কক্সবাজার-চট্টগ্রাম মহাসড়কে একটি সড়ক দুর্ঘটনায় চারজন নিহত এবং পাঁচজন গুরুতর আহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) সকাল সাড়ে ৭টার দিকে চকরিয়ার খুটাখালীর নয়াপাড়া নতুন মসজিদ এলাকায় এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। দুর্ঘটনায় প্রাণ হারানো ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন খুটাখালীর সেগুন বাগিচার মৃত মতিউর রহমানের ছেলে মো. জসিম উদ্দিন (২৫), ঈদগাঁও উপজেলার পশ্চিম গজালিয়া এলাকার মৃত আবুল কাসেমের ছেলে মো. রফিক (২৯), খুটাখালী সিয়াপাড়া এলাকার মৃত মন্জুর আলমের ছেলে মো. শাহেদ (২৭), এবং ঈদগাঁও উপজেলার নতুন অফিসের আমিনুল হকের ছেলে জিয়াবুল হক (২৫)।
প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, কক্সবাজার অভিমুখী লাল-সবুজ পরিবহনের একটি দ্রুতগামী বাস বিপরীত দিক থেকে আসা যাত্রী বোঝাই একটি জিটু গাড়িকে সামনে থেকে সজোরে ধাক্কা দেয়। ধাক্কার ফলে জিপ গাড়িটি রাস্তার পাশে ছিটকে পড়ে। জিটু গাড়িতে থাকা মোট নয়জন যাত্রীর মধ্যে চারজন ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান।
দুর্ঘটনার পর মালুমঘাট হাইওয়ে থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে স্থানীয় জনগণের সহায়তায় উদ্ধার কাজ শুরু করেন। আহতদের দ্রুত মালুমঘাট মেমোরিয়াল খ্রিস্টান হাসপাতাল এবং কক্সবাজার সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়। আহতদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
মালুমঘাট হাইওয়ে থানার উপ-পরিদর্শক মো. সামছুজ্জামান বলেন, 'লাল-সবুজ পরিবহনের অতিরিক্ত গতির একটি বাস এবং বিপরীতমুখী জিপ গাড়ির সংঘর্ষে এই দুর্ঘটনা ঘটে। এ দুর্ঘটনায় চারজন নিহত এবং পাঁচজন আহত হয়েছেন। দুর্ঘটনাকবলিত গাড়ি দুটি জব্দ করা হয়েছে, তবে বাসের চালক ও হেলপার পালিয়ে গেছেন।'
এই দুর্ঘটনা সড়ক নিরাপত্তার ক্ষেত্রে আবারও প্রশ্ন তুলেছে। অতিরিক্ত গতি এবং সড়কে যানবাহন চলাচলের নিয়ম না মানার কারণে এমন দুর্ঘটনা বারবার ঘটছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আরও কঠোর আইন প্রয়োগ এবং জনগণের মধ্যে সচেতনতা বাড়ানো প্রয়োজন।
এই দুর্ঘটনা কক্সবাজার-চট্টগ্রাম মহাসড়কের সড়ক নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে ভাবনার অবকাশ সৃষ্টি করেছে। স্থানীয় প্রশাসন এবং পরিবহন কর্তৃপক্ষকে এ বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে যাতে ভবিষ্যতে এমন মর্মান্তিক দুর্ঘটনা এড়ানো যায়।