বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে দাঁড়িয়ে আছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। দীর্ঘ ১৭ বছর পর দেশ ফেরা নিয়ে জোর চর্চা চলছে। দলীয় সূত্র থেকে জানা গেছে, তারেক রহমান শিগগিরই দেশে ফিরে আসবেন। যদিও তার প্রত্যাবর্তনের সঠিক দিনক্ষণ এখনো জানানো হয়নি, তবে দলীয় শীর্ষ নেতৃত্ব বলছেন, প্রয়োজনীয় সকল প্রস্তুতি চলছে। প্রত্যাবর্তনের সময় নির্ধারণে রাজনৈতিক বাস্তবতা, নির্বাচনী পরিস্থিতি এবং ব্যক্তিগত নিরাপত্তা মূল বিবেচ্য বিষয়।
সূত্র মতে, তারেক রহমান আগামী আগস্ট মাসের শেষ দিকে দেশে ফিরে আসতে পারেন, যদিও এটি চূড়ান্ত নয়। দেশের রাজনৈতিক অবস্থা, আসন্ন জাতীয় নির্বাচন এবং নিরাপত্তা বিষয়ক বিবেচনায় তার আগমনের সঠিক সময় নির্ধারিত হবে। গুলশানে ১৯৬ নম্বর বাড়িটি তারেক রহমানের থাকার জন্য সাজানো হচ্ছে।
২০০৭ সালের ৭ মার্চ তারেক রহমান গ্রেপ্তার হন এবং পরবর্তীতে ২০০৮ সালে জামিনে মুক্তি পেয়ে লন্ডনে চলে যান চিকিৎসার জন্য। তারপর থেকে তিনি সেখানে অবস্থান করছেন। স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী জানিয়েছেন, দীর্ঘ ১৭ বছর পর তার দেশে ফেরার জন্য আর কোনো আইনি বাধা নেই।
বিএনপির বিভিন্ন স্তরের নেতারা তারেক রহমানের প্রত্যাবর্তনের ব্যাপারে ইতোমধ্যে প্রস্তুতি ঘোষণা করেছেন। মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং যুগ্ম মহাসচিব শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানিও উভয়েই নিশ্চিত করেছেন তার দেশে ফেরার ব্যাপারে।
একজন রাজনৈতিক বিশ্লেষক মনে করেন, তারেক রহমানের প্রত্যাবর্তন দুটি সম্ভাবনার ওপর নির্ভর করবে—নির্বাচনে জয়ী হয়ে রাজকীয়ভাবে দেশে ফেরা অথবা সরকারের ওপর রাজনৈতিক চাপ তৈরির কৌশল হিসেবে ফেরার পরিকল্পনা। চলতি বছরের শেষ বা আগামী বছরের শুরুতে নির্বাচন তফসিল ঘোষণার সময়কেই দল তার প্রত্যাবর্তনের জন্য উপযুক্ত মনে করছে।
দলের ভেতরে আবার পুরোনো স্লোগান ‘তারেক রহমান বীরের বেশে, আসবে ফিরে বাংলাদেশে’ ফিরে এসেছে, যা নতুন রাজনৈতিক উত্তেজনা ও প্রত্যাশা তৈরি করছে। তবে বাস্তবতার আলোকে তার ফেরার সঠিক তারিখ এখনও গোপন রহস্যই রয়ে গেছে।
তারেক রহমানের দেশে ফেরার প্রস্তুতি নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে উত্তেজনা ক্রমেই বাড়ছে, এবং আগামী দিনগুলোতে এ নিয়ে আরও স্পষ্টতা আসার প্রত্যাশা করা হচ্ছে।