২০২৫ সালের ২১ জুলাই—বাংলাদেএশের বিমান ইতিহাস ও জনপদের বুকে এক গভীর কালো দাগ রেখে যাওয়া দিন। রাজধানী ঢাকার উত্তরার মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজের একটি ভবনে হঠাৎ করেই আছড়ে পড়ে বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর একটি প্রশিক্ষণ যুদ্ধবিমান। মুহূর্তের মধ্যে আনন্দমুখর শিক্ষাঙ্গন পরিণত হয় মৃত্যুপুরীতে। মুহূর্তের ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড ও ধংসস্তূপে প্রাণ হারান ৩৬ জন মানুষ। এই প্রাণঘাতী দুর্ঘটনায় সবচেয়ে মর্মান্তিক দিক ছিল নিহতদের বড় একটি অংশই ছিল কোমলমতি শিশু ও শিক্ষার্থী, যারা সেদিন হাসিমুখে ক্লাসে যোগ দিয়েছিল।
মার্কেটপ্লেস পণ্যসমূহ (Marketplace)
শোক ও স্মৃতির আবহে প্রথম বার্ষিকী: গত মঙ্গলবার ছিল দেশের ইতিহাসে এই সব চেয়ে বড় ও মর্মান্তিক বিমান দুর্ঘটনার এক বছর পূর্তি। দিনটি উপলক্ষে মাইলস্টোন স্কুল প্রাঙ্গণ জুড়ে নেমে এসেছিল গভীর শোকের ছায়া। প্রিয়জন হারানোর বেদনায় ভারী হয়ে উঠেছিল সেখানকার বাতাস। নিহত শিশুদের স্মরণ এবং তাদের আত্মাকে শ্রদ্ধা জানাতে স্কুল প্রাঙ্গণে দিনব্যাপী নানা আয়োজন করা হয়। শোক র্যালি, কোরআনখানি, মোমবাতি প্রজ্বালন এবং নিহতুদের স্মরণে নির্মিত অস্থায়ী বেদীতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান শিক্ষক, শিক্ষার্থী, এলাকাবাসী এবং শোকার্ত অভিভাবকরা। স্বজনদের বুকফাটা কান্নায় উপস্থিত সবার চোখই ভিজে ওঠে। চিরতরে হারিয়ে যাওয়ার বেদনা এবং অম্লান স্মৃতি: একটি যুদ্ধবিমানের আকস্মিক পতন কেড়ে নিয়েছে কতগুলো নিষ্পাপ প্রাণ, ভবিষ্যৎ সম্ভাবনাময় মুখ। গত এক বছর ধরে উত্তরাবাসীর মনে এবং স্বজনদের হৃদয়ে রক্তক্ষরণ ঘটিয়ে চলেছে সেই বিভীষিকাময় স্মৃতি। ক্লাসরুমের একটি বেঞ্চ খালি হয়ে যাওয়া, বাচ্চার স্কুল
ব্যাগটি হঠাৎ চিরদিনের জন্য তুলে রাখা—এসব নির্মম সত্য মেনে নেওয়া আজও অসম্ভব হয়ে আছে পরিবারগুলোর জন্য। মাইলস্টোনের এই দুর্ঘটনা আমাদের মনে করিয়ে দেয় জীবনের ভঙ্গুরতা এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থার চরম গুরুত্ব। বার্ষিকীর এই দিনে একটাই প্রার্থনা—এমন শোকাবহ দিন যেন আর কখনো দেশের কোনো শিক্ষাঙ্গনে ফিরে না আসে। নিহতদের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা আজ পুরো জাতির অভিন্ন সুর।
সংবাদটির ওপর ভিত্তি করে তাৎক্ষণিক একটি ব্যঙ্গাত্মক রাজনৈতিক কার্টুন তৈরি করুন।