শাবিপ্রবি অধিভুক্তির দাবিতে উত্তাল সিলেট ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ: অধ্যক্ষসহ ২০ শিক্ষক-কর্মকর্তা অবরুদ্ধ.. | আই নিউজ বিডি | বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ ও ভিডিও

শাবিপ্রবি অধিভুক্তির দাবিতে উত্তাল সিলেট ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ: অধ্যক্ষসহ ২০ শিক্ষক-কর্মকর্তা অবরুদ্ধ..

আই নিউজ বিডি ডেস্ক  avatar   
আই নিউজ বিডি ডেস্ক
শাবিপ্রবি অধিভুক্তির দাবিতে উত্তাল সিলেট ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ: অধ্যক্ষসহ ২০ শিক্ষক-কর্মকর্তা অবরুদ্ধ..
শাবিপ্রবি অধিভুক্তির দাবিতে উত্তাল সিলেট ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ: অধ্যক্ষসহ ২০ শিক্ষক-কর্মকর্তা অবরুদ্ধ..
ছবি: সংগৃহীত
কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের অধীনতা থেকে মুক্তি ও শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) অধীনে যাওয়ার দাবিতে সিলেট ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের শিক্ষার্থীরা অনির্দিষ্টকালের শাটডাউন ঘোষণা করে শিক..

সিলেট ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের একাডেমিক ও প্রশাসনিক অচলাবস্থা চরম আকার ধারণ করেছে। কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের অধীনতা থেকে মুক্তি এবং শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) অধীনে অন্তর্ভুক্তির দাবিতে শিক্ষার্থীরা গত রোববার থেকে ক্যাম্পাসে নজিরবিহীন বিক্ষোভ শুরু করেছেন। এই আন্দোলনের অংশ হিসেবে শিক্ষার্থীরা কলেজের দায়িত্বপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো. আসাদুজ্জামানসহ মোট ১৪ জন শিক্ষক এবং ৬ থেকে ৭ জন কর্মকর্তা-কর্মচারীকে তাদের কার্যালয়ে অবরুদ্ধ করে রেখেছেন। রোববার রাত ৯টা পর্যন্ত এই অবরোধ অব্যাহত ছিল, যা পুরো ক্যাম্পাসে এক থমথমে পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছে। শিক্ষার্থীরা স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন যে, তাদের মূল দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত তারা কোনো ধরনের একাডেমিক কার্যক্রমে ফিরবেন না এবং অবরুদ্ধ শিক্ষক-কর্মকর্তাদের মুক্ত করবেন না।

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের অধীনে থাকার কারণে তাদের অর্জিত বিএসসি ইঞ্জিনিয়ারিং ডিগ্রির মান এবং স্বকীয়তা মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ন হচ্ছে, যা তাদের পেশাগত জীবনে দীর্ঘমেয়াদী নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। ২০০৭ সালে প্রতিষ্ঠিত এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বর্তমানে তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক, পুরকৌশল এবং কম্পিউটারবিজ্ঞান ও প্রকৌশল—এই তিনটি বিভাগে প্রায় ১ হাজার শিক্ষার্থী অধ্যয়নরত। শিক্ষার্থীদের দাবি, দীর্ঘদিনের এই প্রশাসনিক জটিলতা তাদের ক্যারিয়ারের ভবিষ্যৎকে অনিশ্চয়তার মুখে ঠেলে দিয়েছে। ভুক্তভোগী এক শিক্ষার্থী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, আমাদের ডিগ্রির মানোন্নয়ন এবং শাবিপ্রবির অধীনে অন্তর্ভুক্তির দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত পরীক্ষা, ল্যাব এবং ক্লাসসহ সব ধরনের কার্যক্রম অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ থাকবে। পুরো ক্যাম্পাস এখন শিক্ষার্থীদের নিয়ন্ত্রণে এবং তারা কোনোভাবেই এই সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসতে নারাজ।

এদিকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের উপসচিব সাজ্জাদ হোসেন স্বাক্ষরিত একটি প্রজ্ঞাপনে কলেজের দায়িত্বপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ সহযোগী অধ্যাপক মো. আসাদুজ্জামানকে ফরিদপুর ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজে বদলি করা হয়েছে এবং তার স্থলে ময়মনসিংহ ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের সহযোগী অধ্যাপক মো. সাহিদ ইকবালকে নতুন অধ্যক্ষ হিসেবে পদায়ন করা হয়েছে। তবে এই প্রশাসনিক রদবদল আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ক্ষোভ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। শিক্ষার্থীরা এই বদলির আদেশকে প্রত্যাখ্যান করে ঘোষণা দিয়েছেন যে, যতক্ষণ পর্যন্ত শাবিপ্রবি অধিভুক্তির বিষয়ে মন্ত্রণালয় থেকে সুনির্দিষ্ট প্রজ্ঞাপন না আসবে, ততক্ষণ পর্যন্ত নতুন অধ্যক্ষকে ক্যাম্পাসে ঢুকতে দেওয়া হবে না। দায়িত্বপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো. আসাদুজ্জামান বিষয়টি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের অবহিত করেছেন বলে জানালেও, এখন পর্যন্ত কোনো কার্যকর সমাধান বা আলোচনার উদ্যোগ দৃশ্যমান হয়নি।

শিক্ষার্থীদের এই কঠোর অবস্থানের ফলে সিলেট ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের শিক্ষা কার্যক্রম পুরোপুরি স্থবির হয়ে পড়েছে, যা ভবিষ্যতে উচ্চশিক্ষার এই প্রতিষ্ঠানে বড় ধরনের সেশনজট ও একাডেমিক ক্ষতির আশঙ্কা তৈরি করছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ যদি দ্রুত সময়ের মধ্যে শিক্ষার্থীদের যৌক্তিক দাবিগুলো পর্যালোচনা করে কোনো সমাধানমূলক সিদ্ধান্তে না পৌঁছায়, তবে পরিস্থিতির আরও অবনতি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। একদিকে শিক্ষার্থীদের ডিগ্রির মান রক্ষার লড়াই এবং অন্যদিকে মন্ত্রণালয়ের প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত—এই দুইয়ের দ্বন্দ্বে সাধারণ শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবন এখন চরম ঝুঁকির মুখে পড়েছে। আন্দোলনের এই ধারা অব্যাহত থাকলে তা সিলেট অঞ্চলের প্রযুক্তি শিক্ষার মান ও সুনামের ওপর দীর্ঘস্থায়ী নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

לא נמצאו הערות


News Card Generator