কার্নিশে ঝুলে থাকা তরুণকে গুলি , সাবেক এডিসি রাশেদসহ ৫ জনের বিরুদ্ধে তদন্ত শেষ.. | আই নিউজ বিডি | বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ ও ভিডিও

কার্নিশে ঝুলে থাকা তরুণকে গুলি , সাবেক এডিসি রাশেদসহ ৫ জনের বিরুদ্ধে তদন্ত শেষ..

আই নিউজ বিডি ডেস্ক  avatar   
আই নিউজ বিডি ডেস্ক
কার্নিশে ঝুলে থাকা তরুণকে গুলি ,  সাবেক এডিসি রাশেদসহ ৫ জনের বিরুদ্ধে তদন্ত শেষ..
কার্নিশে ঝুলে থাকা তরুণকে গুলি ,  সাবেক এডিসি রাশেদসহ ৫ জনের বিরুদ্ধে তদন্ত শেষ..
ছবি: সংগৃহীত
ঢাকায় ছাদের কার্নিশে ঝুলে থাকা আমির হোসেনকে গুলির ঘটনায় সাবেক এডিসি রাশেদসহ ৫ জনের বিরুদ্ধে তদন্ত শেষ। চার্জশিট জমার প্রস্তুতি নিচ্ছে ট্রাইব্যুনাল।..

রাজধানীর আলোচিত ‘কার্নিশে ঝুলে থাকা তরুণকে গুলি’ মামলায় তদন্ত শেষ করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) একটি তদন্তকারী দল। এ মামলায় মতিঝিল জোনের সাবেক সহকারী উপ-পুলিশ কমিশনার (এডিসি) রাশেদসহ পাঁচজনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে দ্রুতই এই মামলার চার্জশিট জমা দেওয়া হবে বলে নিশ্চিত করেছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

ঘটনাটি ঘটেছিল গত বছরের ১৯ জুলাই, বিকেলবেলা। ঢাকার রামপুরা এলাকায় চলছিল ছাত্র-জনতার বিক্ষোভ। আন্দোলনের উত্তেজনায় আতঙ্কিত হয়ে ১৮ বছর বয়সী তরুণ আমির হোসেন আশ্রয় নেন এক নির্মাণাধীন চারতলা ভবনের ছাদে। নিজের প্রাণ বাঁচাতে ছাদের কার্নিশের রড ধরে ঝুলে পড়েন তিনি। কিন্তু আশ্চর্যজনকভাবে তখনই একজন পুলিশ সদস্য তার দিকে টানা ছয়টি গুলি ছোঁড়ে বলে অভিযোগ ওঠে।

সেদিন হোটেলে কাজ শেষে আমির ফিরছিলেন ঢাকায় অবস্থানরত ফুফুর বাসায়। বনশ্রী-মেরাদিয়া সড়কে আন্দোলনের উত্তাল পরিবেশ দেখে তিনি নিরাপত্তার জন্য এক নির্মাণাধীন ভবনের ছাদে আশ্রয় নেন। তিনি যখন ভবনের কার্নিশ ধরে ঝুলে ছিলেন, তখন পুলিশ সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে যান। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ছাদ থেকে নামার সুযোগ না দিয়ে পুলিশ আমিরকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। গুলিবিদ্ধ অবস্থায় ছাদের নিচে পড়ে যান তিনি।

স্থানীয় বাসিন্দারা চিৎকার শুনে ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। আমিরকে উদ্ধার করে বনশ্রীর একটি স্থানীয় হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে রাতেই তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরলেও সে দিনের মানসিক যন্ত্রণা আজও তাড়া করে বেড়ায় তাকে।

এই নির্মম ঘটনায় ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনার ঝড় ওঠে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠনের মাঝে। পরে ২০২৫ সালের ২৬ জানুয়ারি, ডিএমপির একটি বিশেষ দল আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর তানভীর হাসান জোহার নেতৃত্বে অভিযুক্ত সাবেক সহকারী সাব-ইন্সপেক্টর (এএসআই) চঞ্চল সরকারকে খাগড়াছড়ির দীঘিনালা থেকে গ্রেপ্তার করে।

তদন্ত সংশ্লিষ্টরা জানায়, এ ঘটনায় সাবেক এডিসি রাশেদসহ মোট পাঁচজন পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে দায়িত্বে অবহেলা, অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ এবং বেআইনি গুলিবর্ষণের মতো গুরুতর অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত সম্পন্ন হয়েছে। বর্তমানে মামলার তদন্ত শেষ পর্যায়ে রয়েছে। প্রমাণ, প্রত্যক্ষদর্শীর বিবৃতি এবং মেডিকেল রিপোর্ট বিশ্লেষণ করে চার্জশিট প্রস্তুত করা হয়েছে, যা দ্রুতই আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে জমা দেওয়া হবে।

বাংলাদেশের বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন ইতোমধ্যে এই ঘটনার ন্যায়বিচারের দাবিতে সোচ্চার হয়েছে। তাঁরা বলছেন, রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা রক্ষাকারীদের দায়িত্বজ্ঞানহীন এমন আচরণ সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা হুমকিতে ফেলছে। দ্রুততম সময়ে বিচার সম্পন্ন না হলে জনআস্থার সংকট আরও বাড়বে।

চিকিৎসা শেষে আমির হোসেন বর্তমানে পরিবারের সঙ্গে রয়েছেন। যদিও শারীরিকভাবে কিছুটা সুস্থ, মানসিকভাবে এখনো ভীত সন্ত্রস্ত তিনি। বারবার সেই মুহূর্ত মনে করে ঘুম ভেঙে যায়, জানিয়েছেন তার স্বজনেরা।

তদন্ত সংশ্লিষ্ট একজন কর্মকর্তার ভাষ্য, “চার্জশিট প্রস্তুত। আমাদের টার্গেট হচ্ছে আগামী সপ্তাহের মধ্যে চার্জশিট আদালতে জমা দেওয়া।” মামলাটি প্রভাবশালী মহলের নজরে রয়েছে, এবং প্রত্যাশা করা হচ্ছে যে, এর সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ বিচার নিশ্চিত করা হবে।

কোন মন্তব্য পাওয়া যায়নি


News Card Generator