ময়মনসিংহের তারাকান্দা উপজেলার ৭নং রামপুর ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ডের মারুয়াকান্দি ও মেঘাহালা গ্রামের সংযোগ সড়কটি বর্তমানে এক ভয়াবহ জনদুর্ভোগের কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। দীর্ঘ সময় ধরে প্রয়োজনীয় রক্ষণাবেক্ষণ ও সংস্কারের অভাবে রাস্তাটির পিচঢালাই উঠে গিয়ে অসংখ্য ছোট-বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে, যা বর্ষা মৌসুমে কাদা ও পানিতে একাকার হয়ে মরণফাঁদে রূপ নেয়। স্থানীয়রা একে ফুটবল খেলার মাঠের সাথে তুলনা করছেন, যা সড়কটির বেহাল দশার ভয়াবহতা স্পষ্ট করে। মূলত প্রশাসনিক অবহেলা এবং দীর্ঘমেয়াদী সংস্কারের অভাবের কারণেই গুরুত্বপূর্ণ এই যোগাযোগ পথটি আজ যানবাহন চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। প্রতিদিন এই পথ দিয়ে স্কুল-কলেজ শিক্ষার্থী, জরুরি প্রয়োজনে রোগী বহনকারী যানবাহন এবং কৃষিপণ্য পরিবহনে নিয়োজিত ছোট-বড় যান চলাচল করতে গিয়ে প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছে, যা জননিরাপত্তাকে চরম হুমকির মুখে ঠেলে দিয়েছে।
মার্কেটপ্লেস পণ্যসমূহ (Marketplace)
ভুক্তভোগী এলাকাবাসীর ভাষ্যমতে, এই সড়কটি কেবল যাতায়াতের পথ নয়, বরং এটি তাদের জীবনযাত্রার মান ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের প্রধান ধমনী। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে রাস্তাটি দিয়ে রিকশা বা ভ্যান চালকরাও যাতায়াত করতে অস্বীকৃতি জানান, ফলে চরম সংকটে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। বিশেষ করে বৃষ্টি হলে রাস্তাটি চলাচলের সম্পূর্ণ অযোগ্য হয়ে পড়ে, যার ফলে শিক্ষার্থীদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে উপস্থিতি কমে যাচ্ছে এবং কৃষকরা তাদের উৎপাদিত পণ্য সময়মতো বাজারে পৌঁছাতে পারছেন না। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, বারবার মৌখিক আবেদন জানানো সত্ত্বেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ রাস্তাটির সংস্কারে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করেনি। স্থানীয়রা বলছেন, নিত্যদিনের এই দুর্ভোগ এখন তাদের জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে, যা থেকে উত্তরণের জন্য তারা দীর্ঘকাল ধরে দাবি জানিয়ে আসছেন, কিন্তু বাস্তব চিত্র এখনো হতাশাজনক।
এ বিষয়ে এনসিপির রামপুর ইউনিয়নের নেতা আবু বক্কর সিদ্দিক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, রাস্তাটি দীর্ঘদিন ধরে নষ্ট হয়ে পড়ে থাকলেও কোনো কর্তৃপক্ষই এর দায়ভার নিতে চাচ্ছে না। তিনি আরও বলেন যে, মানুষের এই অবর্ণনীয় কষ্টের কথা বিবেচনায় নিয়ে দ্রুত সংস্কারের কোনো বিকল্প নেই। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যমে বিষয়টি বারবার উত্থাপন করা হলেও কাজের কাজ কিছুই হচ্ছে না। এমতাবস্থায় এলাকাবাসী ময়মনসিংহ-২ আসনের সংসদ সদস্যের সরাসরি হস্তক্ষেপ কামনা করছেন। তারা মনে করছেন, উচ্চপর্যায়ের নির্দেশনা ছাড়া স্থানীয় পর্যায়ের সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো এই সড়কটি সংস্কারে কোনো বিশেষ উদ্যোগ নিতে আগ্রহী নয়, যা প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার অভাবকেই ইঙ্গিত করে।
পরিশেষে, তারাকান্দার এই জনগুরুত্বপূর্ণ সড়কটির সংস্কার না হওয়া পর্যন্ত মানুষের ভোগান্তি কমার কোনো সম্ভাবনা নেই। সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থার এই নাজুক অবস্থা কেবল স্থানীয়দের যাতায়াতই ব্যাহত করছে না, বরং তা সামগ্রিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে স্থবিরতা তৈরি করছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ যদি জরুরি ভিত্তিতে এই রাস্তাটি সংস্কারে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ না করে, তবে অদূর ভবিষ্যতে এই পথটি পুরোপুরি পরিত্যক্ত হওয়ার ঝুঁকিতে পড়বে। সাধারণ মানুষের মৌলিক অধিকার হিসেবে উন্নত যাতায়াত ব্যবস্থা নিশ্চিত করা প্রশাসনের দায়িত্ব, তাই টেকসই উন্নয়নের স্বার্থে দ্রুত এই সড়ক সংস্কারের দাবি এখন সময়ের দাবি হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সংবাদটির ওপর ভিত্তি করে তাৎক্ষণিক একটি ব্যঙ্গাত্মক রাজনৈতিক কার্টুন তৈরি করুন।