না ফেরার দেশে মৈশাদী ইউনিয়নের সাবেক ইউপি সদস্য সিরাজ মেম্বার.. | আই নিউজ বিডি | বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ ও ভিডিও

না ফেরার দেশে মৈশাদী ইউনিয়নের সাবেক ইউপি সদস্য সিরাজ মেম্বার..

Akhter Hossain avatar   
Akhter Hossain
না ফেরার দেশে মৈশাদী ইউনিয়নের সাবেক ইউপি সদস্য সিরাজ মেম্বার..
না ফেরার দেশে মৈশাদী ইউনিয়নের সাবেক ইউপি সদস্য সিরাজ মেম্বার..
ছবি: সংগৃহীত

চাঁদপুর সদর উপজেলার ৬নং মৈশাদী ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক সদস্য সিরাজ মেম্বার দীর্ঘ অসুস্থতার পর ঢাকায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় ইন্তেকাল করেছেন।..

চাঁদপুর সদর উপজেলার ৬নং মৈশাদী ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক সদস্য সিরাজ মেম্বার রোববার ২৩ আগস্ট সকালে ঢাকার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন। দীর্ঘদিন ধরে শারীরিক অসুস্থতায় ভুগছিলেন এই জনপ্রতিনিধি। তার মৃত্যুতে স্থানীয় রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিমণ্ডলে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। ঘটনার দিন সকালে মৃত্যুর খবরটি নিশ্চিত হওয়ার পরপরই তার নিজ এলাকা মৈশাদীসহ আশপাশের গ্রামগুলোতে শোকের পরিবেশ তৈরি হয়। দীর্ঘ কর্মজীবনে তিনি ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে এলাকার উন্নয়ন ও জনসেবায় নিজেকে নিয়োজিত রেখেছিলেন, যার ফলে তার মৃত্যুতে স্থানীয় সাধারণ মানুষের মধ্যে এক ধরনের শূন্যতা অনুভূত হচ্ছে। মৃত্যুকালে তিনি পরিবার-পরিজনসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী ও শুভাকাঙ্ক্ষী রেখে গেছেন। তার মৃত্যুসংবাদ শোনার পর থেকেই শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের সান্ত্বনা দিতে আত্মীয়স্বজন ও প্রতিবেশীরা ভিড় করছেন।

সিরাজ মেম্বারের মৃত্যুতে স্থানীয় বাসিন্দারা তাদের গভীর ক্ষোভ ও শোক প্রকাশ করে জানান, জনপ্রতিনিধি হিসেবে তিনি ছিলেন অত্যন্ত অমায়িক এবং জনবান্ধব। মৈশাদী ইউনিয়নের বিভিন্ন সামাজিক ও জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডে তার সক্রিয় অংশগ্রহণ এলাকার মানুষের কাছে তাকে একজন নির্ভরযোগ্য ব্যক্তিত্বে পরিণত করেছিল। স্থানীয়দের অভিযোগ ও স্মৃতিচারণে উঠে এসেছে যে, তিনি অসুস্থ থাকাকালীন সময়েও নিজের এলাকার মানুষের খোঁজখবর রাখতেন এবং সাধ্যমতো সহায়তা করার চেষ্টা করতেন। দীর্ঘদিন অসুস্থতার সাথে লড়াই করা এই সাবেক মেম্বারের মৃত্যুতে এলাকার মানুষ তাদের একজন অভিভাবককে হারিয়েছে বলে মনে করছেন। তার সহকর্মীরা জানান, মৈশাদী ইউনিয়নের উন্নয়নে তার অবদান ছিল অবিস্মরণীয়, যা বর্তমান প্রজন্মের জনপ্রতিনিধিদের জন্য একটি অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।

মরহুমের মৃত্যুতে স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদের বর্তমান জনপ্রতিনিধিরা শোক প্রকাশ করেছেন। তারা সিরাজ মেম্বারের কর্মময় জীবনের স্মৃতিচারণ করে বলেন, একজন নিবেদিতপ্রাণ জনপ্রতিনিধি হিসেবে তিনি এলাকায় যে গ্রহণযোগ্যতা তৈরি করেছিলেন তা বর্তমান সময়ে বিরল। তার মৃত্যুতে কোনো ধরনের প্রশাসনিক গাফিলতি বা চিকিৎসার ঘাটতি ছিল কি না, তা নিয়ে কোনো প্রশ্ন না উঠলেও, স্থানীয়রা তার বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনায় দোয়া মাহফিলের আয়োজন করছেন। স্থানীয় প্রশাসন ও ইউনিয়ন পরিষদ কর্তৃপক্ষ শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে তার পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর আশ্বাস দিয়েছে। তার অকাল প্রয়াণে এলাকার সামাজিক কর্মকাণ্ডে যে স্থবিরতা দেখা দিয়েছে, তা কাটিয়ে উঠতে স্থানীয় শুভাকাঙ্ক্ষীরা ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেছেন।

সিরাজ মেম্বারের মৃত্যু স্থানীয় রাজনীতি ও সামাজিক কাঠামোর জন্য একটি অপূরণীয় ক্ষতি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। তার দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা এবং মানুষের প্রতি তার দায়বদ্ধতা আগামী দিনে মৈশাদী ইউনিয়নের নতুন প্রজন্মের জনপ্রতিনিধিদের জন্য একটি চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে। সাধারণ মানুষের যাতায়াত ও স্থানীয় উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে তার যে সক্রিয়তা ছিল, তা ভবিষ্যতে কীভাবে অব্যাহত থাকবে তা এখন বড় প্রশ্ন। তার মৃত্যুতে শোকের যে আবহ তৈরি হয়েছে তা আরও দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে, কারণ তিনি কেবল একজন মেম্বার ছিলেন না, বরং এলাকার অনেক মানুষের ব্যক্তিগত সংকটে ভরসার জায়গা ছিলেন। পরিশেষে, তার রুহের শান্তি কামনা করে স্থানীয়রা বিভিন্ন ধর্মীয় ও সামাজিক কর্মসূচির মধ্য দিয়ে এই জনদরদি নেতার প্রতি শেষ শ্রদ্ধা নিবেদন করছেন।

কোন মন্তব্য পাওয়া যায়নি


News Card Generator