কক্সবাজার প্রেসক্লাব ও সাংবাদিক ইউনিয়ন যৌথভাবে জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে শহীদদের স্মরণে সপ্তাহব্যাপী কর্মসূচি পালন করছে। এই কর্মসূচির পঞ্চম দিনে (৪ আগস্ট) কক্সবাজার প্রেসক্লাবে খতমে কুরআন, আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি ছিলেন জেলা পরিষদের প্রশাসক এটিএম নুরুল বশর চৌধুরী। তিনি বলেন, "মাফিয়া রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগ দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশকে জিম্মি করে রেখেছিল। মানুষের জানমালের নিরাপত্তা ছিল না। তবে চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানে ছাত্র জনতার স্বতঃস্ফূর্ত রক্তের বিনিময়ে বাংলাদেশ মুক্তি পেয়েছে।"
তিনি আরো উল্লেখ করেন যে, অতীতে সাংবাদিকদের ওপর রাষ্ট্রীয় প্রতিবন্ধকতার কারণে সঠিক সংবাদ প্রকাশ হতো না, যা পরবর্তীতে গণঅভ্যুত্থানের পর মুক্ত সাংবাদিকতার পথ উন্মুক্ত করে। তিনি সমাজের মানুষের আবেগ ও বাস্তবতার কথা জাতির সামনে তুলে ধরার আহ্বান জানান।
আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন কক্সবাজার প্রেসক্লাবের সভাপতি মাহবুবর রহমান। স্বাগত বক্তব্য রাখেন কক্সবাজার প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ও কর্মসূচির আহবায়ক মমতাজ উদ্দিন বাহারী। বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন জেলা এনসিপির আহবায়ক প্রফেসর আখতার আলম ও কক্সবাজার প্রেসক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য এসএম আমিনুল হক চৌধুরী।
অনুষ্ঠানের শুরুতে কোরআন তেলাওয়াত করেন প্রেসক্লাব ও কর্মসূচী বাস্তবায়ন কমিটির সদস্য হুমায়ুন সিকদার। অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন সাংবাদিক ইউনিয়ন কক্সবাজারের সভাপতি নুরুল ইসলাম হেলালী, দৈনিক ইনকিলাবের বিশেষ সংবাদদাতা শামসুল হক শারেক, প্রেসক্লাবের সিনিয়র সদস্য এডভোকেট মুহাম্মদ আবু সিদ্দিক ওসমানী, প্রেসক্লাবের ক্রীড়া সম্পাদক এম আর মাহবুব, প্রেসক্লাবের সদস্য ও সিবিএন বার্তা সম্পাদক ইমাম খাইর, এবং সাংবাদিক ইউনিয়নের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ছৈয়দ আলম।
চব্বিশের জুলাইযোদ্ধাদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন শাহিদুল ওয়াহেদ শাহেদ, মুহাম্মদ খালিদ বিন সাঈদ, সাহাব উদ্দিন, আবদুল মোমেন খান, আরিয়ান খান ফারাবি, সাঈদ স্বাধীন ও ফাহমিদা হাসান হেবা। আলোচনা সভার শেষে জুলাই গণ-অভ্যুত্থান দিবস পালন উপলক্ষে অনুষ্ঠিত গ্রাফিতি আঁকা ও কবিতা আবৃত্তি প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হয়।
উল্লেখ্য, জুলাই গণ-অভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে ৭ দিনব্যাপী কর্মসূচি হাতে নিয়েছে কক্সবাজার প্রেসক্লাব ও সাংবাদিক ইউনিয়ন। ৫ আগস্ট ৬ষ্ঠ দিনে সরকারি কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ এবং জুলাই স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পমাল্য অর্পণ করবেন। প্রতিদিনের কর্মসূচি ইতোমধ্যে সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে, যা কক্সবাজারের মানুষের মাঝে নতুন আশার সঞ্চার করেছে।