ইরফান রহমান বলেন,
“প্রথমে যখন আমি এই যাত্রাটা শুরু করি, তখন সত্যি বলতে আমি নিজেও এতদূর কিছু ভাবিনি। সিনেমায় অভিনয় করব—এই চিন্তাটা আমার কাছে একসময় স্বপ্নের মতো ছিল। ছোটবেলা থেকেই কোথাও না কোথাও ভালো কিছু করার একটা ইচ্ছা ছিল, কিন্তু সেটা যে এত দ্রুত বাস্তবে রূপ নেবে, তা আমি কল্পনাও করিনি।”
তিনি আরও বলেন,
“আমি সবসময়ই চাইতাম এমন কাজ করতে, যেটা শুধু বিনোদন নয়, মানুষের জন্য কিছু বার্তা রেখে যায়। এমন কাজ, যা দেখে কেউ অন্তত কিছু শিখতে পারে, ভাবতে পারে। আমার কাছে অভিনয় শুধু ক্যামেরার সামনে দাঁড়িয়ে সংলাপ বলা নয়—এটা একটা দায়িত্ব।”
অভিনয়ে আসার আগে কণ্ঠশিল্পী হিসেবে কাজ করেছেন ইরফান রহমান। ভয়েস আর্টিস্ট হিসেবে কাজ করার অভিজ্ঞতা তাকে আত্মবিশ্বাসী করে তুলেছে বলেও জানান তিনি। তাঁর ভাষায়,
“ভয়েস আর্টিস্ট হিসেবে কাজ করতে গিয়েই আমি শিখেছি কীভাবে অনুভূতিকে শব্দের মাধ্যমে প্রকাশ করতে হয়। সেই অভিজ্ঞতাই আমাকে অভিনয়ের জগতে আসতে সাহস দিয়েছে।”
তিনি মনে করেন, একজন অভিনেতার কাজের প্রভাব দর্শকের ওপর পড়ে। তাই শুরু থেকেই তিনি এমন কাজের সঙ্গে থাকতে চেয়েছেন, যা সমাজে ইতিবাচক বার্তা পৌঁছে দিতে পারে।
এই ভাবনা থেকেই তিনি যুক্ত হন শিশুতোষ চলচ্চিত্র “গুপ্তধনের খোঁজে”-তে। রহস্যময় গুপ্তধনের অনুসন্ধানকে কেন্দ্র করে নির্মিত সিনেমাটিতে রয়েছে ইতিহাস, বন্ধুত্ব, সাহসিকতা ও রোমাঞ্চকর অভিযানের গল্প। গল্পে একদল কিশোর-কিশোরী ইতিহাসের সূত্র ধরে নেমে পড়ে এক বিপজ্জনক অভিযানে, যেখানে প্রতিটি ধাপে অপেক্ষা করে নতুন রহস্য।
সিনেমাটি নিয়ে ইরফান রহমান বলেন,
“এই সিনেমায় কাজ করার অভিজ্ঞতা আমার জন্য খুবই বিশেষ। সিনেমাটা করার পর আমার নিজের কাছেই মনে হয়েছে, এটি এমন একটি কাজ যা বিশেষ করে শিশুদের জন্য অনেক কিছু শেখার সুযোগ তৈরি করবে। একই সঙ্গে বড়রাও এটি উপভোগ করতে পারবে।”
বাংলাদেশে শিশুতোষ চলচ্চিত্র কম নির্মিত হওয়ায় এই ধরনের একটি প্রজেক্টে কাজ করতে পেরে আনন্দ প্রকাশ করেন তিনি। অভিনয়জীবনের মাত্র ছয় মাসের মাথায় একটি চলচ্চিত্রে কাজ করার সুযোগ পাওয়া তাঁর কাছে ছিল অবিশ্বাস্য অভিজ্ঞতা।
তিনি বলেন,
“তখনো আমি খুব বেশি কাজ করিনি—মাত্র একটি নাটক এবং দুটি সরকারি বিজ্ঞাপনে কাজ করার অভিজ্ঞতা ছিল আমার। এই অল্প সময়ের মধ্যেই একটি সিনেমায় কাজ করার সুযোগ পাওয়া সত্যিই অনেক বড় বিষয় ছিল।”
নিজের চরিত্র প্রসঙ্গে ইরফান রহমান জানান, সিনেমার চরিত্রটি তাঁর ব্যক্তিগত স্বভাবের সঙ্গে একদম আলাদা। চরিত্রটির জন্য তাকে নিজেকে ভাঙতে ও নতুনভাবে তৈরি করতে হয়েছে।
শুটিংয়ের অভিজ্ঞতা নিয়েও কথা বলেন তিনি। বিশেষ করে জঙ্গলে শুটিং করতে গিয়ে নানা প্রতিকূলতার সম্মুখীন হতে হয়েছে পুরো টিমকে।
“গাছপালার কাঁটা, পোকামাকড়, নানা ধরনের অস্বস্তির মধ্য দিয়েই আমাদের কাজ করতে হয়েছে। কিন্তু আমরা সবাই চেষ্টা করেছি যেন দর্শকদের জন্য একটি ভালো মানের কাজ উপহার দিতে পারি।”
“গুপ্তধনের খোঁজে” চলচ্চিত্রের বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করেছেন ওমর তন্ময় ফিয়ান, সৌহার্দ্য চৌধুরী, যায়ান মুহাম্মদ রুয়াইফি, তাহানি শামস নাওমি, ইরফান রহমান, সাইফ খান, নুসরাত আফরিন ইয়ুমনা, মনিরুল ইসলাম, নিশক তারেক আজিজ, রুহনাজ নাওয়ার কাশফিসহ আরও অনেকে।
চলচ্চিত্রটি পরিচালনা করছেন অনিক। নির্মাতাদের ভাষ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশের শিশু-কিশোর দর্শকদের জন্য মানসম্মত অ্যাডভেঞ্চারধর্মী চলচ্চিত্র খুব কম নির্মিত হয়। সেই জায়গা থেকেই “গুপ্তধনের খোঁজে” নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যেখানে বিনোদনের পাশাপাশি শিশুদের কল্পনাশক্তি, ইতিহাস সম্পর্কে আগ্রহ, সাহসিকতা ও বন্ধুত্বের মূল্যবোধ তুলে ধরা হবে।
সিনেমাটির গল্প লিখেছেন প্রযোজক নিজেই। চিত্রনাট্য করেছেন নিজাম ইউ খান, রাইসুল ইসলাম অনিক এবং রাসিদুর রহমান। খুব শিগগিরই সিনেমাটির মুক্তির তারিখ আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হবে বলে জানিয়েছে নির্মাতা প্রতিষ্ঠান।
সবশেষে নিজের লক্ষ্য সম্পর্কে ইরফান রহমান বলেন,
“আমি ভবিষ্যতেও এমন কাজের সঙ্গেই থাকতে চাই, যেটা শুধু বিনোদন না দিয়ে মানুষের জন্য কিছু শিক্ষা রেখে যায়। আমি চাই দর্শক আমার কাজ দেখে কিছু ভাবুক, শিখুক এবং ভালো কিছু গ্রহণ করুক।”



















