ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রতীক পেয়েই সাতক্ষীরায় গণসংযোগে ব্যস্ত প্রার্থীরা..

শেখ আমিনুর হোসেন, সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টার: avatar   
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রতীক পেয়েই সাতক্ষীরায় গণসংযোগে ব্যস্ত প্রার্থীরা..
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রতীক পেয়েই সাতক্ষীরায় গণসংযোগে ব্যস্ত প্রার্থীরা..
প্রতীক বরাদ্দের পর সব রাজনৈতিক দলের শুরু হয়েছে সাতক্ষীরায় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক প্রচার প্রচারণা..

শেখ আমিনুর হোসেন, সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টার, সাতক্ষীরা:

মার্কেটপ্লেস পণ্যসমূহ (Marketplace)

সরাসরি কেনাকাটা করুন
সবগুলো দেখুন

প্রতীক বরাদ্দের পর সব রাজনৈতিক দলের শুরু হয়েছে সাতক্ষীরায় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক প্রচার প্রচারণা। 

সাতক্ষীরা-১ (তালা - কলারোয়া) বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)'র ধানের শীষ প্রতিক এর প্রার্থী:

বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি '২৬) বেলা ১১টায় সাতক্ষীরার কলারোয়ায় বিএনপি মনোনীত ধানের শীষের প্রার্থী সাবেক এমপি ও কেন্দ্রীয় নেতা হাবিবুল ইসলাম হাবিব তার বাবা-মায়ের কবর জিয়ারতের মধ্যে দিয়ে শুরু করেন নির্বাচনী প্রচার প্রচারনা। 

কলারোয়া উপজেলা সদরের বিভিন্ন এলাকায় তিনি দলীয় নেতাকর্মী ও সমর্থকদের সঙ্গে নিয়ে গণসংযোগে অংশ নেন এবং লিফলেট বিতরণ করেন এবং সাধারণ মানুষের কাছে ধানের শীষ প্রতীকে ভোট প্রার্থনা করেন। এ সময় স্থানীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ উদ্দীপনা লক্ষ্যে করা যায়।

গণসংযোগকালে সাতক্ষীরা-১ আসনের প্রার্থী সাবেক এমপি হাবিব বলেন, তালা ও কলারোয়া এলাকার মানুষ দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য উন্নয়ন থেকে বঞ্চিত। নির্বাচিত হলে তিনি এলাকার শিক্ষার পরিবেশ উন্নয়নকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেবেন। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে নিরাপদ ও সুশৃংখল পরিবেশ নিশ্চিত করে শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ গড়ার ওপর জোর দেবেন তিনি। 

তিনি আরও বলেন, মানুষের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং এলাকায় আইন-শৃংখলা পরিস্থিতির উন্নয়ন তার অন্যতম লক্ষ্য। পাশাপাশি রাস্তাঘাট, স্বাস্থ্যসেবা, কর্মসংস্থান ও কৃষি খাত পরিকল্পিত উন্নয়ন বাস্তবায়নে তিনি কাজ করবেন। তালা ও কলারোয়ার সার্বিক উন্নয়নে আজীবন কাজ করে যাওয়ার অঙ্গীকার করেন বিএনপির এই প্রার্থী।

হাবিব বলেন, ধানের শীষ প্রতীক গণতন্ত্র ও মানুষের ভোটের অধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠার প্রতীক। জনগণের সমর্থন পেলে তিনি এলাকার উন্নয়ন ও সাধারণ মানুষের অধিকার রক্ষায় নিজেকে সম্পূর্ণভাবে নিয়োজিত রাখবেন। তিনি এমপি থাকাকালীন তালা ও কলারোয়ায় ব্যাপক উন্নয়ন করেছেন বল দাবী করে জানান, মানুষদের ব্যাপক সাড়া পাচ্ছেন তিনি। নিরপেক্ষ ভোট জয়লাভের বিষয়ে আশাবাদী বিএনপির এই প্রার্থী। এসময় তার সাথে বিপুল সংখ্যক দলীয় নেতা-কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। এদিকে, ভোটের আমেজ সাধারণ মানুষ উপভোগ করছেন। নির্বাচনের দিন পর্যন্ত এমন শান্তিপূর্ণ পরিবেশ চান তারা।

