কক্সবাজার জেলার চকরিয়া-পেকুয়া আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও চকরিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি জাফর আলমের বিরুদ্ধে অভিযোগের পাহাড় দীর্ঘদিন ধরেই জমে উঠছিল। এবার সেই ক্ষোভ বিস্ফোরিত হলো সড়কে। আজ বৃহস্পতিবার সকালে পেকুয়ার প্রধান বাণিজ্যিক এলাকায় সাবেক এই এমপির সর্বোচ্চ শাস্তির দাবিতে ঝাড়ু মিছিল করেছেন বিএনপি নেতাকর্মীরা। মিছিলটি শুধু দলীয় কর্মীদের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না—স্থানীয় ব্যবসায়ী, শিক্ষার্থী, কৃষক ও সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষ এতে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন।
পেকুয়া সদর ইউনিয়ন পরিষদ মাঠ থেকে শুরু হয়ে মিছিলটি পেকুয়া চৌমুহনী চত্বরে গিয়ে শেষ হয়। এরপর বিএনপি কার্যালয়ের সামনে আয়োজিত এক বিক্ষোভ সমাবেশে বক্তারা সাবেক এই এমপির বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
বক্তব্য রাখেন পেকুয়া উপজেলা বিএনপির সভাপতি এম বাহাদুর শাহ, সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসাইন, সংগঠনিক সম্পাদক ডা. বেলাল হায়দার, যুবদল সভাপতি কামরান জাদিদ মুকুট, স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি আহসানউল্লাহসহ আরও অনেকে।
তাদের ভাষ্যমতে, ২০১৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রাতে ভোটকেন্দ্র দখলের মাধ্যমে এমপি নির্বাচিত হয়ে চকরিয়া-পেকুয়ার সাধারণ মানুষের উপর ‘অত্যাচার, নিপীড়ন ও সন্ত্রাস’ চালান জাফর আলম। তার বিরুদ্ধে রয়েছে হত্যা, চাঁদাবাজি, জমি দখল, প্রশাসনকে ব্যবহার করে বিরোধীদের হয়রানি করার অভিযোগ।
সমাবেশে উপস্থিত নেতারা বলেন, “একজন জনপ্রতিনিধি হয়ে তিনি জনগণের সেবক হওয়ার কথা থাকলেও, তিনি বরং জনগণের উপর জুলুমকারী রূপে আবির্ভূত হন। চকরিয়া-পেকুয়াকে তিনি ত্রাসের জনপদে পরিণত করেছিলেন। এখন সময় এসেছে তার বিচার করার। আমরা দাবি জানাচ্ছি, তাকে দ্রুত ফাঁসির দণ্ডে দণ্ডিত করতে হবে।”
এদিকে, পেকুয়া থানার পুলিশ জানায়, সাবেক এমপি জাফর আলমের বিরুদ্ধে হত্যা ও আরও দুটি গুরুত্বপূর্ণ মামলায় তদন্ত চলছে। গতকাল বুধবার আদালতের আদেশে তাকে ৭ দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে। রিমান্ডে তাকে হত্যা মামলাসহ অন্যান্য অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।
পেকুয়া উপজেলা সদরে যে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে পুলিশের পাশাপাশি র্যাব, গোয়েন্দা সংস্থা ও আনসার সদস্যরা নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করছেন। এলাকাজুড়ে রয়েছে টহল, বসানো হয়েছে চেকপোস্ট।
স্থানীয়দের অনেকেই জানান, জাফর আলম ক্ষমতায় থাকাকালীন অনেক নিরীহ মানুষকে রাতের আঁধারে ঘর থেকে তুলে নিয়ে যাওয়া হতো। বহু মানুষ আজও নিখোঁজ। তার ক্ষমতা ও প্রভাবের কারণে কেউ মুখ খুলতে সাহস পেত না। আজ সেই ভয় আর নেই, মানুষ রাস্তায় নেমেছে ন্যায়বিচারের দাবিতে।
এই আন্দোলনের পর রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সরকারের ভেতরে-বাইরে সাবেক এমপিদের জবাবদিহিতার দাবিও জোরালো হতে পারে। যদি এই মামলাগুলোর তদন্ত স্বচ্ছ ও যথাযথভাবে হয়, তবে এটি একটি নজির স্থাপন করতে পারে দেশের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক শুদ্ধতার দিকেও।