শিশু হত্যার প্রতিবাদে সীতাকুণ্ডে মানববন্ধন, দোষীদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি..

M. JAMSHED ALAM avatar   
M. JAMSHED ALAM
শিশু হত্যার প্রতিবাদে সীতাকুণ্ডে মানববন্ধন, দোষীদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি..
শিশু হত্যার প্রতিবাদে সীতাকুণ্ডে মানববন্ধন, দোষীদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি..
শিশু হত্যার প্রতিবাদে সীতাকুণ্ডে মানববন্ধন, দোষীদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি..

শিশু হত্যার প্রতিবাদে সীতাকুণ্ডে মানববন্ধন, দোষীদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি

এম জামশেদ আলম, সীতাকুণ্ড (চট্টগ্রাম)

 
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলায় ইরা ও রামিসা নামের দুই শিশুহত্যার ঘটনার সুষ্ঠু বিচার ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে আবেগঘন মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার (২২ মে) জুমার নামাজের পর আয়োজিত এ মানববন্ধনে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ, সামাজিক সংগঠনের নেতাকর্মী, শিক্ষার্থী ও সচেতন নাগরিক অংশ নেন।
মানবিক ওয়েলফেয়ার সোসাইটি অব বাংলাদেশ, সীতাকুণ্ড থানা কমিটি এবং “রক্তের বন্ধনে আবদ্ধ আমরা পরিবার”-এর উদ্যোগে আয়োজিত কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারীরা শিশু হত্যা, নারী ও শিশু নির্যাতনের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করেন এবং দ্রুত বিচার নিশ্চিতের দাবি জানান।
মানববন্ধনে অংশ নেওয়া মানুষের হাতে ছিল বিভিন্ন প্রতিবাদী প্ল্যাকার্ড। এর মধ্যে ছিল—“ইরা-রামিসা হত্যার বিচার চাই”, “আর কোনো মায়ের বুক খালি হোক না”, “শিশু হত্যার বিচার নিশ্চিত কর” এবং “বিচারহীনতার সংস্কৃতি বন্ধ হোক” ইত্যাদি স্লোগানসংবলিত ব্যানার ও ফেস্টুন।
বক্তারা বলেন, সমাজে নারী ও শিশু নির্যাতন, ধর্ষণ ও হত্যার মতো নৃশংস ঘটনা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়ে চলেছে। অনেক ঘটনায় দীর্ঘসূত্রতার কারণে বিচার বিলম্বিত হওয়ায় অপরাধীরা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠছে। এ পরিস্থিতিতে দ্রুত তদন্ত সম্পন্ন করে প্রকৃত অপরাধীদের আইনের আওতায় এনে সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানান তারা।
মানববন্ধনে বক্তারা আরও বলেন, “আজ ইরা ও রামিসা, কাল হয়তো অন্য কারো সন্তান। আমরা যদি আজ নীরব থাকি, তাহলে আগামী দিনে আরও কোনো পরিবারকে সন্তানের লাশ কাঁধে নিতে হতে পারে। একটি শিশুর কান্না বা একটি মায়ের আহাজারি শুধু একটি পরিবারের বিষয় নয়, এটি পুরো সমাজের ব্যর্থতা।”
একজন অভিভাবক আবেগঘন কণ্ঠে বলেন, “যারা সন্তান হারিয়েছে, তারা জানে বুকের ভেতর কেমন আগুন জ্বলে। আমরা চাই না আর কোনো মা তার সন্তানের রক্তমাখা স্মৃতি নিয়ে বেঁচে থাকুক।”
অংশগ্রহণকারীরা বলেন, ইরা ও রামিসা শুধুই দুটি নাম নয়; তারা ছিল দুটি পরিবারের স্বপ্ন, ভালোবাসা ও ভবিষ্যতের প্রতীক। তাই এই হত্যাকাণ্ডের বিচার শুধু দুই পরিবারের জন্য নয়, পুরো সমাজের নিরাপত্তার জন্য জরুরি।
মানববন্ধন শেষে নিহত দুই শিশুর আত্মার মাগফিরাত কামনা করে দোয়া ও নীরবতা পালন করা হয়। শোকাবহ পরিবেশে কর্মসূচির সমাপ্তি ঘটে।
No comments found


News Card Generator