শিক্ষকদের ৭ হাজার কোটি টাকা লুট: রুগ্ন ব্যাংকে জমানো ফান্ডের নেপথ্যে কারা?..

আই নিউজ বিডি ডেস্ক  avatar   
আই নিউজ বিডি ডেস্ক
শিক্ষকদের ৭ হাজার কোটি টাকা লুট: রুগ্ন ব্যাংকে জমানো ফান্ডের নেপথ্যে কারা?..
শিক্ষকদের ৭ হাজার কোটি টাকা লুট: রুগ্ন ব্যাংকে জমানো ফান্ডের নেপথ্যে কারা?..
ছবি: সংগৃহীত

অবসরপ্রাপ্ত এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের রক্তঘামের জমানো প্রায় ৭ হাজার কোটি টাকা লুট হয়ে গেছে। কীভাবে সরকারি নির্দেশ অমান্য করে এই বিশাল তহবিল ৭টি রুগ্ন ব্যাংকে পাঠালেন সাবেক কর্তারা? জানতে পড়ুন বিস্তারিত।..

বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের অবসর ও কল্যাণ ফান্ডের হাজার হাজার কোটি টাকা সরকারি নির্দেশ অমান্য করে রুগ্ন বেসরকারি ব্যাংকে রেখে লুটে নেওয়ার চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে প্রতি মাসের বেতন থেকে শিক্ষক-কর্মচারীদের ১০ শতাংশ (অবসর ৬% ও কল্যাণ ৪%) কেটে গঠিত এই ট্রাস্টের প্রায় ৭ হাজার কোটি টাকা বিগত সরকারের আমলে লুট হয়ে যায় ফলে অবসরে যাওয়া শিক্ষকেরা বছরের পর বছর ধরে তাদের প্রাপ্য অর্থ না পেয়ে চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন অনুসন্ধানে দেখা গেছে, অদ্যাবধি মোট ৭টি রুগ্ন বেসরকারি ব্যাংকে শিক্ষকদের জমানো এই টাকা আটকে রাখা হয়েছে, যার বড় একটি অংশ চব্বিশের পাঁচই আগস্টের আগেই লুট হয়ে গেছে

অর্থ মন্ত্রণালয়ের বাজেট অধিশাখার স্পষ্ট নির্দেশনা ছিল যে, কোনো বেসরকারি ব্যাংকে সরকারি বা স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের মোট নিজস্ব আমানতের ২৫ শতাংশের বেশি জমা রাখা যাবে না তবে ২০১০ থেকে ২০১৪ সালের মার্চ পর্যন্ত শিক্ষাসচিবের দায়িত্বে থাকা কামাল আবদুল নাসের চৌধুরী সেই নির্দেশনা তোয়াক্কা না করে সোনালী ব্যাংকের বিভিন্ন হিসাবে থাকা জমানো প্রায় ৭শ কোটি টাকার ৯৯ শতাংশই তুলে নতুন ও রুগ্ন বেসরকারি ব্যাংকে স্থানান্তর করেন এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে তিনি ব্যক্তিগতভাবে লাভবান হন বর্তমানে হত্যা ও লুটপাটের একাধিক মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে কামাল চৌধুরী কারাগারে আছেন অন্যদিকে, ২০০৯ সাল থেকে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পর্যন্ত কল্যাণ ট্রাস্টের সচিব পদে থাকা আওয়ামী লীগ নেতা ও সাবেক সংসদ সদস্য শাহজাহান আলম সাজু দায়িত্ব পালনকালে এ অনিয়ম অব্যাহত রাখেন এবং ৫ আগস্টের পর থেকে তিনি পলাতক রয়েছেন

সোনালী ব্যাংক কর্তৃপক্ষ ২০১২ সালের ৬ ডিসেম্বর কল্যাণ ট্রাস্ট ও অবসর সুবিধা বোর্ডের কর্মকর্তাদের কাছে পাঠানো এক চিঠিতে সরকারি নির্দেশনা মেনে আমানত সরকারি ব্যাংকে সংরক্ষণের তাগিদ দিয়েছিল ব্যাংকটির তৎকালীন জেনারেল ম্যানেজার কাজী তসলিমা বানু স্বাক্ষরিত চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, সোনালী ব্যাংক পর্যাপ্ত সুদ দেওয়া সত্ত্বেও সরকারি নীতিমালার বাইরে গিয়ে বেসরকারি ব্যাংকের স্বার্থ রক্ষা করা হচ্ছে, যা অত্যন্ত দুঃখজনক এছাড়া পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তরের (ডিআইএ) ২০০২ সালের এক তদন্ত প্রতিবেদনেও ১৯৯০ থেকে ২০০২ সাল পর্যন্ত সময়ে, বিশেষ করে ১৯৯৭ থেকে ২০০১ সালে তৎকালীন সদস্য-সচিব কাজী ফারুক আহমেদের মেয়াদে ব্যাপক আর্থিক অনিয়ম, ক্যাশ বই ও ভাউচার সংরক্ষণ না করা এবং লাভজনক ফান্ডের টাকা চলতি হিসাবে ফেলে রেখে ব্যাংক সুদ থেকে বঞ্চিত করার প্রমাণ পাওয়া যায়

অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উপদেষ্টা অধ্যাপক ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ এবং পরবর্তী উপদেষ্টা অধ্যাপক সি আর আবরার একাধিকবার নিশ্চিত করেছেন যে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে শিক্ষকদের অবসর ও কল্যাণ ট্রাস্টের প্রায় সাত হাজার কোটি টাকা লুট হয়ে গেছে এই বিপুল পরিমাণ অর্থ হারিয়ে শিক্ষকদের মানবেতর জীবনযাপন করতে হচ্ছে তবে শিক্ষকদের এই আত্মসাৎকৃত টাকা উদ্ধার করতে সম্প্রতি নতুন পদক্ষেপ গ্রহণ করার কথা জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন

কোন মন্তব্য পাওয়া যায়নি


News Card Generator