এছাড়াও তিনি একই দিন বিকালে তালা উপজেলার ধানদিয়া ইউনিয়নে নির্বাচনী জনসভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সাতক্ষীরা-১ (তালা ও কলারোয়া) আসনের ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী ও সাবেক সংসদ সদস্য হাবিবুল ইসলাম হাবিব বলেছেন, যেহেতু আওয়ামী লীগ নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে না, তাই তিনি সকলের প্রতি সম্মান জানিয়ে ভোট প্রার্থনা করছি । তিনি বলেন, বিএনপি, মুক্তিযোদ্ধা দল সকল শ্রেণি-পেশার মানুষ যেন ঐক্যবদ্ধভাবে তাকে ভোট দেন, যাতে তিনি এলাকার উন্নয়নে কাজ করতে পারেন।

নির্বাচনী জনসভায় তিনি বলেন, পূর্বে এমপি থাকাকালীন সময়ে তিনি তালা ও কলারোয়া এলাকার বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজে ভূমিকা রেখেছিলেন। আগামীতে তালাকে পৌরসভা হিসেবে উন্নীত করা, পাটকেলঘাটাকে উপজেলা ঘোষণা, তালা বাইপাস সড়ক নির্মাণ, কপোতাক্ষা নদীর ওপর কানাইদিয়া–কপিলমুনি সেতু, মাইকেল মধুসূদন দত্তের যাতায়াতের জন্য সেতু ও একটি আধুনিক খেলার স্টেডিয়াম নির্মাণসহ তালা ও কলারোয়ার সার্বিক উন্নয়ন করা হবে। তিনি বলেন, পাটকেলঘাটা উপজেলা হলে এ অঞ্চলের উন্নয়ন আরও ত্বরান্বিত হবে।

তিনি আরও বলেন, যুবকদের জন্য কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা হবে, নারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে এবং সংখ্যালঘু হিন্দু সম্প্রদায়ের সম্পত্তির কোনো ক্ষতি হতে দেওয়া হবে না। পাশাপাশি ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ডসহ বিএনপির বিশেষ সামাজিক ও অর্থনৈতিক পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হবে।

বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি '২৬) বিকালে জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে সাতক্ষীরার তালা উপজেলার ধানদিয়া ইউনিয়নের ফুলবাড়ী হাইস্কুল মাঠে বিএনপির নির্বাচনী সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন।

সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন ধানদিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আলম সরদার এবং সঞ্চালনা করেন সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মেল হোসেন।

বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন তালা উপজেলা বিএনপির সভাপতি মৃণাল কান্তি রায়,কলারোয়ার উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি অধ্যক্ষ রইছ উদ্দিন, তালা উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অধ্যক্ষ শফিকুল ইসলাম, সহ-সভাপতি গোলাম মোস্তফা, যুগ্ম সম্পাদক অধ্যাপক মোশারফ হোসেন, জালালপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এম. মফিদুল হক লিটু, ধানদিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আলম, সাবেক চেয়ারম্যান মহব্বত হোসেন, উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক মীজা আতিয়ার রহমান, সদস্য সচিব মোস্তফা হোসেন মন্টু, যুগ্ম আহ্বায়ক সাইদুর রহমান সাইদ, স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক রফিকুল ইসলাম, জাসাসের সাধারণ সম্পাদক রাসের বিশ্বাসসহ বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতৃবৃন্দ।

সমাবেশে স্কুল মাঠে শত শত নেতা-কর্মী ও সাধারণ ভোটার উপস্থিত ছিলেন। এ সময় নেতা-কর্মীরা বলেন, তালা ও কলারোয়ার উন্নয়নের জন্য সাবেক এমপি হাবিবুল ইসলাম হাবিবের বিকল্প নেই।

