বিএনপির চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য এভারকেয়ার হাসপাতালে যাচ্ছেন। চিকিৎসকের পরামর্শে নিয়মিত মেডিক্যাল টেস্ট করানোর জন্য আজ সন্ধ্যায় তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়।
মার্কেটপ্লেস পণ্যসমূহ (Marketplace)
বিএনপির চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া স্বাস্থ্য পরীক্ষার উদ্দেশ্যে হাসপাতালে গেছেন। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৭টা ৪০ মিনিটে গুলশানের চেয়ারপারসনের কার্যালয় থেকে তিনি বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় অবস্থিত এভারকেয়ার হাসপাতালের পথে রওনা দেন।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, খালেদা জিয়াকে মূলত চিকিৎসকের নিয়মিত পরামর্শ অনুযায়ী কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ মেডিক্যাল টেস্ট করানোর জন্য হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরেই তিনি নানা শারীরিক সমস্যায় ভুগছেন। লিভার, কিডনি, ডায়াবেটিসসহ বিভিন্ন জটিল অসুস্থতার কারণে নিয়মিত চেকআপ করানো এখন তার চিকিৎসার একটি অপরিহার্য অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
খালেদা জিয়া যখন বাসভবন থেকে হাসপাতালের উদ্দেশ্যে বের হন, তখন তার পাশে ছিলেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। এ সময় দলের শীর্ষ পর্যায়ের আরও বেশ কয়েকজন নেতা ও স্থানীয় নেতাকর্মীরাও উপস্থিত থেকে তাকে শুভেচ্ছা ও সমর্থন জানাতে আসেন। গুলশান এলাকা থেকে বসুন্ধরা পর্যন্ত তার যাত্রাপথে দলের কর্মী-সমর্থকরা নিরাপদ যাত্রার জন্য দোয়া প্রার্থনা করেন।
বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান গণমাধ্যমকে জানান, খালেদা জিয়ার এই হাসপাতাল যাত্রা হঠাৎ কোনো জরুরি প্রয়োজনে নয়। চিকিৎসকের নির্ধারিত রুটিন চেকআপের অংশ হিসেবেই তিনি হাসপাতালে যাচ্ছেন। সেখানে পৌঁছানোর পর বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা তাকে বিস্তারিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করবেন এবং নতুন করে প্রয়োজনীয় কোনো চিকিৎসা পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন কি না তা সিদ্ধান্ত নেবেন।
গত কয়েক বছর ধরেই বেগম খালেদা জিয়া নিয়মিতভাবে হাসপাতালে আসা-যাওয়া করছেন। রাজনৈতিক অঙ্গনে তার ভূমিকা ও অবস্থান দেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হলেও বর্তমানে শারীরিক অসুস্থতা তাকে সক্রিয় রাজনীতি থেকে দূরে রেখেছে। তার স্বাস্থ্যের অবনতির কারণে দেশ-বিদেশের বিএনপি নেতাকর্মীরা সব সময় উদ্বিগ্ন থাকেন। এ কারণে তার স্বাস্থ্য পরীক্ষার খবর পাওয়া মাত্রই রাজনৈতিক মহলে নতুন করে আলোচনার জন্ম নেয়।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করেন, খালেদা জিয়ার প্রতিটি হাসপাতাল গমন কেবল তার ব্যক্তিগত চিকিৎসার বিষয় নয়, বরং এটি দেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটেও বিশেষভাবে নজর কাড়ে। কারণ, বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্ব এখনো তার ওপর নির্ভরশীল। তার শারীরিক সুস্থতা না থাকলে দলীয় কার্যক্রম ও কৌশলগত সিদ্ধান্ত প্রভাবিত হয়।
বিএনপির নেতারা জানিয়েছেন, খালেদা জিয়ার শারীরিক সুস্থতা দলের জন্যই নয়, দেশের গণতান্ত্রিক অঙ্গনের জন্যও অত্যন্ত জরুরি। তাই দলের সর্বস্তরের নেতাকর্মীরা তার সুস্থতা কামনায় দোয়া করছেন এবং আশা করছেন দ্রুত সুস্থ হয়ে তিনি বাসায় ফিরবেন।
হাসপাতাল সূত্র জানিয়েছে, প্রয়োজন হলে তাকে হাসপাতালে কিছুদিন ভর্তি রাখা হতে পারে। তবে চিকিৎসক দল এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানায়নি। বিএনপি নেতারা হাসপাতালের ভেতরে এবং বাইরে অবস্থান করছেন যাতে কোনো ধরনের অসুবিধা না হয়।
সাধারণ মানুষের মধ্যেও খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্য নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। রাজনীতির মাঠে দীর্ঘদিনের সক্রিয় ভূমিকা পালন করা এই নেত্রী দেশের ইতিহাসে বিশেষ জায়গা করে নিয়েছেন। ফলে তার চিকিৎসা সংক্রান্ত প্রতিটি আপডেট এখন গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হচ্ছে।
সব মিলিয়ে বলা যায়, বেগম খালেদা জিয়ার এভারকেয়ার হাসপাতালে যাওয়া শুধুই একটি নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা নয়, বরং দেশের রাজনৈতিক পরিবেশ ও গণমাধ্যমের দৃষ্টি আকর্ষণ করার মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা। তার স্বাস্থ্য পরিস্থিতি কেমন থাকে, তা এখন কেবল দলের নেতাকর্মী নয়, পুরো জাতিরই নজরে।