উজানের ভারী বর্ষণে বাড়ছে সোমেশ্বরী নদীর পানি, বেড়েছে পারাপারে দুর্ভোগ..

Rajesh Gour avatar   
Rajesh Gour
উজানের ভারী বর্ষণে নেত্রকোনার দুর্গাপুরে পাহাড়ি খরস্রোতা সোমেশ্বরী নদীর পানি বাড়ছে। নদীর পানি হঠাৎ বৃদ্ধি পাওয়ায় পারাপারে দুর্ভোগও বেড়েছে।..

মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) দুপুর ৩টা পর্যন্ত নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত ছিল। এর আগে সকাল থেকেই ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের বিজয়পুর পয়েন্ট দিয়ে উজানের পানি সোমেশ্বরী নদীতে প্রবেশ করতে শুরু করে।

স্থানীয়রা জানান, ভারতের মেঘালয়ে ভারী বৃষ্টির কারণে সকাল থেকেই সোমেশ্বরী নদীর পানি দ্রুত বাড়তে থাকে। এতে তেরী বাজার ঘাট থেকে শিবগঞ্জ ঘাট এবং বিরিশিরি ঘাট থেকে দক্ষিণ ভবানীপুর ঘাট এলাকায় জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ও স্থানীয় সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার কায়সার কামালের অর্থায়নে নির্মিত কাঠের সেতু পানিতে তলিয়ে যায়। ফলে নদী পারাপারে দুর্ভোগ আরও বেড়েছে। নৌকায় পারাপারের সময় ছোটখাটো দুর্ঘটনাও ঘটছে।

হাসান মিয়া নামে এক ব্যক্তি বলেন, সকাল থেকেই পানি বাড়ছে। এমনভাবে বাড়ছে যে কাঠের সেতুটি তলিয়ে গেছে। এখন আমাদের নৌকায় ঝুঁকি নিয়ে পারাপার হতে হচ্ছে।

আলী হোসেন নামে এক অটোরিকশাচালক বলেন, আমি আমার গাড়িতে মালামাল নিয়ে ওপারে যেতে চেয়েছিলাম, কিন্তু এখন পার হওয়াই ঝুঁকিপূর্ণ। কাঠের সেতুটি যতদিন ছিল, আমরা কিছুটা স্বস্তিতে ছিলাম।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, সোমেশ্বরী নদীর বিজয়পুর পয়েন্টে মঙ্গলবার বিকেল ৩টা পর্যন্ত পানি বিপৎসীমার ৫ দশমিক ১১ মিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। দুর্গাপুর পয়েন্টে পানি প্রবাহিত হচ্ছে বিপৎসীমার ৩ দশমিক ৫৩ মিটার নিচ দিয়ে। এছাড়া কংশ নদের পানি বিপৎসীমার ৩ দশমিক ৯৯ মিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সোমেশ্বরী নদীর পানি বৃদ্ধি পেলে নিচু এলাকাগুলো প্লাবিত হয়ে থাকে। এতে ফসলি জমি নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছেন কৃষকেরা। কারণ, এখনও মাঠে তাদের ধানের ফসল রয়ে গেছে।

উপজেলা কৃষি অফিসার নিপা বিশ্বাস বলেন, দুর্গাপুর উপজেলায় ১৭ হাজার ৬০৮ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের আবাদ হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ১ হাজার ২০০ হেক্টর ধান এখন পর্যন্ত কাটা হয়েছে। কৃষকদের দ্রুত ধান কেটে নেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে।

এদিকে সব ধরনের পরিস্থিতি মোকাবেলায় উপজেলা প্রশাসন প্রস্তুত রয়েছে বলে জানিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) মো. মিজানুর রহমান। তিনি বলেন, সোমেশ্বরী নদীর পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে। আমরা কৃষকদের দ্রুত ধান কেটে নেওয়ার পরামর্শ দিচ্ছি এবং ধান কর্তনের জন্য প্রয়োজনীয় সহযোগিতাও করা হচ্ছে। এখনো বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়নি, তবে সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।

 

No comments found


News Card Generator