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী দাড়ীপাল্লা প্রতিক এর প্রার্থী:

‎‎সাতক্ষীরার তালায় উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর উদ্যোগে আসন্ন ত্রৈয়দশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে নির্বাচনী জনসভা ও মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারী '২৬) বিকাল ৩টায় তালা পুরাতন হাইস্কুল মাঠে উপজেলা জামায়াতের সভাপতি মাওঃ মফিদুল্লাহ'র সভাপতিত্বে ও সেক্রেটারী ইদ্রিস আলীর সঞ্চালনায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী অধ্যক্ষ মোঃ ইজ্জত উল্লাহ।

‎বক্তব্য রাখেন, সাতক্ষীরা জেলা জামায়াতের নায়েবে আমীর ডাঃ মোঃ মাহমুদুল হক, জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারী অধ্যাঃ মোঃ সুজায়েত আলী, উপজেলা জামায়াতের সহ সেক্রেটারী মাওঃ মাসুম বিল্লাহ, তালা উপজেলা কর্মপরিষদ সদস্য ডাঃ আফতাব উদ্দীন, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের এজিএস মাসুদ রানা, ঢাকা পল্টন থানার যুব জামায়াতের সভাপতি ডাঃ তবিবুর রহমান, শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন নেতা আমিনুর রহমান, উপজেলা যুব জামায়াতের সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান রেন্টু, ইসলামকাটি ইউপি চেয়ারম্যান অধ্যাঃ গোলাম ফারুক, এ্যড. মশিয়ার রহমান, মাওঃ কবিরুল ইসলাম, কাজী মাহফুজুর রহমান, শাহ আলম,   মাওঃ রেজাউল করিম, আনোয়ার হোসেন, নাহিদ হাসান, উপজেলা ছাত্র শিবিরের সভাপতি জামালুল বান্না, সাব্বির হোসেন প্রমুখ।

‎এসময় প্রধান অতিথির বক্তব্যে ইজ্জত উল্লাহ বলেন, জামায়াতে ইসলামী এ দেশে ইনছাপ ভিত্তিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করতে চায়। আমরা দুর্নীতি, চাঁদাবাজ, দখলবাজ, সন্ত্রাসবাদ নির্মুল করতে চায়। তিনি সকল ধর্মের মানুষের অধিকার আদায়ের জন্য দাঁড়িপাল্লা কে বিজয়ী করার আহবান জানান। 

‎‎সমাবেশ শেষে একটি বিশাল মিছিল উপজেলা সদরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে।

সাতক্ষীরা -২ (সাতক্ষীরা সদর ও দেবহাটা) আসনের ধানের শীষ প্রতিক এর প্রার্থী:

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সাতক্ষীরা-২ (সদর-দেবহাটা) আসনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) মনোনীত ধানের শীষের সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী আলহাজ্ব মোঃ আব্দুর রউফের স্মরণকালের সর্ববৃহৎ বিশাল নির্বাচনী জনসভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। 

বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারী) বিকালে সাতক্ষীরা সদরের আলিপুর ইউনিয়ন মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠে আলিপুর ইউনিয়নবাসীর আয়োজনে আলিপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি রেজাউল ইসলামের সভাপতিত্বে নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন সাতক্ষীরা-২ (সাতক্ষীরা সদর-দেবহাটা) আসনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) মনোনীত ধানের শীষের সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী আলহাজ্ব মোঃ আব্দুর রউফ। প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, প্রিয় এলাকাবাসী আমি আপনাদেরই সন্তান। আমি আপনাদের দোয়া ও ভালোবাসা নিয়ে আমার পিতা-মাতা ও প্রয়াত দলীয় নেতা কর্মীদের কবর জিয়ারতের মধ্য দিয়ে নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করেছি।

