ওয়াশিংটন ডিসি: মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে গভীর শঙ্কার সৃষ্টি হয়েছে। খোদ ডোনাল্ড ট্রাম্পের হোয়াইট হাউসের সাবেক আইনজীবী টাই কব এক চাঞ্চল্যকর সাক্ষাৎকারে দাবি করেছেন যে, আগামী দিনে মার্কিন গণতন্ত্র মারাত্মক ঝুঁকির মুখে রয়েছে। বিখ্যাত সাংবাদিক মেহেদি হাসানের ইউটিউব শো ‘মেহেদি আনফিল্টার্ড’-এ দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে এই বিস্ফোরক মন্তব্য করেন তিনি।
সাক্ষাৎকারের একপর্যায়ে সাংবাদিক মেহেদি হাসান প্রশ্ন করেন, "২০২৮ সাল নাগাদ ডোনাল্ড ট্রাম্পের হাত থেকে কি মার্কিন গণতন্ত্র আদৌ রক্ষা পাবে?" এর জবাবে টাই কব অত্যন্ত হতাশার সুরেই বলেন যে, ২০২৮ সাল পর্যন্ত যাওয়ার প্রয়োজনই হয়তো পড়বে না; বরং ২০২৬ সালের মধ্যেই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এই রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক ধাক্কা সামলে উঠতে পারবে কি না, তা নিয়ে তাঁর যথেষ্ট সন্দেহ রয়েছে।
টাই কবের এই মন্তব্য মার্কিন রাজনৈতিক মহলে ইতিমধ্যে তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করা একজন আইনজীবী হয়েও ট্রাম্পের ক্ষমতার প্রভাব নিয়ে এমন মূল্যায়ন বেশ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে হোয়াইট হাউসে ফেরার পর দেশটির বিচার বিভাগ, নির্বাচন ব্যবস্থা এবং গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলো কতটা নিরাপদ থাকবে, তা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই বিতর্ক চলছে।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, টাই কবের এই সতর্কবার্তা কেবল ডেমোক্র্যাটিক পার্টির নয়, খোদ রিপাবলিকান পার্টির ভেতরের একটি অংশেরও গভীর ভয়ের বহিঃপ্রকাশ। মার্কিন গণতন্ত্রের ঐতিহ্য এবং দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতা বজায় রাখার ক্ষেত্রে আগামী মধ্যবর্তী নির্বাচন এবং ট্রাম্পের নীতিগুলো অত্যন্ত নির্ধারক ভূমিকা পালন করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এদিকে, এই সাক্ষাৎকারটি প্রকাশের পর থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং মার্কিন গণমাধ্যমে নানা আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে। ট্রাম্প সমর্থকরা টাই কবের এই বক্তব্যকে পক্ষপাতদুষ্ট ও ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিলেও, উদারপন্থী ও ট্রাম্পবিরোধী গোষ্ঠীগুলো একে দেশের ভবিষ্যৎ নিয়ে একটি বড় ধরনের অ্যালার্ম বা সতর্কবার্তা হিসেবে দেখছে।
সোর্স: www.youtube.com