বুয়েট শিক্ষার্থীরা সহকারী প্রকৌশলী পদে বৈষম্য ও পদোন্নতির অনিয়ম বন্ধে তিন দফা দাবিতে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছেন। তারা দাবি করছেন, বিএসসি ডিগ্রিধারীদের পেশাগত অধিকার খর্ব করা হচ্ছে কোটার নামে অবৈধ পদোন্নতির মাধ্যমে।
বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট)-এর শিক্ষার্থীরা দেশের প্রকৌশল খাতে দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা বৈষম্যের বিরুদ্ধে রীতিমতো প্রতিবাদে ফেটে পড়েছেন। তিন দফা দাবিতে তারা মঙ্গলবার (৮ জুলাই) সকাল ১১টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত রেজিস্ট্রার ভবনের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন এবং দুপুর ১২টা ৩০ মিনিটে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে তাদের বক্তব্য উপস্থাপন করেন।
লিখিত বক্তব্যে শিক্ষার্থীরা বর্তমান ইঞ্জিনিয়ারিং পেশার অবমূল্যায়ন, ডিপ্লোমা ডিগ্রিধারীদের অনিয়মতান্ত্রিক পদোন্নতি এবং বিএসসি প্রকৌশলীদের অধিকার হরণ বিষয়ে স্পষ্ট চিত্র তুলে ধরেন।
তাদের অভিযোগ অনুযায়ী, নিয়ম বহির্ভূতভাবে উপ-সহকারী প্রকৌশলীদের অতিরিক্ত পদোন্নতির ফলে বিএসসি ডিগ্রিধারীদের জন্য সহকারী প্রকৌশলী (৯ম গ্রেড) পদে প্রবেশের সুযোগ দিন দিন সংকুচিত হয়ে যাচ্ছে। এমনকি প্রকাশিত নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি বাতিল করে এসব পদে সরাসরি পদোন্নতি দেওয়া হচ্ছে, যা সংবিধানে উল্লিখিত ‘সুযোগের সমতা’র পরিপন্থী।
শিক্ষার্থীরা আরও বলেন, বিসিএস পরীক্ষায় অংশগ্রহণ না করেও শুধু কোটার সুবিধা নিয়ে অনেক ডিপ্লোমা ডিগ্রিধারী সহকারী প্রকৌশলী (বিসিএস ক্যাডার) পদে চলে আসছেন এবং প্রকৃত বিসিএস প্রকৌশলীদের ওপর কর্তৃত্ব স্থাপন করছেন। উদাহরণস্বরূপ, ৪৭তম বিসিএসে সহকারী প্রকৌশলী (সিভিল) পদে মাত্র ১টি পদ থাকলেও, সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের স্মারক অনুযায়ী ২৯ জন উপ-সহকারী প্রকৌশলীকে “চলতি দায়িত্ব” দেওয়া হয়েছে।
বুয়েট শিক্ষার্থীরা আরও বলেন, বাংলাদেশের ন্যাশনাল কোয়ালিফিকেশনস ফ্রেমওয়ার্ক (BNQF) অনুসারে ডিপ্লোমা ডিগ্রি লেভেল ৬ এবং বিএসসি ইঞ্জিনিয়ারিং ডিগ্রি লেভেল ৭ এ অবস্থান করে। কিন্তু নিম্নতর লেভেলের ডিপ্লোমা ডিগ্রিধারীরা যেখানে ১০ম গ্রেডের পদে আবেদন করতে পারেন, সেখানে উচ্চতর লেভেলের বিএসসি ডিগ্রিধারীদের সেই সুযোগ নেই — যা চরম বৈষম্যের উদাহরণ। প্রতিবেশী দেশগুলোতে এমন বৈষম্যের উদাহরণ নেই বলেও তারা জানান।
শুধু তাই নয়, “প্রকৌশলী” পদবির অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহার নিয়ে শিক্ষার্থীরা উদ্বেগ প্রকাশ করেন। সরকারি গেজেট অনুযায়ী শুধুমাত্র বিএসসি ইঞ্জিনিয়ারিং ডিগ্রিধারীরাই “প্রকৌশলী” পদবি ব্যবহার করতে পারেন, কিন্তু মাঠ পর্যায়ে তা মানা হচ্ছে না বলেও অভিযোগ করেন তারা।
১. সহকারী প্রকৌশলী (৯ম গ্রেড) পদে প্রবেশের জন্য সকলকে প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার মাধ্যমে উত্তীর্ণ হতে হবে এবং আবেদনকারীর ন্যূনতম শিক্ষাগত যোগ্যতা হতে হবে বিএসসি ইঞ্জিনিয়ারিং। কোটার মাধ্যমে কিংবা অন্য নামে সমমান পদ সৃজন করে পদোন্নতি বন্ধ করতে হবে।
২. উপ-সহকারী প্রকৌশলী (১০ম গ্রেড) পদের জন্য ডিপ্লোমা এবং বিএসসি — উভয় ডিগ্রিধারীদের জন্য আবেদন উন্মুক্ত করতে হবে।
৩. “প্রকৌশলী” পদবি ব্যবহার করার জন্য ন্যূনতম শিক্ষাগত যোগ্যতা নির্ধারণ করে আইনি গেজেট প্রকাশ করতে হবে, যাতে শুধুমাত্র বিএসসি ইঞ্জিনিয়ারিং ডিগ্রিধারীরাই তা ব্যবহার করতে পারেন।
শিক্ষার্থীরা আশা প্রকাশ করেন, প্রধান উপদেষ্টার দ্রুত হস্তক্ষেপ ও কার্যকর পদক্ষেপের মাধ্যমে দীর্ঘদিনের এ বৈষম্য অবসান হবে এবং প্রকৌশল পেশার মর্যাদা পুনরুদ্ধার পাবে।