আপনারা আমাকে আপনাদের মহামূল্যবান ভোট আমাকে দেবেন এটা আমার হক। মহান আল্লাহ চাইলে আমি আপনাদের ভোটেই এমপি নির্বাচিত হব ইনশাল্লাহ। আমি সব সময় আমার এলাকার মানুষের উন্নয়নে রাস্তাঘাট, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সহ বিভিন্ন উন্নয়ন করেছি। সাতক্ষীরা-২ আসন বিএনপির ধানের শীষের ঘাঁটি। সাতক্ষীরার উন্নয়নে ধানের শীষের বিকল্প নেই। 

নির্বাচনী জনসভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন সাতক্ষীরা জেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক এডভোকেট সৈয়দ ইফতেখার আলী, জেলা বিএনপি'র সদস্য সচিব আবু জাহিদ ডাবলু, জেলা বিএনপি'র প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক কামরুল ইসলাম ফারুক, জেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক শেখ তারিকুল হাসান, জেলা বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক আবুল হাসান হাদী, তাজকিন আহমেদ চিশতি, জেলা বিএনপির সাবেক সমন্বয়ক ও সাবেক যুগ্ম আহবায়ক হাবিবুর রহমান হাবিব, জেলা যুবদলের সাবেক প্রতিষ্ঠাকালীন সাধারণ সম্পাদক নাছিম ফারুক খান মিঠু, জেলা বিএনপির সদস্য প্রভাষক মোঃ আতাউর রহমান, জেলা যুবদলের সাবেক সমন্বয়ক আইনুল ইসলাম নান্টা, জেলা যুবদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক এইচ আর মুকুল, সাংগঠনিক সম্পাদক শফিকুল আলম বাবু, জেলা জিয়া পরিষদের সভাপতি অধ্যাপক নূর মোহাম্মদ পাড়, সদর উপজেলা যুবদলের আহবায়ক নজরুল ইসলাম, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক শেখ শরিফুজ্জামান সজীব, জেলা কৃষক দলের সদস্য সচিব রবিউল ইসলাম প্রমুখ। 


আলিপুর ইউনিয়ন সাতক্ষীরা-২ আসনে ধানের শীষের প্রার্থী আলহাজ্ব মো. আব্দুর রউফের স্মরণকালের সর্ববৃহৎ বিশাল নির্বাচনী জনসভায় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) এবং সকল অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দসহ হাজার হাজার নারী পুরুষ উপস্থিত ছিলেন। বিএনপি'র সাধারণ সম্পাদক হাদিউজ্জামান বাদশা।

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী দাড়ীপাল্লা প্রতিক এর প্রার্থী:

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক প্রচারণা শুরু করেছেন সাতক্ষীরা সদর ২ আসনের জামায়াতের প্রার্থী মুহাদ্দিস আব্দুল খালেক।

বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারী'২৬) নিজের নির্বাচনী এলাকা সাতক্ষীরা ২ আসনের (সদর -দেবহাটা) শহীদ আব্দুর রাজ্জাক পার্কে বিকাল সাড়ে ৪টায় সংবর্ধনাসভা আয়োজনের মাধ্যমে তার এই প্রচারণা শুরু হয়। জামায়াত তথা ১০ দলীয় জোটের প্রার্থী মুহাদ্দিস আব্দুল খালেক সংবর্ধনাসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখবেন। 

সংবর্ধনা সভায় মুহাদ্দিস আব্দুল খালেক বলেন, ‘জনগণের বিপুল সমর্থনে সরকার গঠন করবে ১০ দলীয় জোট’ ইনশাল্লাহ।

এদিকে, দুপুর থেকেই হাজার হাজার মানুষ দাঁড়িপাল্লা প্রতীক ও মিছিলসহকারে সভাস্থলে আসতে থাকে। একপর্যায়ে সভাস্থল কানায় কানায় ভরে উঠে। দাঁড়িপাল্লার স্লোগানে স্লোগানে মুখরিত সমাবেশস্থল। ব্যানার-ফেস্টুনে ছেয়ে গেছে গোটা এলাকা। সমাবেশ ঘিরে পুরো এলাকায় মানুষের মাঝে স্বতঃস্ফূর্ত আনন্দ লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

