close

ভিডিও দেখুন, পয়েন্ট জিতুন!

সুন্দরবনে জলদস্যুদের কবল থেকে মুক্তি পেলেন সাত জেলে

শেখ আমিনুর হোসেন, সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টার, সাতক্ষীরা avatar   
শেখ আমিনুর হোসেন, সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টার, সাতক্ষীরা
মুক্তিপণের টাকা পরিশোধ করে নিরাপদে ফিরে এলেন অপহৃত সাত জেলে

শেখ আমিনুর হোসেন, সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টার, সাতক্ষীরা :

সুন্দরবনের পশ্চিম অংশে জলদস্যুদের দ্বারা অপহৃত সাত জেলে সম্প্রতি তাদের পরিবারের কাছে ফিরে এসেছেন। বৃহস্পতিবার (২৮ আগস্ট '২৫) বিকেলে বিকাশের মাধ্যমে আড়াই লাখ টাকা মুক্তিপণ পরিশোধের পর তাদের মুক্তি দেওয়া হয়।

ফিরে আসা জেলেরা হলেন মীরগাং গ্রামের সাকাত সরদারের ছেলে মোঃ ইব্রাহিম, পারশেখালী গ্রামের আব্দুল গফুরের ছেলে আব্দুল হামিদ, টেংরাখালী গ্রামের সুজন মুন্ডার ছেলে সুজিত, কালিন্চি গ্রামের কেনা গাজীর ছেলে রকিবুল ইসলাম এবং আরও দুইজন যারা কালিণ্চি কলোনি পাড়ার বাসিন্দা।

ঘটনাটি ঘটে গত সোমবার ও মঙ্গলবার, যখন একটি ছয় সদস্যের জলদস্যু দল দাড়গাং এলাকার নিকটস্থ খাল থেকে এই জেলেদের অপহরণ করে। জলদস্যুরা নিজেদেরকে 'কাজল বাহিনী' বলে পরিচয় দেয় এবং একটি ডিঙ্গি নৌকা ও চারটি আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে খালের মধ্যে অবস্থান করছিল।

ফিরে আসা জেলেদের বর্ণনায় জানা যায় যে, জলদস্যুরা তাদের কোনো শারীরিক ক্ষতি করেনি। শুরুতে মাথাপিছু ৫০ হাজার টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হলেও পরিবারগুলোর সঙ্গে আলোচনার পর মাথাপিছু ৩৫ হাজার টাকায় সমঝোতা হয়।

স্থানীয় ইউপি সদস্য আবদুল হামিদ লালটু জানান, অপহরণের শিকার জেলেরা নিরাপদে বাড়ি ফিরেছেন। শ্যামনগর থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ হুমায়ুন কবির মোল্লা জানান, এই ঘটনার বিষয়ে পুলিশ এখনও আনুষ্ঠানিক কোনো তথ্য পায়নি, তবে তারা এ বিষয়ে তৎপরতার সাথে কাজ করছে।

সাতক্ষীরা রেঞ্জের সহকারী বন সংরক্ষণ মোঃ ফজলুল হক জানান, অপহরণের বিষয়ে তারা লোকমুখে শুনেছেন এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে স্মার্ট পেট্রোল টিমসহ বন কর্মীদের একাধিক দল মাঠে কাজ করছে।

জেলেদের মতে, এই মুক্তিপণের পর আগামী দুই মাস তাদের সুন্দরবনে প্রবেশের জন্য নতুন করে কোনো অর্থ দিতে হবে না বলে জলদস্যুরা আশ্বাস দিয়েছে। তবে, এই ধরনের ঘটনা সুন্দরবনের প্রাণবৈচিত্র্য ও নিরাপত্তার জন্য এক গুরুতর হুমকি এবং স্থানীয় প্রশাসন ও বনবিভাগকে এ ধরনের অপরাধ প্রতিরোধে আরও কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণের প্রয়োজন আছে।

এই ঘটনাটি সুন্দরবনের নিরাপত্তা ব্যবস্থার উপর প্রশ্ন তুলে দিয়েছে। জলদস্যুদের এই অপতৎপরতা বন্ধ করতে হলে স্থানীয় প্রশাসন, বনবিভাগ এবং নিরাপত্তা বাহিনীর সমন্বিত প্রচেষ্টা অপরিহার্য।

Комментариев нет