দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে বর্তমানে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উপদেষ্টাদের সম্ভাব্য 'সেফ এক্সিট' ইস্যু। সম্প্রতি প্রকাশিত একটি ভিডিওতে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে আসার পর থেকেই দেশের রাজনৈতিক মহলে তীব্র বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। ডক্টর ইউনুসের নেতৃত্বাধীন এই সরকারে দায়িত্বপ্রাপ্ত উপদেষ্টারা ভবিষ্যৎ বিচারের সম্মুখীন হওয়া এড়াতে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আলোচনা করছেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
মার্কেটপ্লেস পণ্যসমূহ (Marketplace)
ভিডিওতে দাবি করা হয়েছে যে, বর্তমান উপদেষ্টারা ক্ষমতা হস্তান্তরের পর নিরাপদে দেশ ত্যাগের সুযোগ পেতে বিভিন্ন দলের সঙ্গে লিয়াজোঁ করছেন। এটি মূলত একটি 'সেফ এক্সিট' চুক্তির চেষ্টা, যার মাধ্যমে তারা সম্ভাব্য দুর্নীতি বা অব্যবস্থাপনার অভিযোগ থেকে রক্ষা পেতে চান। এর আগে ২০০৭ সালের ওয়ান-ইলেভেন সরকারের সময়ও এমন 'সেফ এক্সিট' দেখা গিয়েছিল, যেখানে তৎকালীন সেনাপ্রধান মাসুদউদ্দিন আহমেদ চৌধুরী এবং ফখরুদ্দিন আহমেদসহ অনেকেই কোনো আইনি জটিলতা ছাড়াই দেশ ছাড়তে পেরেছিলেন।
বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ডক্টর দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য পূর্বে ডক্টর ইউনুস সরকারকে 'সেফ এক্সিট' এর বিষয়টি বিবেচনা করার পরামর্শ দিয়েছিলেন। এই পরামর্শ নিয়ে সেসময় বেশ বিতর্ক সৃষ্টি হলেও, সম্প্রতি একজন সাবেক উপদেষ্টা, নাহিদ ইসলাম, অভিযোগ করেছেন যে বর্তমান উপদেষ্টাদের অনেকেই এরই মধ্যে নিজেদের ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত করার জন্য বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সাথে গোপনে যোগাযোগ স্থাপন করেছেন। তিনি বলেন, কিছু উপদেষ্টা নিজেদের আখের গুছিয়ে নিয়ে এখন 'সেফ এক্সিট' খুঁজছেন।
এদিকে, ক্রিয়া বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীবের বিরুদ্ধে ক্রিকেট বোর্ডের নির্বাচনে সরাসরি হস্তক্ষেপের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। বিএনপির একজন নেতা এবং সাবেক জাতীয় ফুটবল দলের অধিনায়ক আমিরুল ইসলাম অভিযোগ করেছেন যে সজীব ভোটারদের প্রভাবিত করেছেন, যার ফলস্বরূপ সাবেক ক্রিকেটার তামিম ইকবাল নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়াতে বাধ্য হয়েছেন। এছাড়াও, আসিফ মাহমুদ সজীব তার নিজ উপজেলায় বিপুল পরিমাণ সরকারি বরাদ্দ নেওয়ার অভিযোগেও অভিযুক্ত, যা তার রাজনৈতিক উচ্চাকাঙ্ক্ষার ইঙ্গিত দেয় বলে মনে করা হচ্ছে।
বিএনপির ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা মন্তব্য করেছেন যে অনেক উপদেষ্টার দ্বৈত নাগরিকত্ব থাকায় তাদের 'সেফ এক্সিট' পেতে খুব বেশি বেগ পেতে হবে না। তারা সহজেই উন্নত বিশ্বে ফিরে যেতে পারবেন। গণঅধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রাশেদ খান অভিযোগ করেছেন যে, এনজিও ঘরানার উপদেষ্টাদের আগমনের পর থেকেই গণঅভ্যুত্থান ব্যর্থতার দিকে এগোচ্ছে।
এই পরিস্থিতিতে, ভিডিওতে বক্তা সরকারের মেয়াদ শেষ হওয়ার অন্তত ১৫ দিন আগে থেকে সকল উপদেষ্টার বিদেশ যাত্রা বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি জোর দিয়ে বলেছেন যে, দুর্নীতির সকল অভিযোগ তদন্ত করে জড়িতদের বিচার নিশ্চিত করতে হবে, যাতে দেশের সম্পদ লুটপাটের সুযোগ বন্ধ হয়।