সমাবেশ শেষে একই স্থান থেকে এক বিক্ষোভ মিছিল বের হয়। মিছিলিটি পাকাপুলের মোড়, নিউমার্কেট মোড় হয়ে খুলনা রোডমোড়, নারকেলতলা মোড় হয়ে পূনরায় শহীদ আব্দুর রাজ্জাক পার্কে এসে শেষ হয়।


সাতক্ষীরা শহর জামায়াতের সেক্রেটারি খোরশের আলমের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সমাবেশে বক্তব্য রাখেন, প্রধান অতিথি হিসাবে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সেক্রেটারী ও খুলনা অঞ্চল পরিচালক সাতক্ষীরা ২ আসনের প্রার্থী মুহাদ্দিস আব্দুল খালেক। 

তিনি বলেন, এদেশকে আমরা ক্ষুদামুক্ত, দারিদ্রমুক্ত দেশ গড়তে চাই।  সভায় বিশেষ অতিথি হিসাবে বক্তব্য রাখেন কেন্দীয় মুজলিসে শুরার সদস্য ও জেলা জামায়াতের নায়েবে আমীর শেখ নুরুল হুদা। সভায় অন্যান্যের মধ্যে জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি প্রভাষক মোঃ ওমর ফারুক, জেলা কর্মপরিষদের সদস্য অধ্যক্ষ আব্দুল ওয়ারেস,শহর আমীর জাহিদুল ইসলাম, সদর উপজেলা আমীর মাওলানা মোশারফ হোসেন, বাংলাদেশ ইসলামি ছাত্রশিবির সাতক্ষীরা শহর সভাপতি আল মামুন, জেলা কর্মপরিষদ সদস্য এড. আজিজুল ইসলাম, শহর নায়েবে আমীর ফখরুল হাসান লাভলু, সদর উপজেলা জামায়াতের নায়েবে আমীর মাওঃ হাবিবুর রহমান প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।

জাতীয় পার্টি লাঙ্গল প্রতীক এর প্রার্থী:

সাতক্ষীরায় জাতীয় পার্টির লাঙ্গল প্রতীকের প্রার্থী ও সাবেক এমপি আশরাফুজ্জামান আশু বলেছেন, আমি এমপি হলে শুধু একজন ব্যক্তি সংসদে যাবে না, সাতক্ষীরা সদর–দেবহাটার প্রতিটি মানুষই তখন এমপি হবে।

বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি '২৬) দুপুরে সাতক্ষীরা সদর ও দেবহাটা উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের নেতাকর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে সাতক্ষীরা সদর–দেবহাটা আসনে ভোটারদের সঙ্গে নিবিড় যোগাযোগ শুরু করেছেন আশরাফুজ্জামান আশু।

আশরাফুজ্জামান আশু বলেন, আমি বিশ্বাস করি এমপি মানে ক্ষমতা নয়, দায়িত্ব ও সেবার জায়গা। জনপ্রতিনিধি হিসেবে মানুষের সুখ–দুঃখ, ন্যায়বিচার ও উন্নয়ন নিশ্চিত করাই আমার রাজনীতির মূল লক্ষ্য।

পূর্বেকার সংসদের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, আমি মাত্র সাত মাস সংসদ সদস্য ছিলাম। কিন্তু এই স্বল্প সময়ের মধ্যেই প্রমাণ করেছি রাজনীতিতে সৌজন্যতা, সহনশীলতা ও ন্যায়ের কোনো বিকল্প নেই।

তিনি আরও বলেন, আমার সময়ে জামায়াত– বিএনপির একজন নেতাকেও বিনা কারণে গ্রেপ্তার হতে দিইনি। কাউকে রাজনৈতিক হয়রানি করা হয়নি। সব দলের নেতাকর্মীরা শান্তিপূর্ণভাবে রাজনীতি করার সুযোগ পেয়েছেন।

