চীনের একটি কিন্ডারগার্টেনে খাবারে খাওয়ার অযোগ্য রং মেশানোর কারণে সিসার বিষক্রিয়ায় আক্রান্ত হয়েছে ২৩৩ শিশু। জাতীয় সুরক্ষা সীমার চেয়ে ২,০০০ গুণ বেশি সিসা শনাক্ত হওয়ায় আটজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
চীনের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের গানসু প্রদেশের তিয়ানশুই শহরে অবস্থিত একটি কিন্ডারগার্টেনে ঘটে গেছে ভয়ংকর এক ঘটনা। খাবারে খাওয়ার অযোগ্য রং ব্যবহার করার ফলে বিষাক্ত সিসার সংস্পর্শে এসে অসুস্থ হয়ে পড়ে অন্তত ২৩৩ শিশু। ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর দেশজুড়ে শুরু হয় তীব্র সমালোচনা ও আতঙ্ক।
পেইজিন কিন্ডারগার্টেন নামের ওই স্কুলে শিশুদের খাওয়ানো হয়েছিল ভাপানো খেজুরের লাল কেক এবং সসেজ কর্ন বান। পরে অসুস্থ হয়ে পড়া শিক্ষার্থীদের রক্ত পরীক্ষা করে দেখা যায়, তাদের শরীরে উচ্চমাত্রায় সিসা রয়েছে। চীনের স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা বিধি অনুযায়ী, প্রতি কেজি খাবারে সর্বোচ্চ ০.৫ মিলিগ্রাম সিসা থাকার কথা থাকলেও, ওই স্কুলের খাবারে প্রতি কেজিতে ১,০৫২ থেকে ১,৩৪০ মিলিগ্রাম পর্যন্ত সিসা পাওয়া গেছে।
পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়, স্কুলটির অধ্যক্ষ রান্নার কর্মীদের অনলাইনে খাবারে ব্যবহারের জন্য রং কিনতে বলেছিলেন। কিন্তু সেই রং ছিল স্পষ্টভাবে 'খাওয়ার অযোগ্য' হিসেবে লেবেলযুক্ত। পরে পুলিশ গোপনে লুকিয়ে রাখা জিনিসপত্র খুঁজে পেয়ে এই রং জব্দ করে।
ঘটনার পর স্কুলটির অধ্যক্ষসহ আরও সাতজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে বিষাক্ত ও ক্ষতিকর খাবার উৎপাদন ও সরবরাহের অভিযোগে তদন্ত শুরু হয়েছে। অভিযুক্তদের মধ্যে রয়েছে কিন্ডারগার্টেনটির প্রধান বিনিয়োগকারীও। তদন্তের অংশ হিসেবে রান্নাঘরের সিসিটিভি ফুটেজ প্রকাশ করেছে চীনের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম, যেখানে স্পষ্ট দেখা যায়—রান্নার কর্মীরা খাবারে সেই রং মেশাচ্ছে।
লিউ নামের এক অভিভাবক বলেন, “আমার ছেলে অসুস্থ বোধ করছিল। পরে পরীক্ষা করে দেখা গেল তার লিভার ও পাচনতন্ত্রে সিসার প্রভাব রয়েছে। এখন তার ১০ দিনের চিকিৎসা ও ওষুধ দরকার।” তিনি আরও জানান, মার্চ মাস থেকেই তার সন্তান পেট ও পায়ের ব্যথায় ভুগছিল, কিন্তু তখন বিষয়টি পরিষ্কার বোঝা যায়নি।
অন্যান্য অভিভাবকরাও অভিযোগ করেছেন যে, কয়েক মাস ধরেই তাদের সন্তানরা ক্ষুধামন্দা ও দুর্বলতার অভিযোগ করে আসছিল। এরপরই স্থানীয় প্রশাসনের কাছে অভিযোগ জানানো হয় এবং তদন্ত শুরু হয়।
তিয়ানশুই শহরের মেয়র লিউ লিজিয়াং বলেন, “এই ঘটনার মাধ্যমে আমাদের খাদ্য নিরাপত্তা ব্যবস্থার দুর্বলতা ও গাফিলতি প্রকাশ পেয়েছে। এ থেকে আমাদের শিক্ষা নিতে হবে এবং ভবিষ্যতে যেন এমন ঘটনা আর না ঘটে, তার ব্যবস্থা নিতে হবে।”
তবে এখনো স্পষ্ট নয়—এই বিষাক্ত রং কতদিন ধরে ব্যবহৃত হচ্ছিল এবং এর পরিমাণ কত ছিল। স্থানীয় প্রশাসন এবং কেন্দ্রীয় খাদ্য নিরাপত্তা সংস্থাগুলো এ ঘটনার পূর্ণ তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে।