ডিসেম্বরে সরকার পতনের ষড়যন্ত্রের পেছনে যোগসূত্র থাকতে পারে: নুরুল হক নূর.. | আই নিউজ বিডি | বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ ও ভিডিও

ডিসেম্বরে সরকার পতনের ষড়যন্ত্রের পেছনে যোগসূত্র থাকতে পারে: নুরুল হক নূর..

আই নিউজ বিডি ডেস্ক  avatar   
আই নিউজ বিডি ডেস্ক
ডিসেম্বরে সরকার পতনের ষড়যন্ত্রের পেছনে যোগসূত্র থাকতে পারে: নুরুল হক নূর..
ডিসেম্বরে সরকার পতনের ষড়যন্ত্রের পেছনে যোগসূত্র থাকতে পারে: নুরুল হক নূর..
ছবি: সংগৃহীত
পটুয়াখালীতে আয়োজিত এক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে ডাকসুর সাবেক ভিপি নুরুল হক নূর বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতির অস্থিরতা এবং জামায়াতে ইসলামীর তৎপরতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।..

রোববার বিকেলে পটুয়াখালী শিল্পকলা একাডেমিতে এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় জিপিএ-৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে ডাকসুর সাবেক ভিপি ও গণঅধিকার পরিষদের একাংশের সভাপতি নুরুল হক নূর দেশের চলমান রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা নিয়ে গভীর শঙ্কা প্রকাশ করেছেন। অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময়কালে তিনি অভিযোগ করেন, একদল দুর্বৃত্ত এবং গতানুগতিক ফ্যাসিস্ট শক্তি ডিসেম্বরে সরকার পতনের যে ঘোষণা দিচ্ছে, তার সাথে বিরোধী রাজনৈতিক শক্তির একটি অংশের যোগসূত্র থাকার সম্ভাবনা প্রবল। তিনি স্পষ্ট করেন যে, ফ্যাসিস্টদের পুনরুত্থানের জন্য এই পরিস্থিতিকে একটি পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র হিসেবে দেখা হচ্ছে এবং সাধারণ জনমনে এই ঘটনাপ্রবাহ নিয়ে বড় ধরনের প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। সরকার দায়িত্ব গ্রহণের মাত্র সাড়ে ছয় মাসের মাথায় এই ধরনের অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি করা দেশের গণতান্ত্রিক পরিবেশের জন্য কতটা যৌক্তিক, তা নিয়েও তিনি প্রশ্ন তোলেন। নূর মনে করেন, গণতান্ত্রিক সরকারকে অস্থিতিশীল করার মাধ্যমে পতিত রাজনৈতিক শক্তিগুলো পুনরায় ক্ষমতার মসনদে ফেরার একটি সূক্ষ্ম চাল চালছে, যা দেশের সাধারণ মানুষের স্বার্থের পরিপন্থী।

রাজনৈতিক বিশ্লেষণে নুরুল হক নূর জামায়াতে ইসলামীর সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ডকে দেশের অস্তিত্বের জন্য বড় সংকট হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। তিনি দাবি করেন, জামায়াতের উত্থান মানে দেশকে একটি ধর্মযুদ্ধের দিকে ঠেলে দেওয়া, যা বাংলাদেশের অসাম্প্রদায়িক চেতনার পরিপন্থী। অতীতে বিএনপি বিরোধী আন্দোলনে আওয়ামী লীগের সাথে জামায়াতের কৌশলগত মিত্রতার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, বর্তমান ক্ষমতার আকাঙ্ক্ষা পূরণ করতে জামায়াত আবারও একই ধরনের রাজনৈতিক অস্থিরতা তৈরি করছে। ভুক্তভোগী সচেতন তরুণ ও প্রগতিশীল জনগোষ্ঠীর উদ্দেশ্যে তিনি আহ্বান জানান, যেন তারা এই অপশক্তির যেকোনো আস্ফালনের বিরুদ্ধে স্বতঃস্ফূর্তভাবে রুখে দাঁড়ায়। একই সাথে মিরপুরের ক্লিনিক দুর্ঘটনা ও কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরের প্রতি জনসমর্থনের বিষয়টি উল্লেখ করে তিনি জানান, সামাজিক ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে রাষ্ট্রকে আরও কঠোর হতে হবে এবং অপরাধীদের কোনোভাবেই ছাড় দেওয়া যাবে না। জনগণের নিরাপত্তা ও সামাজিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সরকারের পাশাপাশি সচেতন নাগরিকদেরও সজাগ থাকা এখন সময়ের দাবি বলে মনে করেন তিনি।

সরকারের পক্ষ থেকে নুরুল হক নূর রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন যেন তারা যেকোনো কর্মসূচি গ্রহণের আগে দেশের গণতান্ত্রিক পরিবেশ ও জনগণের ভোগান্তির কথা বিবেচনা করেন। তিনি মনে করেন, দায়িত্বশীল রাজনৈতিক দলগুলোর উচিত গণতান্ত্রিক ধারাকে সমুন্নত রাখা, না হলে এই অস্থিরতার সুযোগ নিয়ে ফ্যাসিবাদীরা পুনরায় রাজনীতিতে পুনর্বাসিত হওয়ার পথ খুঁজে পাবে। অনুষ্ঠানে উপস্থিত নেতাকর্মী ও শিক্ষার্থীদের সামনে তিনি আরও বলেন, দেশের বর্তমান রাজনৈতিক অস্থিরতার পেছনের কুশীলবদের শনাক্ত করা গোয়েন্দা সংস্থা ও প্রশাসনের জন্য অত্যন্ত জরুরি হয়ে পড়েছে। রাজনৈতিক কর্মসূচি পালন করা গণতান্ত্রিক অধিকার হলেও, তা যেন কোনোভাবেই জননিরাপত্তা বা রাষ্ট্রের স্থিতিশীলতাকে হুমকির মুখে না ফেলে। তিনি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন যে, সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলনের নামে যে ষড়যন্ত্র চলছে, তার পেছনে থাকা অদৃশ্য যোগসূত্রগুলো উন্মোচন করা গেলে দেশের রাজনীতিতে স্বচ্ছতা ফিরে আসবে এবং মানুষ বিভ্রান্তি থেকে মুক্তি পাবে।

পরিশেষে, পটুয়াখালীর এই সংবর্ধনা অনুষ্ঠানটি কেবল কৃতী শিক্ষার্থীদের সম্মান জানানোর মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকেনি, বরং এটি জাতীয় রাজনীতির গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনায় রূপ নিয়েছে। নূরুল হক নূরের এই কঠোর বার্তা রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে, যেখানে জাতীয় নিরাপত্তার প্রশ্নটি পুনরায় সামনে এসেছে। ভবিষ্যৎ বাংলাদেশ ও এর গণতান্ত্রিক যাত্রাপথ কতটা নিরাপদ থাকবে, তা অনেকাংশেই নির্ভর করছে রাজনৈতিক দলগুলোর দায়িত্বশীল আচরণ এবং প্রশাসনের কঠোর নজরদারির ওপর। সাধারণ মানুষের যাতায়াত, শিক্ষা এবং দৈনন্দিন জীবনে যাতে কোনো প্রকার রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা প্রভাব ফেলতে না পারে, সেদিকে লক্ষ্য রাখা এখন সময়ের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে পারস্পরিক দোষারোপের সংস্কৃতি ও ষড়যন্ত্রের রাজনীতির অবসান না ঘটলে উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড বাধাগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যায় না।

No comments found


News Card Generator