তিনি সদর–দেবহাটার উন্নয়ন প্রসঙ্গে বলেন, এই জনপদের অবকাঠামো, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও কর্মসংস্থান খাতে এখনও ব্যাপক কাজ বাকি রয়েছে। জনগণের সমর্থন পেলে তিনি পরিকল্পিত ও সমান উন্নয়ন নিশ্চিত করার অঙ্গীকার করেন।

মতবিনিময় সভায় জেলা জাতীয় পার্টির সভাপতি শেখ আজহার হোসেনের সভাপতিত্বে আরও বক্তব্য রাখেন, জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির ক্রীড়া সম্পাদক ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মশিউর রহমান বাবু, জেলা জাতীয় পার্টির সহ সভাপতি মো. নজরুল ইসলাম, সাতক্ষীরা সদর উপজেলা জাপা সভাপতি আনোয়ার জাহিদ তপন, সাধারণ সম্পাদক শেখ শরিফুজ্জামান বিপুল, জেলা জাপার সাংগঠনিক সম্পাদক আকরাম হোসেন খান বাপ্পি, অর্থ সম্পাদক মো. আশরাফ আলী, পৌর সভাপতি ও ২নং ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর সৈয়দ মাহমুদ পাপা, পৌর সাধারণ সম্পাদক শেখ আব্দুস সাদেক, জেলা ছাত্রসমাজের সভাপতি ও সাবেক পৌর কাউন্সিলর কায়ছারুজ্জামান হিমেল, জেলা সেচ্ছাসেবক পার্টির আহবায়ক আমিনুর হক ফিরোজ, সদস্য সচিব কমল বিশ্বাস, জেলা যুব সংহতির সভাপতি আশিকুর রহমান বাপ্পি, সাধারণ সম্পাদক আবু তাহের, জেলা তরুণ পার্টির সভাপতি আবু ইয়াসিন, সাধারণ সম্পাদক আব্দুল কাদের, দেবহাটা উপজেলা সাংগঠনিক সম্পাদক আনিসুর রহমান বকুল, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার হোসেন আনু, সাবেক ছাত্রনেতা মো. আনসার আলী গাইনসহ জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের বিভিন্ন অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।

সভা শেষে নেতাকর্মীদের প্রতি নির্বাচনী প্রচার–প্রচারণা আরও জোরদার করার আহ্বান জানানো হয়। এ সময় দেশ ও জাতির শান্তি, সমৃদ্ধি ও কল্যাণ কামনায় দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়। দোয়া পরিচালনা করেন সাতক্ষীরা পুরাতন কোর্ট জামে মসজিদের পেশ ইমাম হাফেজ ক্বারি ফিরোজ আহমেদ।

সাতক্ষীরা -৩ (কালিগঞ্জ - আশাশুনি) ধানের শীষ প্রতিক এর প্রার্থী:

অপেক্ষা শেষ শুরু হল এয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটের লড়াই। সাতক্ষীরা-৩ (কালিগঞ্জ- আশাশুনি) আসনে বিএনপি’র মনোনীত প্রার্থী আলহাজ্ব কাজী আলাউদ্দিন সাতক্ষীরার কালীগঞ্জ উপজেলার কৃষ্ণনগর ইউনিয়নের কৃষাণ মজদুর ইনস্টিটিউট মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠ থেকে বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি '২৬) বিকাল ৪ টায় ধানের শীষে ভোট চেয়ে প্রথম নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করেছেন।

নির্বাচনী প্রচারণা সমাবেশে কাজী আলাউদ্দিন বিএনপি’র প্রতিষ্ঠাতা রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সহধর্মিণী সদ্য প্রয়াত সাবেক ৩ বারের প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার রুহের মাগফেরাত কামনা করে বলেন তারই উত্তরসূরি বর্তমান বিএনপি’র সভাপতি ও চেয়ারপারসন তারেক জিয়ার ৩১ দফা বাস্তবায়নে দেশকে এগিয়ে নিতে তিনি মাঠে নেমেছেন।

