চাঁদপুরে বিদ্যুৎ পরিস্থিতির উন্নতি হলেও রয়ে গেছে তীব্র গ্যাস সংকট..

Akhter Hossain avatar   
Akhter Hossain
চাঁদপুরে বিদ্যুৎ পরিস্থিতির উন্নতি হলেও রয়ে গেছে তীব্র গ্যাস সংকট..
চাঁদপুরে বিদ্যুৎ পরিস্থিতির উন্নতি হলেও রয়ে গেছে তীব্র গ্যাস সংকট..
ছবি: সংগৃহীত

টানা এক সপ্তাহের লোডশেডিংয়ের পর চাঁদপুর জেলায় বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক হতে শুরু করলেও গ্যাস সংকটে জনজীবন এখনো বিপর্যস্ত।..

টানা এক সপ্তাহের তীব্র লোডশেডিং ও বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কবলে পড়ার পর অবশেষে চাঁদপুর জেলায় বিদ্যুৎ সরবরাহ পরিস্থিতিতে দৃশ্যমান উন্নতি লক্ষ্য করা গেছে। বৃহস্পতিবার থেকে জাতীয় গ্রিড থেকে প্রাপ্ত বরাদ্দ বৃদ্ধির ফলে জেলার বিভিন্ন উপজেলা ও পৌর এলাকায় লোডশেডিংয়ের মাত্রা উল্লেখযোগ্য হারে হ্রাস পেয়েছে, যা সাধারণ মানুষের মধ্যে কিছুটা স্বস্তি ফিরিয়ে এনেছে। বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড এবং পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির তথ্যমতে, জাতীয় গ্রিড থেকে চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম থাকায় গত সপ্তাহে এই সংকট প্রকট আকার ধারণ করেছিল, তবে বর্তমানে বিতরণ ব্যবস্থা অনেকটাই স্থিতিশীল পর্যায়ে ফিরেছে। বিদ্যুৎ পরিস্থিতির এই সাময়িক উন্নতি হলেও জ্বালানি সংকটের মূল কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে রয়ে গেছে গ্যাসের তীব্র স্বল্পচাপ ও অনিয়মিত সরবরাহ, যা জেলার সাধারণ গ্রাহকদের দৈনন্দিন জীবনযাত্রাকে এখনো চরম ভোগান্তির মুখে ঠেলে রেখেছে।

বিদ্যুৎ পরিস্থিতির উন্নতিতে জনমনে স্বস্তি ফিরলেও জেলার বিভিন্ন প্রান্তের গ্রাহকরা রান্নার কাজে ব্যবহৃত গ্যাসের তীব্র সংকট নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। বিশেষ করে শাহরাস্তি, হাজীগঞ্জ এবং মতলব দক্ষিণ উপজেলার বাসিন্দারা অভিযোগ করেছেন যে, দিনের বেলায় গ্যাসের লাইনে কোনো চাপ থাকছে না, যার ফলে গৃহস্থালির কাজে স্থবিরতা নেমে এসেছে। ভুক্তভোগী গ্রাহক রোমানা বিলকিস ও গাজী মো. নাছিরের মতো অনেকেই জানিয়েছেন, গত এক সপ্তাহ বিদ্যুৎ ও গ্যাস উভয় সংকটেই তারা বিপর্যস্ত ছিলেন, কিন্তু বিদ্যুৎ পরিস্থিতি উন্নত হলেও গ্যাস সংকটের কোনো সুরাহা হয়নি। অনেক এলাকায় রাতে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ রাখা হচ্ছে অথবা দিনের বেলাতেও সরবরাহ পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন থাকছে, যা সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার স্বাভাবিক ছন্দকে মারাত্মকভাবে ব্যাহত করছে। পুরানবাজার এলাকার মতো কিছু জায়গায় পরিস্থিতি কিছুটা ভিন্ন হলেও সামগ্রিকভাবে পুরো জেলায় গ্যাসের অপর্যাপ্ত চাপ রান্নার কাজে বড় ধরনের বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

বিদ্যুৎ ও গ্যাস সরবরাহকারী কর্তৃপক্ষ পরিস্থিতির দায়ভার জাতীয় পর্যায়ের ঘাটতির ওপর চাপাচ্ছেন। চাঁদপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১ ও ২-এর জেনারেল ম্যানেজাররা নিশ্চিত করেছেন যে, জাতীয় গ্রিড থেকে সরবরাহ স্বাভাবিক হওয়ায় বর্তমানে বিদ্যুৎ পরিস্থিতি উন্নতির দিকে। অন্যদিকে, বাখরাবাদ গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড জানিয়েছে, এলএনজি টার্মিনাল থেকে সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়ার কারণেই জাতীয় পর্যায়ে গ্যাসের প্রবাহ কমেছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়ছে চাঁদপুরের গ্রাহক পর্যায়ে। বাখরাবাদ গ্যাসের চাঁদপুর কার্যালয়ের ব্যবস্থাপক মীর ফজলে রাব্বি দাবি করেছেন যে, জাতীয় পর্যায়ে গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত স্থানীয়ভাবে এই সংকট নিরসনের কোনো কার্যকর উপায় নেই। কর্তৃপক্ষের এই দায়সারা মন্তব্যে ক্ষুব্ধ স্থানীয়রা বলছেন, নিয়মিত বিল পরিশোধ করা সত্ত্বেও দীর্ঘ সময় ধরে এমন জ্বালানি সংকটের সমাধান কেবল আশ্বাসেই সীমাবদ্ধ থাকাটা হতাশাজনক।

বিদ্যুৎ ও গ্যাসের এই ভারসাম্যহীন সরবরাহ ব্যবস্থা কেবল বর্তমান জনভোগান্তি নয়, বরং ভবিষ্যতে শিল্প ও গৃহস্থালি খাতের জ্বালানি নিরাপত্তার ক্ষেত্রেও বড় ধরনের উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিদ্যুৎ পরিস্থিতি সাময়িক স্বাভাবিক হলেও গ্যাসের অনিয়মিত সরবরাহ সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা ও জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়িয়ে দিচ্ছে, কারণ বিকল্প জ্বালানি ব্যবহারে অনেক পরিবারকে অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় করতে হচ্ছে। জ্বালানি খাতের এই অস্থিতিশীলতা দীর্ঘস্থায়ী হলে জেলার অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড এবং স্বাভাবিক জনজীবন আরও বড় ধরনের সংকটের মুখে পড়তে পারে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জাতীয় পর্যায়ের সংকট দোহাই দিয়ে দায় এড়ানোর প্রবণতা কমিয়ে, বিকল্প ব্যবস্থার মাধ্যমে স্থানীয় গ্রাহকদের দুর্ভোগ লাঘবে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করাই এখন সময়ের দাবি।

কোন মন্তব্য পাওয়া যায়নি


News Card Generator