ট করেছি। যন্ত্রণার ভিতর দিয়েও পথ খুঁজে নিয়েছি।”
তিনি আরও বলেন, “অধিকাংশ দিনই কিছু ক্ষত আর ব্যথা থাকে। সেগুলো দূর করতে কখনো ওষুধ খেয়েছি। শিখেছি, কী পারি আর কী পারি না। আমি কখনও এমন কিছু করি না, যা নিজের বিশ্বাসের বাইরে।”
স্টার্কের এই দীর্ঘ যাত্রায় পরিবার, কোচ, ফিজিও এবং সতীর্থদের অবদানকেও কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করেছেন তিনি।
একটা কথা নিশ্চিতভাবে বলা যায়—এই টেস্ট স্টার্কের জন্য শুধু আরেকটি ম্যাচ নয়, এটি তার অধ্যবসায়ের, প্রতিজ্ঞার, এবং অবিচল থেকে অস্ট্রেলিয়ার জন্য নিবেদিত থাকার এক উজ্জ্বল স্বীকৃতি।