বিএনপি’র স্থায়ী কমিটির সদস্য ও ধানের শীষের প্রার্থী কাজী আলাউদ্দিন তার বক্তব্যে বলেন, তারেক জিয়া ঘোষিত রাষ্ট্র কাঠামো মেরামতের ৩১ দফা এবং জুলাই জাতীয় সনদের গুরুত্ব দিয়ে দেশকে এগিয়ে নিতে হবে। আমি নির্বাচিত হলে ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, স্বাস্থ্য, শিক্ষা ,ক্রীড়া ,পরিবেশ ও কর্মসংস্থানের উন্নয়ন করা হবে। এবারের নির্বাচনে বিএনপি জয়লাভ করে ক্ষমতায় এসে সরকার গঠন করবে। সেই লক্ষ্যে আপনারা ধানের শীষে ভোট দিয়ে দেশনায়ক তারেক জিয়ার দেশ গড়ার সুযোগ করে দিবেন। 

তিনি আরও বলেন, বিগত ২০০১ সালে সংসদ নির্বাচনে আমি নির্বাচিত হয়ে এ অঞ্চলে অনেক উন্নয়ন করেছি। এলাকার রাস্তাঘাট ,কালভার্ট, ব্রিজ, স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা, মন্দির ,মসজিদ, বিদ্যুৎ সহ সকল ইউনিয়ন পরিষদ ভবন আমার হাতে গড়া। এজন্য মানুষ আমাকে উন্নয়নের রূপকার বলে। আপনারা আবার নির্বাচিত করে আমাকে উন্নয়নের সুযোগ দিলে এলাকার অসম্পূর্ণ কাজগুলো সম্পন্ন করবো ইনশাল্লাহ। একটি দল ধর্মকে পুঁজি করে আপনাদের মাঝে বিভিন্ন বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে তাতে কান দিবেন না। আমি নির্বাচিত হলে এলাকায় কোন সন্ত্রাস, চাঁদাবাজ ও সংখ্যালঘু নির্যাতন কারীদের স্থান হবে না। বিগত ফ্যাসিবাদী আওয়ামী দুঃশাসনে এলাকার কোন উন্নয়ন হয়নি। এলাকায় উন্নয়নের নামে বিভিন্ন প্রকল্পের টাকা হরি লুট করে তারা দেশ ছেড়ে পালিয়ে গেছে। তাই ভেদাভেদ ভুলে দলমতের ঊর্ধ্বে থেকে এলাকার উন্নয়ন ও শান্তি চাইলে ধানের শীষে ভোট দেওয়ার আহবান জানান।

জনসভায় উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহবায়ক হাফিজুর রহমান শিমুলের সঞ্চালনায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন উপজেলা বিএনপি সাবেক আহ্বায়ক ও জেলা বিএনপির সদস্য শেখ এবাদুল ইসলাম, উপজেলা বিএনপি’র সাবেক সদস্য সচিব ডাক্তার শেখ শফিকুল ইসলাম বাবু, উপজেলা বিএনপি উপজেলা বিএনপি’র সাবেক যুগ্ন আহবায়ক আখতারুজ্জামান বাপ্পি, কেন্দ্রীয় কৃষক দলের সদস্য রমিজ উদ্দিন রুমি, উপজেলা কৃষক দলের আহ্বায়ক রোকনুজ্জামান রোকন, উপজেলা যুবদলের সিনিঃ যুগ্ম আহবায়ক প্রভাসক সাইফুল ইসলাম, যুগ্ম আহবায়ক জিএম রবিউল্লাহ বাহার, বিষ্ণুপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মাহমুদ মোস্তফা, কৃষ্ণনগরের সেক্রেটারী আফজাল হোসেন ও সাংগঠনিক সম্পাদক মাহমুদ মোস্তফা প্রমূখ। এছাড়াও উপজেলা বিএনপি’ও ইউনিয়ন বিএনপির বিভিন্ন নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।


