শেখ আমিনুর হোসেন, সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টার,
মার্কেটপ্লেস পণ্যসমূহ (Marketplace)
সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার মথুরাপুর এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে বিপুল পরিমাণ ভারতীয় মাদক ও চোরাচালানকৃত ঔষধসহ মো. আব্দুল মজিদ শেখ (৩৬) নামের এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব-৬)।
শুক্রবার (৩ জুলাই '২৬) সন্ধ্যায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পরিচালিত এই অভিযানে মাদক পরিবহনে ব্যবহৃত দুটি ব্যাটারি চালিত ছোট কাভার্ড ভ্যান জব্দ করা হয়। অভিযানে উদ্ধারকৃত পণ্যের মধ্যে রয়েছে ১৮৮৩ বোতল কোডিনযুক্ত মাদক সিরাপ উইনকোরেক্স, ১৫০০ পাতা ভারতীয় এল-হিস্ট মন্ট ঔষধ, ৬০ পাতা আলফা-কিটোজক্স ঔষধ এবং ৩২০ ব্যাগ ভারতীয় বাপ্পা বিড়ি। উদ্ধারকৃত এসব অবৈধ পণ্যের বর্তমান বাজারমূল্য প্রায় ১৮ লক্ষ ৮৩ হাজার টাকা বলে নিশ্চিত করেছে আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
শনিবার (৪ জুলাই '২৬) দুপুরে এক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে সাতক্ষীরা র্যাব-৬-এর পক্ষ থেকে এই অভিযানের বিস্তারিত তথ্য গণমাধ্যমের সামনে তুলে ধরা হয়। মূলত সীমান্তবর্তী এলাকা দিয়ে দীর্ঘ দিন ধরে একটি চক্র সুকৌশলে এসব মাদক ও ঔষধ বাংলাদেশে প্রবেশ করাচ্ছিল, যার একটি বড় চালান র্যাবের এই সফল অভিযানের মাধ্যমে আটক করা সম্ভব হয়েছে।
স্থানীয় পর্যায়ে মাদক কারবারিদের দৌরাত্ম্য এবং সীমান্ত দিয়ে চোরাচালানের ঘটনা জনমনে উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তদন্ত সংশ্লিষ্টদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, আব্দুল মজিদ শেখ দীর্ঘদিন ধরে এই অবৈধ ব্যবসার সাথে জড়িত এবং সে সীমান্তবর্তী এলাকাকে ট্রানজিট পয়েন্ট হিসেবে ব্যবহার করে আসছিল। জব্দকৃত বিপুল পরিমাণ কোরেক্স সিরাপ ও ভারতীয় ঔষধের চালানটি দেশের বিভিন্ন প্রান্তে বিক্রির উদ্দেশ্যে নেওয়া হচ্ছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে। এই ধরনের অসাধু কর্মকাণ্ডের ফলে স্থানীয় যুবসমাজ মাদকের ভয়াল গ্রাসে আক্রান্ত হওয়ার পাশাপাশি দেশের স্বাস্থ্যখাতও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। বিশেষ করে প্রেসক্রিপশন ছাড়া ভারতীয় ঔষধের অবাধ ব্যবহার এবং কোডিনযুক্ত সিরাপের সহজলভ্যতা জনস্বাস্থ্যের জন্য চরম হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।
ভুক্তভোগী এলাকাবাসীর অভিযোগ, সীমান্ত সংলগ্ন গ্রামগুলোতে চোরাকারবারিদের একটি নেটওয়ার্ক সক্রিয় রয়েছে, যারা প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে নিয়মিত এসব অবৈধ পণ্য দেশের অভ্যন্তরে নিয়ে আসে এবং তা বিভিন্ন হাত ঘুরে সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দেয়।
অভিযানের পর র্যাব-৬-এর কোম্পানি কমান্ডার ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার যায়েনউদ্দীন মোহাম্মদ জিহাদ জানান, মাদকের একটি বড় চালান পাচার হচ্ছে এমন নিশ্চিত তথ্যের ভিত্তিতেই এই অভিযান চালানো হয়। তিনি আরও জানান, এই ঘটনায় উদ্ধারকৃত আলামতসহ গ্রেপ্তারকৃত আসামির বিরুদ্ধে ২০১৮ সালের মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং তাকে শ্যামনগর থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাকে আদালতে সোপর্দ করার প্রস্তুতি চলছে। এই চক্রের সাথে আরও কারা জড়িত এবং এর নেপথ্যে কোনো সিন্ডিকেট রয়েছে কি না, তা উদঘাটনে র্যাব তাদের তদন্ত কার্যক্রম অব্যাহত রাখবে। সীমান্তবর্তী এলাকায় চোরাচালান প্রতিরোধে নজরদারি বাড়ানো এবং নিয়মিত টহল জোরদার করার প্রয়োজনীয়তার কথাও জানিয়েছেন স্থানীয় নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা। অপরাধী চক্রের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি পদক্ষেপ গ্রহণের পাশাপাশি সাধারণ মানুষকেও এই ধরনের চোরাচালান সম্পর্কে সচেতন থাকার আহ্বান জানিয়েছে র্যাব কর্তৃপক্ষ।
সাতক্ষীরার ন্যায় সীমান্তবর্তী অঞ্চলে এই ধরণের বিপুল পরিমাণ মাদক ও ঔষধ আটকের ঘটনা প্রমাণ করে যে চোরাচালানিরা তাদের কৌশল পরিবর্তন করছে। ছোট কাভার্ড ভ্যান বা সাধারণ যানবাহনের আড়ালে মাদক পাচারের এই নতুন প্রবণতা নিরাপত্তা বাহিনীর জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। মাদকের এই বিশাল চালানটি সফলভাবে জব্দ করার মাধ্যমে স্থানীয় মাদক ব্যবসায়ীদের বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন করা সম্ভব হয়েছে। তবে এই ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের স্থায়ী মূলোৎপাটন করতে হলে কেবল গ্রেপ্তারই যথেষ্ট নয়, বরং সীমান্ত সুরক্ষা ব্যবস্থা আরও আধুনিকায়ন করা এবং স্থানীয় পর্যায়ে গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো অত্যাবশ্যক। মাদকের আগ্রাসন রোধে প্রশাসনের এই ধারাবাহিক তৎপরতা সাধারণ মানুষের মধ্যে কিছুটা স্বস্তি ফিরিয়ে আনলেও, সীমান্তবর্তী এলাকায় চোরাচালান নির্মূলে দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার কোনো বিকল্প নেই।
সংবাদটির ওপর ভিত্তি করে তাৎক্ষণিক একটি ব্যঙ্গাত্মক রাজনৈতিক কার্টুন তৈরি করুন।