জামালপুরের বকশীগঞ্জ সীমান্ত দিয়ে ভারতীয় সীমান্তরক্ষা বাহিনী (বিএসএফ) সাত জন বাংলাদেশি নাগরিককে পুশইন করেছে বলে জানা গেছে। বৃহস্পতিবার ভোরের দিকে ধানুয়া কামালপুর সীমান্তের ১০৮৩ নম্বর পিলারের কাছ দিয়ে তাদের দেশে পাঠানো হয়। এই সাতজনের মধ্যে চারজন নারী এবং তিনজন পুরুষ রয়েছেন।
আটকদের পরিচয় অনুযায়ী তারা হলেন: খুলনার খালিশপুর উপজেলার নূর নগর বিশ্বাসপাড়ার মৃত সোহাগ মিয়ার মেয়ে সুমি আক্তার (৩০) এবং তার বোন রুমি আক্তার সোহাগী (২০), বরগুনার পাথরঘাটা উপজেলার ঘুটাবাছা গ্রামের রুস্তম খানের মেয়ে মায়া বেগম (৩২), বাগেরহাটের মোড়লগঞ্জ উপজেলার পাটমারা গ্রামের বেলায়েত খান (৫৫) ও তার ছেলে মোহাম্মদ ইসলাম (২২), গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর উপজেলার বগাইল গ্রামের মেহেবুব আলমের স্ত্রী তাসলিমা (৫০) ও তার ছেলে কুরবান আলী (২৫)।
ধানুয়া কামালপুর ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য মোতালেব মিয়া এই ঘটনার বিষয়ে বলেন, 'ভারত থেকে সাতজনকে পুশইনের খবর পেয়েই লোকজন নিয়ে সীমান্তে যাই। ধানুয়া কামালপুর সীমান্তের ১০৮৩ নম্বর পিলারের কাছে চারজন নারী ও তিনজন পুরুষকে দেখে বিজিবিকে খবর দেই। পরে বিজিবির সদস্যরা এসে তাদের আটক করেন।'
পুশইন হওয়া ব্যক্তিরা জানান, ২০২১ সালে কোভিড-১৯ মহামারির সময় তারা ভারতে গিয়েছিলেন এবং দিল্লিতে অবস্থান করছিলেন। বিএসএফ তাদের সীমান্ত পার করে দেয়ার পর তারা বাংলাদেশে প্রবেশ করেন।
বকশীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খন্দকার শকের আহাম্মেদ জানান, 'বিজিবি সাতজনকে থানায় হস্তান্তর করেছে। তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। যাচাই-বাছাই করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।'
বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে পুশইন একটি সংবেদনশীল বিষয়, যা দুই দেশের মধ্যে রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক সম্পর্কে প্রভাব ফেলতে পারে। এছাড়া এটি মানবাধিকার লঙ্ঘনেরও উদাহরণ হতে পারে। সীমান্ত পরিস্থিতি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে উভয় দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীকে আরও সতর্ক ও সমন্বিত পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।
এই ধরনের ঘটনা ভবিষ্যতে এড়াতে উভয় দেশের মধ্যে কূটনৈতিক আলোচনা এবং সম্পর্ক উন্নয়ন অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। এছাড়া, পুশইন হওয়া ব্যক্তিদের মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে দেখা এবং তাদের সুরক্ষা নিশ্চিত করাও জরুরি।