ধানেরশীষ এর প্রথম জনসভায় হাজার হাজার নেতাকর্মী ও সমর্থক উপস্থিত ছিলেন। এদিন সকাল থেকেই কৃষ্ণনগরের প্রতিটি ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে ধানেরশীষ প্রতিকের হ্যান্ডবিল ভোটার সাধারণের নিকট পৌছে দেন এবং এলাকার উন্নয়ন আর স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব রক্ষায় ধানেরশীষ এর ভোট চান সাবেক সংসদ কাজী আলাউদ্দীন।

উল্লেখ্য:  সাতক্ষীরার চারটি সংসদীয় আসনের ২০ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। সবাই বৃহস্পতিবার থেকে প্রচার প্রচারনায় নেমেছেন। চারটি আসনের মধ্যে সাতক্ষীরা-১ আসনে ৫ জন প্রার্থী। তারা হলেন, বিএনপি মনোনীত প্রার্থী হাবিবুল ইসলাম হাবিব ধানের শীষ প্রতিক, জামায়াতের মোঃ ইজ্জত উল্লাহ দাড়িপাল্লা প্রতিক, ইসলামি আন্দোলনের শেখ মোঃ রেজাউল ইসলাম হাতপাখা প্রতিক, জাতীয় পার্টির জিয়াউর রহমান লাঙ্গল প্রতিক এবং বাংলাদেশ কংগ্রেসের ইয়ারুল ইসলাম ডাব প্রতিক নিয়ে প্রচার প্রচারনা চালাচ্ছেন।

সাতক্ষীরা-২ আসনেও ৫ জন প্রার্থী। তারা হলেন, বিএনপির প্রার্থী আব্দুর রউফ ধানের শীষ প্রতিক, জামায়াতের মুহাদ্দিস আব্দুল খালেক দাড়িপাল্লা প্রতিক, জাতীয় পার্টির আশরাফুজ্জামান আশু লাঙ্গল প্রতিক, ইসলামী আন্দোলনের মুফতী রবিউল ইসলাম হাতপাখা এবং বাংলাদেশ জাসদের ইদ্রিস আলী মোটরগাড়ি (কার) প্রতিক নিয়ে প্রচার প্রচারনা চালাচ্ছেন।

সাতক্ষীরা-৩ আসনে ৬ জন প্রার্থী। তারা হলেন, বিএনপির প্রার্থী কাজী আলাউদ্দীনর ধানের শীষ প্রতিক, জামায়াতের হাফেজ রবিউল বাশারের দাড়িপাল্লা, জাতীয় পার্টির আলিপ হোসেনর লাঙ্গল প্রতিক, ইসলামী আন্দোলনের ওয়েজ কুরনীর হাতপাখা প্রতিক। এছাড়া আলোচিত স্বতন্ত্র প্রার্থী ও বিএনপির বিদ্রোহী হিসেবে পরিচিত ডা. শহিদুল আলম এর ফুটবল প্রতীক এবং বিএমজেপির রুবেল হোসেনের রকেট প্রতিক নিয়ে প্রচার প্রচারনা চালাচ্ছেন।

এছাড়া, সাতক্ষীরা-৪ আসনে ৪ জন প্রার্থী। তারা হলেন, বিএনপির ড. মুহাম্মদ মনিরুজ্জামান ধানের শীষ প্রতিক, জামায়াতের জিএম নজরুল ইসলাম দাড়িপাল্লা প্রতিক, জাতীয়পার্টির আব্দুর রশিদ লাঙ্গল প্রতিক এবং ইসলামী আন্দোলনের মোস্তফা আল মামুন হাতপাখা প্রতিক নিয়ে প্রচার প্রচারনা চালাচ্ছেন। 

তবে, সাতক্ষীরার চারটি আসনের অধিকাংশ আসনে মূলত বিএনপি মনোনীত প্রার্থীদের সাথে লড়াই হবে জামায়াত প্রার্থীদের বলে সাধারণ ভোটাররা জানিয়েছেন।

No comments found


News Card Generator