ময়মনসিংহের তারাকান্দা উপজেলার ৪ নং গালাগাঁও ইউনিয়নের ৩ নং ওয়ার্ডের বহেরাকান্দি–চরাকান্দা সড়কটির অবশিষ্ট প্রায় ৩ কিলোমিটার অংশের বেহাল দশা স্থানীয় জনজীবনে স্থবিরতা তৈরি করেছে। রোড আইডি ৩৬১১৮৪০৪২ হিসেবে পরিচিত এই গুরুত্বপূর্ণ গ্রামীণ সড়কটি দীর্ঘ সময় ধরে সংস্কারবিহীন পড়ে থাকায় এলাকাবাসীর যাতায়াত ব্যবস্থা সম্পূর্ণ ভেঙে পড়েছে। বর্ষা মৌসুমে সড়কটি কর্দমাক্ত ও পিচ্ছিল হয়ে পড়ায় সাধারণ মানুষের চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ে, যা স্থানীয় যোগাযোগ ব্যবস্থাকে চরম ঝুঁকির মুখে ঠেলে দিয়েছে। স্থানীয়দের দীর্ঘদিনের এই দাবি এখন আর কেবল মৌখিক অভিযোগের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই, বরং এটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি গণআন্দোলনের রূপ নিয়েছে, যেখানে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে এলাকাবাসী প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা করছেন। সড়কটি পাকা নির্মাণের দাবি জানিয়ে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়, এলজিইডি, জেলা ও উপজেলা প্রশাসন এবং স্থানীয় সংসদ সদস্য বরাবর গণআবেদন জমা দেওয়া হয়েছে, যা এই অঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের বঞ্চনার প্রতিফলন হিসেবে দেখা হচ্ছে।
মার্কেটপ্লেস পণ্যসমূহ (Marketplace)
সড়কটির বর্তমান জরাজীর্ণ অবস্থার কারণে ভুক্তভোগী মানুষের তালিকা দীর্ঘ হচ্ছে প্রতিদিন। স্থানীয় কৃষক, শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ী এবং শ্রমজীবী মানুষের পাশাপাশি গর্ভবতী নারী, অসুস্থ রোগী ও প্রবীণরা এই পথে যাতায়াতের সময় অবর্ণনীয় কষ্টের শিকার হচ্ছেন। বিশেষ করে জরুরি স্বাস্থ্যসেবা নিতে বা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যাতায়াতে এই সড়কটি বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। স্থানীয় যুবসমাজের প্রতিনিধিরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলছেন, একটি এলাকার অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নের মূল চাবিকাঠি হলো উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা, অথচ এই ৩ কিলোমিটার সড়ক তাদের মূলধারা থেকে বিচ্ছিন্ন করে রেখেছে। ভুক্তভোগীদের মতে, কেবল রাস্তা নয়, এটি তাদের শিক্ষা, চিকিৎসা ও কর্মসংস্থানের পথে এক অদৃশ্য দেয়াল হয়ে দাঁড়িয়েছে। স্থানীয় যুবকদের ভাষায়, আমরা কেবল একটি চলাচলের পথ চাইছি না, বরং এমন একটি অবকাঠামো চাইছি যা আমাদের জীবনযাত্রার মান পরিবর্তন করবে এবং গ্রাম থেকে শহরে যাতায়াতের সময় কমিয়ে আমাদের উৎপাদনশীলতাকে বৃদ্ধি করবে। এই সড়কটি সংস্কার না হওয়ায় কৃষি পণ্য বাজারজাতকরণেও কৃষকদের অতিরিক্ত পরিবহন ব্যয় বহন করতে হচ্ছে, যা তাদের আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন করছে প্রতিনিয়ত।
এলাকাবাসীর এই গণদাবির প্রেক্ষিতে স্থানীয় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বরাবর নজরদারির দাবি তোলা হয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, বারবার আবেদন নিবেদন করার পরেও কার্যকর কোনো উদ্যোগ গ্রহণ না করায় জনদুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উচিত দ্রুত সরেজমিন পরিদর্শন করে সড়কটির বর্তমান অবস্থা বিশ্লেষণ করা এবং অগ্রাধিকার ভিত্তিতে প্রকল্প গ্রহণের মাধ্যমে এর নির্মাণকাজ শুরু করা। প্রশাসন ও এলজিইডি কর্মকর্তাদের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো সুনির্দিষ্ট আশ্বাস পাওয়া না গেলেও, সোশ্যাল মিডিয়ায় এই ইস্যুটি ভাইরাল হওয়ার পর স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছেন যে, কর্তৃপক্ষ এখন আর বিষয়টি এড়িয়ে যেতে পারবে না। এলাকাবাসী স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন যে, জনস্বার্থের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে অবিলম্বে বাজেট বরাদ্দ ও কাজের টেন্ডার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা প্রয়োজন, যাতে আগামী বর্ষা মৌসুমের আগেই এই ভোগান্তি থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব হয়। পরিকল্পিত উন্নয়নের ক্ষেত্রে গ্রামীণ সড়কের এই অংশটি নির্মাণ এখন সময়ের দাবি হয়ে দাঁড়িয়েছে।
পরিশেষে, বহেরাকান্দি–চরাকান্দা সড়কের এই ৩ কিলোমিটার অংশ উন্নয়নের আওতায় না এলে অদূর ভবিষ্যতে তারাকান্দার এই জনপদটি সামগ্রিক উন্নয়ন সূচকে পিছিয়ে পড়ার প্রবল আশঙ্কা রয়েছে। সড়কের এই সংকট কেবল স্থানীয় মানুষের চলাচলের সমস্যা নয়, বরং এটি একটি অবহেলিত অঞ্চলের অর্থনৈতিক সম্ভাবনার অপচয়। যদি দ্রুত কার্যকর ও টেকসই সড়ক নির্মাণ প্রকল্প গ্রহণ করা না হয়, তবে সাধারণ মানুষের ক্ষোভ আরও ঘনীভূত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করা হলে তা কেবল এলাকাবাসীর ভোগান্তিই কমাবে না, বরং গ্রামীণ অবকাঠামোগত উন্নয়নে সরকারের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এখন দেখার বিষয়, সংশ্লিষ্ট নীতিনির্ধারকরা জনমতের এই উত্তাপকে কতটা গুরুত্বের সাথে গ্রহণ করে উন্নয়নের পথে দ্রুত ধাবিত হন।
সংবাদটির ওপর ভিত্তি করে তাৎক্ষণিক একটি ব্যঙ্গাত্মক রাজনৈতিক কার্টুন তৈরি করুন।